1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক বন শূন্যের কাছাকাছি’ 

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ফেনী নদী পার হলে রয়েছে পাঁচ জেলা৷ তিন পার্বত্য জেলাসহ রয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার৷ এবার পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে পাঁচ জেলাতেই৷

এর মধ্যে গত জুনে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ধসে দেড়শ’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৷ এ বছর এই পাঁচ জেলা বাইরে মৌলভীবাজারে পাহাড় ধস হয়৷ সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে৷

পাহাড়ের জীবনযাপন ও প্রকৃতির দিকে দৃষ্টি রাখা অধ্যাপক দানেশ মিয়া এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷ 

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের শিক্ষক৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত৷

পাহড়ধস ঠেকাতে শূন্যের কাছাকাছি চলে যাওয়া প্রাকৃতিক বনকে ফিরিয়ে আনার উপর গুরুত্ব দেন তিনি৷ তিনি মনে করেন, টানা ১০ বছর কোনোভাবে বিরক্ত না করলে এই বন ফিরে আসতে পারে৷

Bangladesch Erdrutsche nach Monsunregen mindestens 25 Tote

প্রচন্ড বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে মানবিক বিপর্যয়

বাংলাদেশের পাহাড় ধসের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমেই তিনি এখানকার বর্তমান জন-মানচিত্র ও জীবন-যাপনের দিকে দৃষ্টি দেন৷

তিনি বলেন, আশির দশক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সমতলের মানুষদের নেয়া হয়েছে৷ তাদের জনসংখ্যা বেড়ে অনেক হয়ে গেছে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংখ্যা ট্রাইবাল কমিউনিটিজকে ছাড়িয়ে গেছে৷

‘‘থাকা ও খাওয়ার জন্য সেখানে তাদেরকে কৃষি কাজ করতে হয়৷ ঘরবাড়ি বানাতে হয়৷ তারা  সেটা পাহাড় কেটে করেন৷ পাহাড়িরা এখানে হাজার হাজার বছর ধরে থাকে৷ তাঁরা জানেন, কীভাবে পাহাড়কে ক্ষতি না করে কৃষি কাজ করতে হয়৷ কীভাবে পাহাড়কে ক্ষতি না করে ঘর বানাতে হয়৷’’

‘‘আমাদের সমতলের মানুষদের কিন্তু সেই জ্ঞান নাই৷ তাঁরা সেখানে সমতলের মতো করে ঘর বানাচ্ছে৷ পাহাড়কে কেটেকুটে সাবাড় করছে৷’’

অডিও শুনুন 14:55

‘শূন্যের কাছাকাছি প্রাকৃতিক বন, ফেরাতে লাগবে ১০ বছর’

পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে যদিও দুয়েকবার পাহাড় ধস হয়েছে৷ কিন্তু এত বিপর্যয় আগে কখনো হয়নি৷ এবার কেন বিপর্যয় হলো? – এমন প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন তিনি৷

তিনি বলেন, এখানে পাহাড়কে আঘাত করতে করতে এমন একটা পর্যায়ে চলে আসছে, যাতে বড় ধরনের বিপর্যয় হচ্ছে৷ 

রাঙ্গামাটির ধসের ঘটনা পৃথিবীর বড় বড় ধসের কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারি হয়ে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত পাহাড় কেটে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, সেখানে ওয়াল দেয়া দরকার ছিল৷ তা দেয়া হয়নি৷ সে কারণে বৃষ্টিতে মাটি খসে পড়েছে৷ এখনো রাঙ্গামাটি পর্যন্ত বড় বাস-ট্রাক চলছে না৷ 

বন ও পরিবেশ বিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, আমরা সব সময় বলতাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে ‘বায়ো ডাইভার্সিটি হটস্পট এরিয়া’৷ এখানে দীর্ঘ দিনের পুরনো প্রাকৃতিক বন ছিল৷ বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক বন একবারে শূন্যের কাছাকাছি৷ 

Bangladesch Zahl der Toten nach Erdrutschen auf 145 gestiegen

পাহাড় ধসে স্বজন হারানোর কান্না

‘‘এখানে ৯০’র দশকের পর অনেক প্ল্যান্টেশন হয়েছে৷ বনের কাভারেজ বেড়েছে৷ কিন্তু কোয়ালিটিটিভ বনায়ন হয়নি৷ খেয়াল করবেন, সেখানে বনায়নে মূলত বিদেশী বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে৷’’

‘‘যেমন, সেগুন৷ প্রাকৃতিক বন কেটে এটা লাগানো হয়েছে৷ প্রাকৃতিক বনে মাটি ধারণের ক্ষমতা ছিল, সেটা এখন আর নেই৷ এই গাছের নীচে ঝোপও হতে চায় না৷ সেগুনের পাতা খুব অ্যাসিডিক থাকে৷’’

এ বছরের ধসের জন্য অতিবৃষ্টিকে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে৷ সে জন্য এখন প্রস্তুতি নেয়া দরকার৷

তিনি জানান, এ সব বিষয়কে ডিল করতে পরিবেশ বিভাগ, আবহাওয়া বিভাগ, পার্বত্য প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনা নাই৷ থাকলে জীবনক্ষয় কমানো যেত৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

প্রাকৃতিক বন উজাড় এবং পাহাড় কাটার কারণেই চট্টগ্রাম শহরেও ধস হয় বলে মূল্যায়ন তাঁর৷

তিনি বলেন, আমাদের পাহাড়গুলো বেলে দোঁয়াশ মাটির৷ এগুলো পাথরের পাহাড় হলে এ ধরনের ধস হতো না৷

প্রাকৃতিক বন পানিকে ধরে রেখে আস্তে আস্তে সরাতে সাহায্য করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বন থাকলে পানি নিয়ন্ত্রিত হয়৷ আমরা যেটাকে ‘ওয়াটার কনজার্ভেশন’ বলি৷ যখন আপনি প্রাকৃতিক বন সরিয়ে সেখানে গাছ লাগিয়ে দেবেন৷ তখন সেখানে এই ‘ওয়াটার কনজার্ভেশন’ কাজ করে না৷ 

‘‘তাতে সব পানি একসাথে মুভ করে৷ যা বেলে দোআঁশ মাটিকে গলিয়ে নীচের দিকে নিয়ে যায়৷ যে সব পাহাড় হেলে থাকে বা খাড়া, সেগুলো যদি বেলে দোআঁশ মাটির হয় এবং সেখানে প্রাকৃতিক বন না থাকে, তাহলে সেগুলো বেশি ঝুঁকি থাকে৷’’

এই সমস্যা সমাধানের পথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে হবে৷ 

‘‘পাহাড়ে রাস্তাঘাট বা অন্য উন্নয়নমূলক কাজে পাহাড়কে ডিস্টার্ব না করার চেষ্টা করতে হবে৷ এরপরও যদি কাটতেই হয়, তাহলে ‘রিটেইনিং ওয়াল’ দিতে হবে৷’’

সেখানে প্রাকৃতিক বনকে উঠে আসার একটা সুযোগ দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যথায় কৃত্রিম বন দিয়ে পাহাড়কে ধরে রাখতে পারবেন না৷ 

‘‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনকে ১০ বছর আনটাচড রেখেছি, এখানে গভীর প্রাকৃতিক বন হয়ে গেছে৷ আপনি ইচ্ছা করলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে প্রাকৃতিক বনকে ফিরিয়ে আনতে পারেন৷’’

এই শিক্ষক-গবেষক জানান, বাংলাদেশের ভূমিধস নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা নাই৷ এটা নিয়ে এ পর্যন্ত কেবল দু’টো কাজ হয়েছে৷ একটা একান্তই প্রকৌশল বিষয় নিয়ে৷ আরেকটা হচ্ছে, রেইনফল নিয়ে কক্সবাজারের একটা এলাকায় হয়েছে৷ 

এ কারণে কোন জায়গাগুলোতে ঝুঁকি আছে – সেটা সুনির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি এর জন্য অর্থায়ন না থাকাকে দায়ী করেন৷

নিজের একজন শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে একটি গবেষণা করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা নিশ্চিত নয়৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও