1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পারলো না টাইগাররা

২৫ ওভারে ২ উইকেটে ১৪২৷ স্কোরবোর্ড আর গ্যালারি দেখে মনে হচ্ছিল উড়ছে বাংলাদেশ৷ যে কোনো বোলিং লাইনআপের জন্য জ্বর উঠে যাওয়ার মতো ব্যাপার৷ কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি৷ বাংলাদেশ দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দৌঁড় থামলো সেমিফাইনালেই৷

প্রথম দিকে কিছুটা ধুঁকে স্বমহিমায় ফিরে আসা তামিম আর স্পিনারদের জন্য কঠিন ব্যাটসম্যান মুশফিক তখনো উইকেটে৷ দু'জনই পার করেছেন ফিফটি৷ ৩০০ যে পার হবে তাতে সন্দেহ করার সাহসই যেন পাচ্ছিলেন না কেউ৷  কিন্তু কি হয়ে গেল৷ এক কেদার যাদব টার্নবিহীন অফস্পিন নিয়ে একে একে ধ্বসিয়ে দিলেন দু'জনকেই৷ বাকিরাও এরপর তেমন ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখাতে পারলেন না৷ ফলে বাকি ২৫ ওভারে ৩০০ তো দূরের কথা রান দ্বিগুনই করা গেল না৷ ৭ উইকেটে ২৬৪ রানে থামল বাংলাদেশের ইনিংস৷ 

ICC Champions Trophy Cricket - Bangladesch vs. Indien (Reuters/A. Boyers)

মুশফিক রহিম আউট হওয়ার পর বিরাট কোহলির প্রতিক্রিয়ার এই ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেছে

প্রথমবারের মতো আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে এসে বাংলাদেশের গত সাত বড় টুর্নামেন্টের ছয়টিতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা ভারতের বিপক্ষে টস জেতাটা খুব দরকার ছিল৷ কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা৷ হাল্কা বৃষ্টির ঝাপটায় খেলা একটু দেরিতে শুরু হয়৷ এজবাস্টনের ব্যাটিং স্বর্গে টসে জিতে বোলিং নিয়ে হাল্কা মুভমেন্টও পাচ্ছিলেন ভারতের ভুবেনশ্বর কুমার ও বুমরাহ৷ সৌম্যর উইকেট নিয়ে শুরুটাও ভালো করে তারা৷ এরপর নেমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেন সাব্বির৷ ভারতের বোলিং পরিকল্পনায় ছন্দপতনও ঘটান ৪টি চারে ২১ রান তুলে৷ কিন্তু সেই ভুবেনেশ্বরের পরিণত বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন৷ 

তামিমকে শুরুতে ছন্দহীন মনে হলেও পান্ডিয়ার বলে ১২ রানে লাইফ পেয়েই যেন ঘুরে দাঁড়ান৷ ১২৩ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচে টাইগারদের চালকের আসনে নিয়ে আসেন তামিম-মুশফিক৷ তামিম ৭০ আর মুশফিক ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন৷ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অত্যন্ত পরিণত ব্যাটিং করা সাকিব ও মাহমুদুল্লাহও বেশি সুবিধা করতে পারেননি৷ ৪০তম ওভারে ২০০ রান পার করা বাংলাদেশের সামনে তখনো সুড়ঙ্গের ওপারে আশার আলো৷ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক৷ কিন্তু ভারতীয় বোলার বুমরাহ ফিরে কিপটে বোলিং তো করলেনই, এই দু'জনকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখালেন৷ শেষদিকে মাশরাফির ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংসটি আফসোস কমাতে পারেনি টাইগার সমর্থকদের৷ 

২৬৫ টার্গেটটিকে খুব একটা ভয়ংকর মনে হচ্ছিল না যখন ব্যাটিংয়ে এলেন ভারতের দুই ইনফর্ম ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান৷ চার পেসার নিয়ে মাঠে নামলেও মাশরাফি ছাড়া আর কাউকেই সমীহ দেখাচ্ছিল না তাদের ব্যাট৷ ৯৮ বলে ১০০ রান তুলতে ভারতকে খোয়াতে হলো শুধু ধাওয়ানের উইকেটটিই৷ মাশরাফি তাঁকে ফেরালেন অর্ধশত থেকে চার রান দূরে রেখে৷ এরপর অধিনায়ক বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি মুস্তাফিজ, রুবেল, তাসকিনরা৷ একরকম দাপুটে ব্যাটিং করেই রোহিত তুলে নিলেন তাঁর ক্যারিয়ারের ১১তম ওডিআই শতক৷ আর কোহলি তাঁর ১৭৫-তম ম্যাচে ৮,০০০ রানের ক্লাবে পৌঁছালেন, যা কিনা সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক অর্জনের নতুন রেকর্ড৷ সবমিলিয়ে ৯ ওভার ৫ বল হাতে রেখেই ২২ গজের উইকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারত৷ রোহিত ১২৩ ও কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত রইলেন৷ হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেও বোলিংয়ে তার কিছুই দেখাতে পারেনি টাইগাররা৷ এমন দাপট দেখিয়ে চরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের৷ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এই প্রথম মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী৷ রোববার ওভালে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়