1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

পাম তেলের চাহিদা বাড়ছে : ইন্দোনেশিয়ায় হচ্ছে বন উজাড়

ইউরোপ সহ সারা বিশ্বে পাম তেলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে৷ আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পাম তেলের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে৷ আর এর পরিণতিতে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা৷

পামতেল, লিপস্টিক, আইসক্রিম, জার্মানি, পরিবেশ, সংস্থা, ডয়চে ভেলে

লিপস্টিক থেকে আইসক্রিম, সবেতেই লাগে সেই পাম তেল

লিপস্টিক বলুন বা সাবান৷ শেভিং ফোম বা আইসক্রিম৷ সব কিছুতেই ব্যবহৃত হচ্ছে পাম তেল৷ পরিবেশবাদী একটি সংস্থার মতে, আজকাল সুপার মার্কেটগুলোতে যত প্যাকেটজাত সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে তার অর্ধেকেই পাম তেল ব্যবহৃত হয়েছে৷

কিন্তু কেন পাম তেলের এত ব্যবহার? ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন অব জার্মান ফুড ইন্ডাষ্ট্রির পেটার ফেলার বলছেন, ‘‘অন্যান্য তেলের চেয়ে পাম তেলের বৈশিষ্ট্য আলাদা৷ এছাড়া এক হেক্টর জমিতে ক্যানোলা উৎপাদন করলে তা থেকে যতটুকু তেল পাওয়া যায়, পাম তেলে পাওয়া যায় তার চেয়ে ছয়গুণ বেশি৷ রান্নার তেল হিসেবেও এটি বেশ জনপ্রিয়৷ জনপ্রিয় জৈব জ্বালানি হিসেবেও৷''

পাম তেলের গল্পের শুরুটা ১৮৪৮ সালে, পশ্চিম আফ্রিকায়৷ এরপর সে তার গন্ডি পেরিয়ে দূর প্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে৷ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাম তেল উৎপন্ন হয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়৷ বিশ্বে যত পাম তেল তৈরি হয় তার শতকরা ৯০ ভাগই হয় ঐ দুটি দেশে৷

কিন্তু এটা করতে গিয়ে ক্রমেই বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে৷ যেটা পরিবশেবাদীদের মাথা ব্যথার কারণ৷ তারা বলছে, আরও বেশি জমিতে পাম তেল চাষের জন্য ইন্দোনেশিয়ার রেইনফরেস্ট ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে৷ যেমন ১৯৬৭ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অয়েল পামের চাষ হয়েছিলো ২,০০০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলে, আর এখন তা ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে৷

এভাবে বন ধ্বংস হতে থাকায় অবমুক্ত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাইঅক্সাইড৷ ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর ইন্দোনেশিয়া সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমনকারী দেশে পরিণত হয়েছে৷ সেইসঙ্গে দেশটিতে সামাজিক সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছে এই পাম তেল৷ কেননা বন কাটার কারণে আদিবাসীরা তাদের ঘরবাড়ি হারাচ্ছে৷ এছাড়া ওরাং-ওটাং সহ সুমাত্রা ও বোর্নিওর হাতি, বাঘ ও গন্ডারেরাও আজ হুমকির মুখোমুখি৷

এসব কারণে পাম তেলের যারা বড় ক্রেতা তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে৷ যেমন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে ইউনিলিভার৷ কারণ বিশ্বে উৎপাদিত মোট পাম তেলের শতকরা চার ভাগই কিনে নেয় তারা৷ এছাড়া ফুড জায়ান্ট নেসলে তার বিখ্যাত আইটেম কিটক্যাট-এর বিজ্ঞাপনে ওরাং-ওটাংকে যুক্ত করে রীতিমতো বিপদে পড়ে গিয়েছিল৷ শেষমেষ প্রত্যাহার করে নেয় বিজ্ঞাপনটি৷

এত সব আলোচনা-সমালোচনা, আন্দোলন ও উদ্বেগের কারণে কিছুটা সচেতনতা অবশ্য সৃষ্টি হয়েছে৷ যেমন টেকসই পাম তেল উৎপাদনের জন্য সৃষ্টি হয়েছে ‘রাউন্ডটেবিল অন সাসটেইনেবল পাম অয়েল' নামক একটি সংগঠন৷ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খাদ্য উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারক এবং বিভিন্ন এনজিও ও বিনিয়োগকারীদের৷ সংগঠনটি সাধারণ ক্রেতাদের বোঝার জন্য ‘টেকসই পাম তেল' চিহ্নিত করার কাজটি করে থাকে৷ এখানে ‘টেকসই পাম তেল' বলতে সেসব তেলকে বোঝানো হয়েছে যেটা বনাঞ্চল ধ্বংস না করে উৎপাদন করা৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন তেল কিনতে গেলে দাম বেশি পড়ে৷ এ কারণে ২০০৯ সালে উৎপাদিত টেকসই পাম তেলের ৩০ শতাংশই অবিক্রিত থেকে গিয়েছিল৷

জার্মানিতে শুধুমাত্র বায়োফুয়েলের ক্ষেত্রে ‘টেকসই' পাম তেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক৷ কিন্তু খাদ্য তৈরিতে ‘টেকসই' পাম তেল ব্যবহারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই৷ অথচ জার্মানিতে যত পাম তেল ব্যবহৃত হয় তার ৯০ ভাগই হয় খাবার তৈরিতে৷ এছাড়া পণ্যের গায়ে থাকা লেবেলেও পণ্যটি যে পাম তেল দিয়ে তৈরি সেটা অনেক ক্ষেত্রে লেখা থাকে না৷ তাই দাবি উঠেছে লেবেলিং ঠিক করার৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী