1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ধ্বংস করার কারণেই এত জলজট’

জলাবদ্ধতা মানেই চরম জনদুর্ভোগ৷ কেন এই দুর্ভোগ? ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিন এ খান মনে করেন, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থাটা ধংস করার কারণেই এই অবস্থা৷

ডয়চে ভেলে : বৃষ্টি হলেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়৷ এই জলাবদ্ধতা দূর করতে কতটা সফল হয়েছেন আপনারা?

ইঞ্জিনিয়ার তাসকিন এ খান : আমরা আসলে শব্দটা ‘জলাবদ্ধতা' বলি না৷ আমরা এটাকে বলি ‘জলজট'৷ যেমন, রাস্তায় যানজট তৈরি হয়, তেমনি বৃষ্টি হলে নগরীতে জলজট তৈরি হয়৷ আসলে জলাবদ্ধতা হলো যে জলটা বের হতে পারে না৷ আবদ্ধ জায়গায় থাকে৷ কিন্তু রাজধানীতে জলটা একটু দেরি হলেও কিন্তু বের হয়ে যায়৷ তাই এটাকে আমরা বলি জলজট৷ এখন আমাদের দেখতে হবে জলজটটা হচ্ছে কেন? এর মূল কারণে যদি যেতে হয়, তাহলে একটু পেছনে যেতে হবে৷ আমাদের যে পানি ব্যবস্থাপনা, সেটার মধ্যেই একটা ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে৷ আমাদের ঢাকার জন্য যে ব্যবস্থাপনা, সেটাকে কর্ডন অ্যাপ্রোচ বলা হয়৷ এক সময় বলা হলো, আমাদের ঢাকার চারপাশে যে খালগুলো আছে, সেগুলোর উপর দিয়ে যদি আমরা বক্স কালভার্ট করি, তাহলে নিচ দিয়ে পানি যাবে এবং উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে৷ এটা আসলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল৷ এটা করে আমরা স্বাভাবিক যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল সেটা ধ্বংস করে ফেলেছি৷ এটা আসলে কিছুটা মনুষ্য সৃষ্ট এবং কিছুটা প্রয়োজনেই হয়েছে৷ ঢাকা একটা আনপ্ল্যানড সিটি৷ এখানে মানুষকে বসবাসের সুযোগ দিতে গিয়ে আমরা যা করেছি, তা প্রকৃতির বিরুদ্ধে গেছে৷

অডিও শুনুন 12:01

‘‘আমরা ন্যাচারাল ড্রেনেজ সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলেছি’’

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে মূল সমস্যাটা কোথায়?

প্রথমত জলজটটা হচ্ছে কেন? সেটা যদি আপনি না অনুধাবন করেন, তাহলে তো সমাধান পাওয়া যাবে না৷ আগে তো আমাদের কারণ জানতে হবে৷ মূল কারণ হচ্ছে, আমাদের ঢাকা শহরে জলাধার নেই৷ বৃষ্টি হলে সেই পানিটাকে তো কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে৷ তা না হলে তো সেটা রাস্তার মধ্যে চলে আসছে৷ রাস্তা ডুবিয়ে দিচ্ছে৷ আমাদের পুকুর, ডোবা বলতে কিছু নেই৷ আমরা যদি ঢাকা শহরকে ৪০০ কিলোমিটার ধরে নিই, তাহলে দেখব এর সাড়ে ৩শ' কিলোমিটারেই হয় বাড়ি, না হয় রাস্তা, না হয় কংক্রিটের কিছু আছে৷ ফলে ওইসব জায়গা দিয়ে পানি যেতে পারে না৷ এই যে বৃষ্টি হয়, তার বড় একটা অংশ কিন্তু মাটিতে চুষে নেয়ার কথা ছিল৷ সেটা হচ্ছে না৷ এখন ঢাকা শহরে আমরা যেভাবে পানি নিষ্কাশণ করি, সেটা আর্টিফিশিয়াল ওয়াটার পাম্পিং৷ মানে আমরা পাম্প করে পানি বের করে দিচ্ছি৷ ঢাকাকে আমরা এখন বালতির মতো বানিয়ে ফেলেছি৷ বৃষ্টি হলে এই বালতিতে পানি জমে৷ আর আমরা সেচে সেটা বের করে দিই৷ এখন ঢাকা শহরে সারাদিন টিপটিপ করে বৃষ্টি হলে পানি জমবে না৷ কিন্তু এক ঘন্টা যদি ৬০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তাহলে পানি জমে যাবে৷ কিছুক্ষণের মধ্যে পাম্প করে আমরা সেটা বের করে দিচ্ছি৷ তাই আমরা এটাকে জলজট বলছি৷

রাজধানীতে জলজট  নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হয়৷ সেখানে বিশেষ নজর দেয়ার সুযোগ আছে কিনা...

সে ব্যবস্থা তো নিশ্চয়ই আছে৷ আমি আগেই তো বলেছি, আমরা ন্যাচারাল ড্রেনেজ সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলেছি৷ এখন আমরা যেটা করছি সেটা আর্টিফিসিয়াল ড্রেনেজ সিস্টেম৷ এখন আপনি ৩২টা দাঁত ফেলে দিয়ে আর্টিফিসিয়াল ৩২টা দাঁত লাগাতে পারবেন৷ কিন্ত খাওয়ার সময় এই দাঁতগুলোতে কিছু না কিছু সমস্যা হবেই৷ আমাদের ১৯৫৩, ১৯৬৪, ১৯৭২, ১৯৭৫ সালে তো এই ধরনের সমস্যা ছিল না৷ এখন হচ্ছে কেন? তখন আমাদের যে জনসংখ্যা ছিল, এখন সেটা অনেক বেড়ে গেছে৷ ঢাকা তো সৃষ্টিকর্তাপ্রদত্ত সুন্দর একটা শহর৷ এই শহরের চারদিকে চারটা নদী বেষ্টন করে আছে৷ তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু৷ ভেতরে ৬৫টা শিরা-উপশিরার মতো খাল আছে৷ প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টিকর্তা এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম করে দিয়েছেন৷ যখনই আমরা এটাতে হস্তক্ষেপ শুরু করলাম, তখনই বাধল বিপত্তি৷ 

বৃষ্টির মৌসুম এলেই রাস্তায় খোঁড়াখুড়ি শুরু হয়৷ এটা কি বন্ধ করা যায় না?

আমি ঢাকা ওয়াসার প্রধান নির্বাহী হিসেবে বলতে পারি, আমরা কখনও বর্ষা মৌসুমে খোঁড়াখুড়ি করি না৷ জরুরি কিছু ছাড়া আর দু-একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলে৷ এর বাইরে কিছু হয় না৷ এখন যা দেখছেন, এটা ঢাকা ওয়াসা করছে না৷ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এই মুহুর্তে কিছু স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ করছে৷ তারা বৃষ্টির পানি যাবার জন্য পথ তৈরি করে দিচ্ছে৷ আমি বলব, এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে৷ পানি বের হওয়ার যে ব্যবস্থাপনা, সেটা বর্তমানে ৭ হাতে আছে৷ এটা ঠিকমতো কাজ করতে গেলে এক হাতে আনতেই হবে৷

দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে আমরা ওয়াসা এবং রাজউককে সিটি কর্পোরেশনের অধীনে দেয়ার প্রস্তাব দিতে দেখেছি, তাতে নাকি পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হবে৷ আপনি কী মনে করেন?

এটা নিয়ে আমি সরাসরি কিছু বলব না৷ কারণ, আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি৷ তবে হ্যাঁ, আমি সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি৷ আংশিকভাবে এই প্রস্তাব তো ইতিমধ্যে আছে৷ ঢাকা ওয়াসার তিনটা কাজ৷ প্রথমত, পানি সরবরাহ করা৷ দ্বিতীয়ত, সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা এবং তৃতীয়ত, পানি নিষ্কাশন৷ এই তৃতীয় কাজটা কিন্তু বিশ্বের কোনো ওয়াসাই করে না৷ যেমন ধরেন, দিল্লিতে আছে জলবোর্ড৷ তারা শুধু পানি সরবরাহ করে৷ পানি নিষ্কাশন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই৷ এমনকি চট্টগ্রাম ওয়াসাও এই কাজটা করে না৷

জলাবদ্ধতা নিয়ে আপনাদের কি নতুন করে কোনো পরিকল্পনা আছে?

২০১০ সালে যখন ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বে এলাম, তখন আমরা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দিলাম৷ এক ওয়াটার মাস্টার প্লান, যেটা আমরা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করছি৷ সেকেন্ড সুয়াজে মাস্টার প্ল্যান,৷ সেটারও বাস্তবায়নে যাচ্ছি৷ আর তৃতীয়ত, বর্ষার পানি নিষ্কাশ৷ এটা নিয়ে আমরা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দিয়েছি৷ সেই পরিকল্পনায় ২০৬০ সাল পর্যন্ত একটা পরিকল্পনা দেয়া আছে৷ কিভাবে বৃষ্টির পানি বের করতে হবে৷ আমি বলব, এই মাস্টারপ্লানটা বাস্তবায়ন করতে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়