1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পানির দূষণ মোকাবিলায় ন্যানো ফিল্টার

এই একবিংশ শতাব্দীতেও পানিতে জীবাণুর কারণে মানুষ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ তানজানিয়ার এক বিজ্ঞানী এই সমস্যার সমাধান করতে এক বিশেষ ফিল্টার তৈরি করেছেন৷ তার সুফল সাধারণ মানুষের নাগালে আনতেও কাজ করছেন তিনি৷

আসকোয়ার হিলোঙ্গা শুধু তাঁর উদ্ভাবন হাতেনাতে দেখানোর সময় পানি নোংরা করেন৷ কেমিকাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি ন্যানো বা অতি ক্ষুদ্র উপকণ দিয়ে এক ওয়াটার ফিল্টার তৈরি করেছেন৷ সেগুলি সাদা ও লাল প্লাস্টিক টিউবের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে৷ সাধারণ বর্জ্য, হেভি মেটাল সহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ ফিল্টার করা যায়৷ কিন্তু এই ন্যানো ফিল্টার তৈরির আইডিয়া কোথা থেকে এলো? হিলোঙ্গা বলেন, ‘‘বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থেকেই শুরু৷ পিঅইচডি থিসিসের জন্য বিষয় হিসেবে ন্যানো উপকরণ বেছে নিয়েছিলাম৷ তারপর বুঝলাম, এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷''

আরুশা শহরে নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে আসকোয়ার হিলোঙ্গা ন্যানো উপকরণ তৈরি করেন৷ আট বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন – প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডি করার সময়ে, তারপর নিজের দেশ তানজানিয়ায়৷ ন্যানো ফিল্টার তৈরি করে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন৷ তরুণ গবেষকদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছেন তিনি৷ হিলোঙ্গা বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে কিছু সৃষ্টি করে সেই উদ্ভাবন দিয়ে বাস্তব জগতের কোনো সমস্যা সমাধানের মূল্য তাঁরা বুঝতে পারছেন৷''

আরুশা শহরে বাস্তব সমস্যা খুবই স্পষ্ট৷ মানুষ নদী ও কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করে৷ প্রায়ই সেই পানিতে জীবাণু পাওয়া যায়৷ তানজানিয়ায় যে সব শিশুর মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশর ক্ষেত্রে এটাই মূল কারণ৷ তাছাড়া সেই অঞ্চলের পানিতে প্রায়ই অনেক ফ্লুয়োরাইড থাকে৷ ফলে দাঁত ও হাড়ের ক্ষতি হয়৷ ন্যানো ফিল্টার পানিতে ক্ষতিকারক পদার্থ ছেঁকে নিতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আসকোয়ার হিলোঙ্গা এক গ্রাহকের কাছে যাচ্ছেন৷ তিনি পানির ফিল্টার বিক্রি করতে এক কোম্পানি পত্তন করেছেন৷ ফিল্টারের মূল্য ১৩০ ডলারের মতো৷ কিন্তু এই মূল্য তানজানিয়ার বেশিরভাগ মানুষের সাধ্যের বাইরে৷ আসকোয়ার হিলোঙ্গা তাই এই ফিল্টার এমন সব জায়গায় ভাড়া দিচ্ছেন, যেখানে অনেক মানুষ তার সুফল পেতে পারে৷ যেমন ওষুধের দোকান৷ মালিক দিনে ১,০০০ শিলিং ভাড়া দেন, যা মাত্র ৫০ সেন্টের সমান৷ এর বদলে আসকোয়ার হিলোঙ্গা ফিল্টারের রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং অনেক ব্যবহারের পর ফিল্টার বদলে দেন৷

বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি পরিষ্কার পানি দিতে বদ্ধপরিকর৷ এভাবে আন্ত্রিক রোগ, টাইফয়েড, কলেরার মতো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব৷ হিলোঙ্গা বলেন, ‘‘এটা একবিংশ শতাব্দী৷ এ সব পুরানো আমালের রোগ৷ এই সমস্যার সমাধান আমাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে৷ সমাধান থাকা সত্ত্বেও কিছু না করলে আমার রাগ হয়৷''

তবে ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে৷ সবার আগে ন্যানো ফিল্টার গ্রহণ করতে হবে৷ ২০১৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে এই ওষুধের দোকান সামান্য মূল্যে পরিষ্কার পানি দিচ্ছে৷ ২০১৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই কয়েক হাজার পাবলিক ওয়াটার স্টেশন গড়ে তোলার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে৷

মাবেল গুন্ডলাখ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক