1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাথরে কী প্রাণ যাবে সখিনার

ইরানের কারাগারে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সখিনা আসতিয়ানি৷ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে তাঁর৷ আর তা কার্যকর করা হবে পাথর ছুড়ে৷ মধ্যযুগীয় এই বর্বরতা থেকে সখিনাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা৷

default

এঁদের মতো এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সোচ্চার হয়, কেবল তাহলেই বাঁচানো সম্ভব সখিনাকে

তাঁরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপই এখন একমাত্র উপায়৷

৪২ বছর বয়সি সখিনার অপরাধ, তিনি বিয়ে বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক গড়েছেন৷ আর এই অপরাধেই তাঁকে পাথর ছুড়ে মারার আদেশ দিয়েছে কট্টর ইসলামী দেশ ইরানের আদালত৷ যদিও আদালতের রায়ে ফাঁক খুঁজে পেয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ ইরানের আইন অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধ প্রমাণের জন্য অন্তত চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু সখিনার ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতাকারী আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধান মিনা আহদি৷ মিনা নিজেও একজন ইরানি৷ তবে ১৯৮০'র দশক থেকে দেশছাড়া তিনি৷

নিম্ন আদালত ২০০৬ সালে সখিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়৷ ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতও সে রায় বহাল রাখে৷ অপরাধ স্বীকারের জন্য সখিনাকে ৯৯টি বেত্রাঘাতও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তাফি৷ তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘‘সখিনা পরে তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলেও তা আমলে নেয়নি আদালত৷ আর আদালতের এই রায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হয়নি৷ হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের মতের জোরে৷'' পাথর ছুড়ে হত্যার এই আইন বর্বরোচিত বলে মনে করেন আইনজীবী মুস্তাফি৷ তিনি জানান, সখিনার দুই সন্তান তাদের মায়ের মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলো৷ তবে তাতে সাড়া মেলেনি৷ আইনজীবী মুস্তাফি ইরানে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়ও সোচ্চার৷ গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি৷

Deutschland Mina Ahadi Zentralrat der EX-Muslime

পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতাকারী আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধান মিনা আহদি

৪২ বছর বয়সি সখিনার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় যে কোনো দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর৷ তাহলে সখিনাকে বুক সমান মাটিতে পুঁতে এরপর মারা হবে পাথর৷ মিনা বলেন, ‘‘তা ঠেকাতে হলে হাতে বেশি সময় নেই৷ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সোচ্চার হয়, তাহলেই কেবল সখিনাকে বাঁচানো সম্ভব৷''

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে সখিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রও বলছে সখিনাকে বাঁচানোর কথা৷ সখিনাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি জে ক্রাউলিও৷ নরওয়ে সোমবারই সে দেশে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে৷জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থানের কথা৷ সেই সঙ্গে আহ্বান রেখেছে সখিনাকে অব্যাহতি দেওয়ার৷

তুর্কিভাষী সখিনা আছেন ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবরিজের কারাগারে৷ আইনজীবী মুস্তাফি জানান, সর্বশেষ পাঁচমাস আসে তাঁর দেখা পেয়েছিলেন তিনি৷ এরপর আর দেখা পাননি৷ মুস্তাফি বলেছেন, সখিনাকে বাঁচাতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন৷ ওদিকে চেষ্টা করছেন মিনা আহিদও৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকেও দাবি উঠছে৷ এখন দেখার বিষয়, ইরান তাতে মাথা নোয়ায় কি না৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ