1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পাতার রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

গাছের পাতায় রোগের ফলে চাষের খেত বা বাগানের মালিকের কম ঝক্কি পোহাতে হয় না৷ প্যাথোজেন ছড়িয়ে পড়লে পাতা এমনকি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে৷ এই সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷

সপ্তাহে একদিন গবেষকদের মাঠে নামতে হয়৷ পরীক্ষামূলক এক প্রকল্পে ভুট্টার মধ্যে প্যাথোজেন খোঁজেন তাঁরা৷ ক্রিস্টফ আরগারমিসেন পাতার রোগের বিশেষজ্ঞ৷ ‘আইস্পট' কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তিনি তা নথিভুক্ত করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কতটা উপদ্রব হয়েছে, তার মাত্রা কতটা – তা আমরা খতিয়ে দেখি৷ প্রতিটি পাতার কত অংশ আক্রান্ত হয়েছে সেটাও দেখি৷ এবার প্যাথোজেন সম্পর্কে বলি৷ হলুদ ফুটকিগুলিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মাঝে একটা ‘নেক্রটিক' জায়গা রয়েছে – অর্থাৎ পাতার এই অংশ মরে গেছে৷''

যত বেশি ফুটকি, গাছের জীবন ততই বিপন্ন হয়ে পড়ে৷ প্যাথোজেন ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া বড় ভূমিকা পালন করে৷ বিজ্ঞানীরা তাই তাপমাত্রা, বাতাসের গতি ও আদ্রতা মাপতে পরিমাপ যন্ত্র বসিয়েছেন৷ ক্ষতিকারক পেস্ট-এর মোকাবিলার পথ খুঁজছেন তাঁরা৷ কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়োসেফ আলেক্সান্ডার ফ্যাররেট বলেন, ‘‘প্যাথোজেন বেড়ে চলেছে, যার অন্যতম কারণ ভুট্টার মতো লাভজনক গাছের চাষ বাড়ছে৷ এ ক্ষেত্রে ‘ফিউসেরিয়াম' নামের এক বিশেষ রোগ দেখা যাচ্ছে৷''

উদ্ভিদ যখন বিষ

এমন মারাত্মক ছত্রাক সহ ভুট্টা খেলে পশু ও মানুষের বিষক্রিয়া বা ক্যানসার হতে পারে৷ গবেষণাগারে কিছু নমুনা তুলনা করে ভুট্টা গাছের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়৷ তাতে প্যাথোজেনের মাত্রা বোঝা যায়৷ তিন বছর পর গবেষকরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন, কোন তাপমাত্রায় পেস্ট সবচেয়ে বেশি বাড়ে৷ আসল লক্ষ্য হলো চাষীদের জন্য একটা মডেল তৈরি করা৷ এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার প্রয়োজন৷ আলেক্সান্ডার ফ্যাররেট বলেন, ‘‘প্রথমে মহামারি রেকর্ড করা হয়৷ এগুলি হলো বায়োলজিক্যাল প্যারামিটার বা বৈশিষ্ট্য৷ একই সঙ্গে আমরা অবশ্যই অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলিরও পরিমাপ করি, যেমন আবহাওয়া – যা মহামারির গতি-প্রকৃতি চালনা করে৷''

গম ও চিনি তৈরির বিট-এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা আগাম পূর্বাভাষের এক মডেল তৈরি করেছেন৷ সারা বিশ্বে তা কাজে লাগানো যেতে পারে, যদিও কিছু অসুবিধা রয়েছে৷ আলেক্সান্ডার ফ্যাররেট বলেন, ‘‘আমরা এমন সব অঞ্চলের কথা বলছি, যেখানে শিল্পোন্নত বিশ্বের মতো প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নেই৷ কিছু অঞ্চলে কীটনাশকের মতো পাল্টা ব্যবস্থা নেবার অর্থও নেই, যা দিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করা যায়৷''

বাস্তব প্রয়োগ

ফিলিপ ম্যোনকেমায়ার জার্মানির একজন চাষী৷ তাঁর কোনো সমস্যা নেই৷ গম চাষের ক্ষেত্রে এই মডেল এখনই তাঁর কাজে লাগছে৷ তিনি বলেন, ‘‘গমের ক্ষেত্রে মাইলডিউ ও সেপ্টোরিয়া-র মতো প্যাথোজেন বিশেষ করে বছরের শুরুতে বেশ ক্ষতি করে৷ তবে আশার কথা, এর মোকাবিলার ব্যবস্থাও রয়েছে৷''

তাঁর নিজের এলাকায় প্যাথোজেন ও আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি দেখা যাচ্ছে কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে৷ সেই অনুযায়ী তিনি কীটনাশক ব্যবহার করেন৷ কতটা কীটনাশক লাগবে, সেটাও জানা যায়৷ ফিলিপ বলেন, ‘‘হ্যাঁ, অনেক কম কীটনাশক লাগছে৷ ফলে আমি ফাংগিসাইড বা ছত্রাক-নাশক বাঁচাতে পারছি৷ সংক্রমণ ঘটলে তবেই মাঠে নামি৷''

অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ করতে কারণ ছাড়াই আগেভাগে কীটনাশক ছড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে না৷ শস্যের অংশবিশেষ নষ্ট হবার ভয়ও কিন্তু নেই৷ ফলে চাষী, ভোক্তা ও পরিবেশ – সবারই লাভ হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক