1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘নাস্তিকদের' লেখা বাতিলের দাবি

বাংলাদেশে ইসলামি ঐক্যজোট নামে একটি ইসলামিক রাজনৈতিক দল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘নাস্তিক্য এবং ব্রাহ্মণবাদী' রচনা, গল্প ও কবিতা বাদ দিয়ে ইসলামি ভাবধারার লেখা সংযোজন করার দাবি জানিয়েছে৷

তারা প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আজাদের একটি কবিতাকে ‘ইসলামবিরোধী' বলে সেটাও পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তাদের দাবি পূরণ না হলে দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেছে তারা৷

ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখনকার শিক্ষানীতিও বাতিল করতে হবে৷''

তাঁর দাবি, ‘‘পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি ভাবধারার মুসলিম লেখকদের প্রবন্ধ ও গল্প-কবিতা বাদ দিয়ে নাস্তিক্যবাদী , ব্রাহ্মণবাদী, বিধর্মী ভাবাদর্শের রচনা, গল্প ও কবিতা সংযোজন করা হয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে হুমায়ূন আজাদের লেখা ‘বই' নামের একটি কবিতা সংযোজন করা হয়, যা পবিত্র কোরআন ও ইসলামবিরোধী বলে পরিচিত৷ এটা বাদ দিতে হবে৷''

অডিও শুনুন 04:17

‘‘পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে হুমায়ূন আজাদের লেখা ‘বই' নামের একটি কবিতায় পবিত্র কোরআন ও ইসলামবিরোধী’’

তাঁর কথায়, ‘‘উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যৌনশিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে৷ পাঠ্যপুস্তক থেকে এই যৌনশিক্ষা বাদ দিতে হবে৷ আমাদের সমাজ এবং ধর্মের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে এই ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷''

আব্দুল লতিফ নেজামী কতগুলো প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্পের নাম বলে বলেন, ‘‘পাঠ্য বইয়ে জাতীয় আদর্শিক চেতনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতির প্রতিফলন ঘটেনি৷ বরং ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা বিবর্জিত সেক্যুলার ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা সৃষ্টির পাঁয়তারা প্রকট করে তোলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে৷''

এর আগে বুধবার সকালে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে লতিফ নেজামী পাঠ্য বইয়ে ভারতের পর্যটন ‘স্পট' পালামৌয়ের ভ্রমণকাহিনি বাতিলের দাবি জানান৷ তিনি নবম-দশম শ্রেণিতে বাউলদের নিয়ে লেখা ‘সময় গেলে সাধন হবে না' নামক বইটিকে ‘বাউলদের যৌনাচারের' বই বলে অভিহিত করেন৷ এছাড়া তিনি পাঠ্য বই থেকে রামায়নের সংক্ষিপ্ত কাহিনি বাদ দেয়ারও দাবি জানান৷

বাংলাদেশের ধর্মীয় পটভূমিকে স্মরণে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সিলেবাস প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘জোর করে বিপরীতমুখী শিক্ষানীতি ও আইন চাপিয়ে দেয়া হলে তা টিকবে না৷''

লতিফ নেজামী ডয়চে ভেলের অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমাদের দাবির সঙ্গে দেশের সব ইসলামি দল একমত৷ আশাকরি সরকারও একমত হবে৷ নয়ত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে৷'' প্রসঙ্গত হেফাজতে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীও একই ধরনের কথা বলে শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে৷

এদিকে শিক্ষানীতি অনুযায়ী, নতুন এই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সময় জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র চন্দ৷ তিনি চারমাস হলো অবসরে গেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিক্ষানীতির আলোকে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে৷ এটা একক কোনো কাজ নয়৷ আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, গৌরব – সব দিক খেয়াল রেখেই পাঠ্য বই প্রণয়ন করা হয়েছে৷ এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না৷''

এ বিষয়ে জানতে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিয়া এনামুল হক সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷

আপনাদের কী মনে হয়? পাঠ্যপুস্তক থেকে এ ধরনের লেখা, গল্প বাদ দেয়া উচিত? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়