1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাখির মতো ‘ডানা মেলে’ ওড়ার স্বপ্নপূরণ

পাখির মতো ওড়া আর পাখির মতো ‘ডানা মেলে’ ওড়া৷ কি, কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে? প্লেন আবিষ্কারের কারণে মানুষ এখন সহজেই পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে পারছে৷

default

পাখির মত আকাশে ওড়া

কিন্তু সেটাতো আর ডানা মেলে অর্থাৎ পাখি যেভাবে নিজের ডানায় ঝাপটি মেরে উড়ে বেড়ায়, সেরকম হলনা৷ তবে সম্প্রতি সেটিই করে দেখিয়েছেন ক্যানাডার একজন৷

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি৷ আমরা সবাই চিনি তাঁকে৷ ‘মোনালিসা' ছবির জন্য বিখ্যাত ইটালীয় এই চিত্রশিল্পী৷ তবে এর বাইরেও বেশ কিছু পরিচয় আছে তাঁর৷ একাধারে তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী, স্থপতি, আবার উদ্ভাবকও৷ তিনিই স্বপ্ন দেখেছিলেন পাখির মতো ডানা ঝাপটে মানুষ আকাশে উড়ছে৷ এর নাম দিয়েছিলেন তিনি ‘অর্নিথপ্টার'৷ ভিঞ্চি যখন তাঁর স্বপ্নের কথা বলেন, সেটা ছিল ১৪৮৫ সাল৷ এরপর কেটে গেছে ৫২৫ বছর৷ সম্প্রতি তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন টড রাইশার্ট৷ ক্যানাডার টোরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি'র ছাত্র তিনি৷

টড তাঁর অর্নিথপ্টারের নাম রেখেছেন ‘স্নোবার্ড'৷ এর পাখার দৈর্ঘ্য ছিল ৩২ মিটার৷ যেটা স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী ‘বোয়িং ৭৩৭' বিমানের ডানার সমান৷ তবে ওজন মাত্র ৪৩ কেজি৷ কারণ তিনি ব্যবহার করেছেন ‘বালসা' কাঠ৷ দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই কাঠ বিশ্বের সবচেয়ে হালকা কাঠগুলোর একটি৷ ব়্যাংকিং করলে হালকাতম'র দিক থেকে তৃতীয়৷ তবে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যে কাঠ, সেগুলো দিয়ে কোনো কিছু তৈরি করা সম্ভব নয়৷ তাই বলা যায় ব্যবহারযোগ্য কাঠের মধ্যে বালসাই সবচেয়ে হালকা৷

এছাড়া টড আরও ব্যবহার করেছেন কার্বন ফাইবার আর ফোম৷ অর্থাৎ উপকরণগুলো ছিল খুবই হালকা ধরণের৷ শুধু তাই নয়, ভূমি থেকে উপরে ওঠার জন্য বিমানে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সেধরণের কোনোকিছু তিনি রাখেননি তাঁর স্নোবার্ডে৷ তাহলে কীভাবে আকাশে উড়লো টডের স্নোবার্ড? উত্তর, গাড়ির সাহায্যে৷ ব্যাপারটা এরকম – একটি গাড়ির পেছনে শিকল দিয়ে স্নোবার্ডটি আটকানো ছিল৷ তারপর গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলতে থাকলো৷ এভাবেই একসময় স্নোবার্ডটি ভূমি থেকে উপরে উঠে যায়৷ এতকিছুর পরও স্নোবার্ডের ওজন কমাতে টড নিজের ওজন কমিয়েছিলেন প্রায় আট কেজি৷

Leonardo da Vinci Selbstportrait

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি - ৫২৫ বছর আগে তিনিই প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেখিয়েছিলেন

এত সাধনার পর তৈরি হওয়া স্নোবার্ড অবশেষে আকাশে ওড়ে৷ এবং সেটা আকাশে থাকে ১৯.৩ সেকেন্ড৷ দূরত্ব অতিক্রম করে ১৪৫ মিটার৷ আর গতি ছিল ২৫.৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা৷

প্রথমে বলেছি স্নোবার্ড কীভাবে আকাশে ওঠে৷ এবার বলছি আকাশে যে এটি এতক্ষণ থাকলো, সেটা কীভাবে সম্ভব হল৷ সেসময় টড একটা কাঠে পা দিয়ে পাম্প করতে থাকেন৷ ফলে স্নোবার্ডের বিশালদেহী পাখাটা একেবারে ঠিক পাখির মতোই ঝাপটা মারতে থাকে৷ এবং স্নোবার্ড আকাশে উড়তে থাকে৷ পা দিয়ে পাম্প করা ব্যাপারটা অনেকটা সাইকেলের প্যাডেল ঘোরানোর মত৷ তার মানে টড দৈহিক পরিশ্রম করে স্নোবার্ডের ডানায় পাখির মতো ঝাপটা মারতে সহায়তা করেছেন৷ আর এই ব্যাপারটাই টডকে অন্যান্যদের কাছ থেকে আলাদা করে দিচ্ছে৷ কারণ ১৯৭৭ সালে ‘গোসামের কন্ডর' নামের আরেকটি এয়ারক্রাফটের কথা জানা যায়, যেটাকে বিশ্বের সর্বপ্রথম মনুষ্য চালিত এয়ারক্রাফট বলা হয়৷ কিন্তু তার সাথে স্নোবার্ডের পার্থক্য হলো সেটা পাখির মতো ডানায় ঝাপটা মারেনি৷ অর্থাৎ একেবারে দেখতে পাখির মতো মনে হয়নি ঐ গোসামের কন্ডরকে৷ কিন্তু স্নোবার্ডের ওড়াটা দেখলে ঠিক পাখির কথাই মনে পড়ে যায়৷ মনে হয় বিশালদেহী এক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে৷

কিন্তু এত কষ্ট করে এই অর্নিথপ্টারটা বানানোর কারণ কী? ভবিষ্যতে কী মানুষ এভাবে চলাচল করতে পারবে? এর উত্তর... হতেও পারে৷ কারণ ১৯০৩ সালে রাইট ভাইয়েরা যখন প্রথম বিমান বানিয়েছিল, সেটা প্রথমবার আকাশে ছিল মাত্র ১২ সেকেন্ড৷ তবে টড এত আলোচনার মধ্যে যাননি৷ তিনি শুধু বলেছেন, তাঁর এই আবিষ্কার মানুষকে তাঁর শরীরের পুরো শক্তি ব্যবহার করতে এবং মনের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করবে৷

স্নোবার্ডের উড্ডয়নের সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব অ্যায়ারোনটিক ইন্টারন্যাশনালের এক কর্মকর্তা৷ ওড়াউড়ির ক্ষেত্রে যে কোন ধরণের রেকর্ডের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে এই সংস্থাটি৷ তারাই বলেছে, টডের আবিষ্কারকে তারা রেকর্ডের স্বীকৃতি দেবে এবং সেটা এই মাসেই৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়