পাখির মতো আকাশে ওড়ার রোমাঞ্চ | অন্বেষণ | DW | 11.06.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পাখির মতো আকাশে ওড়ার রোমাঞ্চ

আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কার না হয়! বিমানে চেপে নয়, একেবারে পাখির মতো ওড়ার অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চই আলাদা৷ এমন অভিনব অভিজ্ঞতার কথা আক্সেল প্রিমাভেসি ডায়রির আকারে তুলে ধরেছেন৷

ভারহীন অবস্থায় উড়ে বেড়ানো, বাতাসের মধ্যে দিয়ে পাখির মতো উড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার স্বাদই আলাদা৷ আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু অন্যরকম৷ কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, এই ইলিউশন কাজ করবে তো!

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরের কাছে বার্ড লাইফ সেন্টার দেখতে এসেছি৷ স্টেফান হেলার এই পক্ষী সংরক্ষণ এলাকার প্রধান৷ পাখির ওড়ার অভিজ্ঞতার সিমুলেটার তৈরির আইডিয়া তাঁর মাথায় আসে৷ প্রশ্ন করলাম, পাখির ওড়া দেখে কেন রোমাঞ্চ আসে? হেলার বললেন, ‘‘আমরা এটা করতে পারি না৷ পাখির ওড়ার প্রক্রিয়া সত্যি বেশ জটিল৷ একেবারে নিখুঁতভাবে তারা যে কোনো জায়গায় নামতে পারে৷ প্লেন তা কখনো পারবে না৷ পাখিরা নিমেষের মধ্যে আকাশে উড়তে পারে, ডালপালার মধ্যে দিয়ে উড়ে যেতে পারে৷ মানুষ হিসেবে তাদের সেই দক্ষতা রপ্ত করার কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই৷''

এখানে গাঙচিলদের বাসা৷ ছোট্ট এই বাড়িতে বসে পাখিদের বিরক্ত না করে তাদের পর্যবেক্ষণ করা যায়৷ প্রতি বছর প্রায় ১২,০০০ মানুষ এখানে আসেন৷ স্টেফান হেলার পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ও প্রদর্শনী ছাড়াও তাদের জন্য নতুন কিছু আকর্ষণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন৷ তাই তিনি এক সিমুলেটর তৈরি করেন৷

মাক্স রাইনার ওড়ার এই অভিজ্ঞতা সম্ভব করে তুলেছেন৷ জুরিখ শহরের কলা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দুই সহকর্মীর সঙ্গে ‘বার্ডলি' তৈরি করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই প্ল্যাটফর্ম নড়াচড়া করে৷ মনে হবে, সত্যি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছি৷''

প্রায় ৬ মাস ধরে এই টিম ‘বার্ডলি' নিয়ে কাজ করেছে৷ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যান্ত্রিক কাঠামো ও কম্পিউটার সফটওয়্যারের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো৷ মাক্স রাইনার বলেন, ‘‘সব কিছু ঠিকমতো চললে সামগ্রিকভাবে এই অভিজ্ঞতা সত্যি অনবদ্য৷ সব ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে তোমাকে যদি ওড়ার অনুভূতি দেয়, তখন মনে হবে সত্যি উড়ছি৷ শুধু টেলিভিশনের পর্দায় দেখে এই অনুভূতি বোঝা যাবে না৷ তুমি এখানে হাত ঢুকিয়ে দিতে পারো৷ তখন এগুলি তোমার ডানা হয়ে যাবে৷ এবার তোমাকে একটা থ্রিডি চশমা দিচ্ছি৷ এটা দিয়ে তুমি প্রকৃতির মধ্যে প্রায় ডুবে যাচ্ছ৷ তারপর হেডফোন কানে লাগিয়ে তুমি আশেপাশের শব্দও শুনতে পারছো৷''

Max Rheiner

মাক্স রাইনার

আমি সানফ্রানসিস্কো হয়ে অ্যামেরিকার পশ্চিম উপকূলে উড়ে চলেছি৷ উপর থেকে বিভিন্ন শহর দেখে চিনতে পারছি৷ প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে উঁচু বিল্ডিং থেকে নীচে তাকিয়ে দেখেছে৷ ফলে ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি, যেমনটা প্রকৃতির মধ্যে সম্ভব নয়৷ এভাবে ভারচুয়াল অভিজ্ঞতা আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে৷ তাই এই টিম প্রকৃতির বদলে শহর বেছে নিয়েছে৷ ডানা মেলে আরও উপরে উঠে যাচ্ছি৷ ডানা নাড়ানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত রপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ কিছুক্ষণ পর বাস্তব জগতের কথা পুরোপুরি ভুলে গেছি৷ একটা বিশাল ফ্যান আবার বাতাসও সৃষ্টি করছে৷ ফলে যন্ত্রের সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতের মেলবন্ধন এক অভিনব ইলিউশন সৃষ্টি করছে৷

আমাকে বলা হচ্ছে আরও উপরে উড়তে৷ না হলে ধাক্কা লাগবে৷ যাঃ, পড়ে গেলাম৷ সত্যি মনে হচ্ছে উড়ছি৷ সামনে কোনো বাড়ি এলে এড়িয়ে যাবার ইচ্ছা হবে৷ ওড়ার নেশা পেয়ে বসবে৷ বার বার ওড়ার ইচ্ছা হবে৷ সত্যি নেশার ঝুঁকি কম নয়৷ আমার সমস্যা হলো, দ্বিতীয়বার ওড়ার সময় কেমন যেন বমি পাচ্ছিল৷ তবে আনন্দও যে কম নয়!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক