1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশেও ঢুকে পড়ছে আইএস

সিরিয়া আর ইরাকের পর এবার ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেও জাল বিস্তৃত করছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)৷ ভারত-পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে আইএস-এর প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে৷ আর বাংলাদেশে চলছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তান এবং ভারতের কয়েকটি শহরে আইএস-এর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ পাকিস্তানের পেশাওয়ার এবং আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে৷ বেশ কিছু গাড়িতে আইএস-এর ‘স্টিকার' দেখা গেছে৷ পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে এতদিন মূলত আল-কায়েদা আর তালেবানেরই প্রাধান্য ছিল৷

Peshawar Pamphlet

পাকিস্তানের পেশাওয়ারে আইএস এর একটি প্রচারপত্র

এবার আইএস বা আইসিস-ও হাত বাড়াচ্ছে৷ বিশ্লেষকরা মনে করেন, জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান এবং আল-কায়েদার সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয়তাই আইএস-কে এ অঞ্চলে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে৷

পাকিস্তানের পেশাওয়ারে আইএস-এর ১২ পৃষ্ঠার এক প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়৷ ‘ফাতাহ' অর্থাৎ ‘বিজয়' শিরোনামের ওই প্রচারপত্রের লোগোতে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে৷ প্রচারপত্রটি নিয়ে আইএস সমর্থকরা সাধারণ মানুষের বাড়ি এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে যাচ্ছে৷ আফগান শরণার্থী শিবিরগুলোতেও তাঁদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ পেশাওয়ারের এক মসজিদের ইমাম সামীউল্লাহ হানিফি রয়টার্সকে জানান, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক খেলাফতের কর্মীদের তিনি প্রচারপত্রটি বিতরণ করতে দেখেছেন৷ এছাড়া এলাকায় খুব বেশি পরিচিত নয় এমন কিছু তরুণকেও এ তৎপরতায় জড়িত হতে দেখা গেছে৷

আইএস-এর তৎপরতাকে সমর্থন জানাচ্ছে তালেবানপন্থি কিছু সংগঠন৷ ‘জামাত-উল আহরার' নামের একটি সংগঠন ও তালেবানের সক্রিয় নেতা এহসান উল্লাহ এহসান বলেছেন, ‘‘ইসলামি শাসন কায়েম এবং খেলাফতের জন্য কাজ করছে আইএস৷ এটি একটি ইসলামি সংগঠন৷ আমরা তাদের সম্মান করি৷ তারা যদি সহযোগিতা চায়, আমরা ভেবে দেখবো৷''

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর, মুম্বই, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতাতেও আইএস-এর তৎপরতা শুরুর খবর পাওয়া গেছে৷

কাশ্মীরে গত ২৭শে জুন এবং তারপর ঈদ-উল ফিতরের দিনে কিছু মুসলিম তরুণ আইএস-এর পক্ষে এবং কাশ্মীরে ভারতের শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন৷ কয়েকদিন আগে ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের চারটি মুসলিম পরিবার তাঁদের সন্তান হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পুলিশকে জানিয়েছেন৷ নিখোঁজদের একজন বাড়ি ছাড়ার সময় চিরকুট লিখে জানিয়েছেন তিনি ‘ইসলাম রক্ষার' লড়াই করতে যাচ্ছেন৷ পরে জানা যায়, কথিত চার তরুণ তবলিগ জামাতের সঙ্গে ইরাকে গিয়েছেন৷ সেখানে যাওয়ার পর থেকে তাঁরা আবার উধাও৷ তরুণরা আইএস অধিকৃত শহর মোসুলে গেছেন এবং তাঁদের একজন ইতিমধ্যে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

গত সপ্তাহে কলকাতায় চার তরুণকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে৷ চারজনের মধ্যে দু'জন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র৷ টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত চারজন আইএস-এর যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷ বাংলাদেশে ইতিমধ্যে আইএস-এর সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে বলেও পত্রিকাটি জানিয়েছে৷

আইএস-এর তৎপরতা শুরুর খবর পেলেও এ তৎপরতা রোধে এখনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, লস্কর-ই-তৈয়বা বা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মতো আইএস-এর তৎপরতা শুধু সশস্ত্র এবং প্রকাশ্য নয় বলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন৷ তিনি জানান, আইএস সমর্থকরা শুধু যে কোথাও কোথাও প্রচারপত্রই বিলি করছে, তা নয়, বাড়িতে বসে, ফেসবুক, টুইটারেও কাজ করে যাচ্ছে তারা৷

এসিবি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়