1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পাকিস্তান ‘দাগি' অভিবাসীদের ফেরত নেবে না

‘দাগি' বলতে বোঝায়, যে সব অভিবাসীদের ‘ক্রিমিনাল রেকর্ড' আছে৷ চলতি উদ্বাস্তু সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাকিস্তানের মতো দেশ থেকে আগত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠাতে চায়৷ কিন্তু কাদের?

২০১০ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ দেশগুলি পাকিস্তানি নাগরিকদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ পাকিস্তান এই চুক্তি আপাতত স্থগিত রেখেছে এই বলে যে, চুক্তির ‘‘ব্যাপক অপব্যবহার'' করা হচ্ছে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধরি নিসার আলী খান গত সপ্তাহে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলি প্রায়শই পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেরত পাঠায় তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী' বলে অভিহিত করে৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানিরা কোনো পশ্চিমি দেশে বেআইনিভাবে গেলে বিধিমতো পরীক্ষার পর তাদের ফেরত পাঠানো উচিত, অধিকাংশ দেশ যা করে না৷''

প্রতিবছর হাজার হাজার পাকিস্তানি স্থলপথে বা সাগর পার হয়ে, ইরান, তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্য দিয়ে ইউরোপে যাবার চেষ্টা করে৷ তাঁদের মধ্যে অনেকে যেমন সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা ধর্মীয় অহিষ্ণুতার হাত থেকে পালাচ্ছেন, তেমনই অনেকের লক্ষ্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি৷

অভিবাসীর স্রোত

২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৩২ হাজার পাকিস্তানি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, বলে জানিয়েছে ‘ইউরোস্ট্যাট', ইইউ-এর পরিসংখ্যান দপ্তর৷

এর মধ্যে হাঙ্গেরিতে জমা পড়েছে প্রায় ১৩ হাজার আবেদন, জার্মানিতে পাঁচ হাজার ও ইটালিতে চার হাজার৷ ঠিক তেমনই ছ'হাজারের বেশি পাকিস্তানি ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও গ্রিসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে৷

পাকিস্তানি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পুরুষ, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে৷ তবে ব্যাপারটা কিছু নতুন নয়৷ ‘ইউরোস্ট্যাট'-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার পাকিস্তানি বেআইনিভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এসেছেন৷ সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে ৬৮ হাজারের বেশি, কিন্তু তাদের ৮২ শতাংশ খারিজ হয়েছে৷ আবেদন খারিজ হলে ব্যর্থ আবেদনকারীদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার কথা৷ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৪০ শতাংশ বস্তুত দেশে ফিরেছেন৷

মানুষ পাচার

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান থেকে ইউরোপ অভিমুখে মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য করার চেষ্টা করছেন, তবে আন্তর্জাতিক মানুষ পাচার চক্রগুলিকে বিরত করার জন্য তা পর্যাপ্ত কিনা, সে-বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ আছে৷ পাকিস্তানের ফেডারাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-র পরিচালক ইনাম গনি ডিডাব্লিউ-কে বলেন যে, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১,১৮৫ জন মানুষ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে – ২০১৫ সালে এ যাবৎ গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ৮০০ জনকে৷ এমনকি সরকার এই কাজে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিভাগ মিলিয়ে একটি বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স' সৃষ্টি করেছেন, বলে ঘানি জানান৷ কিন্তু তাঁর মত হলো যে, ইউরোপের তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রদানের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত৷

‘‘অতীতে ইউরোপে শুধু রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, আবাস ও আর্থিক সাহায্য পাওয়াও অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল৷ বেআইনি অভিবাসীদের কোনো ধরনের সুযোগসুবিধা বা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সুযোগ না দিয়ে, তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা উচিত, বলে আমি মনে করি'', বলেন ইনাম গনি৷

পাকিস্তানের জায়গায় বাংলাদেস হলে কী করতো? ফেরত নিত ‘দাগি' অভিবাসীদের? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়