1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাকিস্তানে সন্ত্রাসের মাঝে নির্বাচন

১১ই মে পাকিস্তানে সংঘটিত হবে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন: এই প্রথম একটি নির্বাচিত সরকার তার কর্মকাল স্বাভাবিকভাবে সমাপ্ত করতে পারবে৷ কিন্তু এই নির্বাচন দেশের ভিন্নধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো ত্রাণ আনতে পারবে কি?

তালেবান সন্ত্রাসের মাঝে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি তাদের ‘যুবরাজ' বিলাওয়াল ভুট্টো-জরদারিকে দুবাই পাঠিয়ে দিয়েছে৷ সেখান থেকে ২৪ বছর বয়সি বিলাওয়াল তাঁর সমর্থকদের ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন: ‘‘আমি আপনাদের সঙ্গে একত্রে নির্বাচনী প্রচারে নামতে চেয়েছিলাম, পাকিস্তানের পথে পথে৷ কিন্তু শহীদ বেনজির ভুট্টোর ঘাতকরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে৷''

পাকিস্তানি তালেবান দেশের তিনটি মুখ্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছে এবং অ-ইসলামি বলে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে৷ নির্বাচনী প্রচার চলেছে গুলিগোলা, বোমাবাজির মধ্যে

Pakistan Bilawal Bhutto Zardari

বিলাওয়াল ভুট্টো

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ইবন আবদুর রেহমান স্বয়ং বলছেন: ‘‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগের প্রয়োজন৷ কিন্তু এখানে কোনো ন্যায় নেই, আছে শুধু আতঙ্ক৷ এই নির্বাচন থেকে শুধু এই হবে যে, রাষ্ট্র আবার গোঁড়া দক্ষিণপন্থি তালেবান ও চরমপন্থিদের দিকে ঝুঁকবে৷ ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা, এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক পালাবদলের পক্ষে ক্ষতিকর হবে৷''

নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা৷ অপরদিকে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইসলাম দলও তালেবান সন্ত্রাসের মধ্যেই সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচার চালাচ্ছে৷ নির্বাচনী সমাবেশে শরিফ কিংবা খান, কেউই পাকিস্তানি তালেবান সম্পর্কে কোনোরকম নেতিবাচক মন্তব্য করেননি৷ উভয়েই বলছেন, জিতলে তাঁরা তালেবানের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন৷ কিন্তু জেতার আগে আসছে নির্বাচন৷ নির্বাচনী কমিশন মোট ৭০ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রায় অর্ধেককে ‘‘স্পর্শকাতর এলাকা'' বলে ঘোষণা করেছে৷

কিন্তু নির্বাচনে যাদের সবচেয়ে বেশি ভীতি, তারা হল পাকিস্তানের অ-মুসলিম সংখ্যালঘুরা৷ তারা বলছে, গণতন্ত্র তাদের মৃত্যুদণ্ড হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

Bildergalerie Cricket Imran Khan Politik

নির্বাচনী প্রচারণায় ইমরান খান

শিয়াপন্থি মুসলমান, খ্রিষ্টান, হিন্দু, অপরাপর সংখ্যালঘু, সকলেই দেখেছে বিগত পাঁচ বছরে কিভাবে এই গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত সরকারের শাসনকালে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বেড়েছে৷ ইসলামি উগ্রপন্থিদের সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলির খোশামুদি ও তোয়াজ৷

শনিবারের নির্বাচনে বেশ কিছু চরম ইসলামি উগ্রপন্থি প্রার্থী হচ্ছে৷ মুখ্য রাজনৈতিক দলগুলিও ভোট পাবার আশায় চরমপন্থিদের খুশি রাখার প্রচেষ্টা করছে৷ কাজেই সংখ্যালঘুদের ভয়, এই ভোটের ফলে চরমপন্থিদের প্রভাব আরো বাড়বে৷ এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ সামরিক শাসনের আমলে অধিকতর নিরাপত্তার কথাও স্মরণ করছে৷

পাকিস্তানের ১৮ কোটি জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ হল মুসলিম, যাদের মধ্যে শিয়াদের অনুপাত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ৷ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ খ্রিষ্টান, হিন্দু, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য, ইত্যাদি৷ তার মধ্যে এই নির্বাচনের সঙ্গে আহমদিয়াদের সম্পর্ক প্রায় ট্র্যাজিক বলা চলতে পারে৷ ভোট দিতে গেলে আহমদিয়াদের স্বীকার করতে হয় যে, তারা অ-মুসলিম৷ পাকিস্তানের ঈশ্বরনিন্দা আইন অনুযায়ী আহমদিয়াদের শুধুমাত্র আসসালামু আলাইকুম বলার জন্য জেলে যেতে হয়েছে৷

এসি/ডিজি (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন