1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

পাকিস্তানের সেরা মহিলা স্কোয়াশ খেলোয়াড় চান সমতা

নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা চান মারিয়া তুরপাকাই ওয়াজির৷ কেননা ছোটবেলায় স্কোয়াশ খেলার জন্য তাঁকে যে ছেলে সাজতে হতো৷ আজও মহিলা স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়, রবিবার ইনচন-এ বলেছেন মারিয়া৷

সেদিন রাতে তাঁর খেলা ছিল হংকং-এর অ্যানি আও-এর বিরুদ্ধে৷ সে খেলায় হেরেছেন মারিয়া৷ কিন্তু তার চাইতে বড় কথা হলো: মারিয়া পূর্বাপর স্বদেশে মেয়েদের নানা বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করবেন, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই হুমকি এসেছে৷ হুমকি দিয়ে বিশেষ লাভ হবে না, কেননা মারিয়ার পরিবারের আদত বাস উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে, অসমসাহসী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই যে দেশের মানুষ৷

ওয়াজিরিস্তান একটি উপজাতিক এলাকা৷ এখানকার সমাজ অত্যন্ত রক্ষণশীল৷ কাজেই মারিয়া যখন প্রথম স্কোয়াশ খেলতে শুরু করেন, তখন তাঁকে ছেলে সেজে খেলতে হতো, ছেলেদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হতো৷ বলতে কি, মেয়েদের খেলাধুলাই বারণ ছিল৷ হিজাব না পরে, অথবা শর্টস পরে খেলাটাকে অ-ইসলামি বলে গণ্য করা হতো এবং তুরপাকাই-দের বিরুদ্ধে শাসানিও এসেছিল৷

Kinderrechtsaktivistin Malala Yousafzai aus Pakistan bei den UN 18.08.2014

মালালা ইউসুফজাই এর দেশের মানুষ মারিয়া

মারিয়া তুরপাকাই প্রথমে ভারত্তোলনে অংশ নিতেন, এমনকি বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ছেলেদের হারিয়ে পুরস্কারও পেয়েছিলেন৷ কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে ভারত্তোলন ছেড়ে স্কোয়াশে আসতে বাধ্য করেন৷ সেই স্কোয়াশ খেলাতেই মানুষজন আবিষ্কার করে যে, মারিয়া আসলে মেয়ে৷ মারিয়ার বয়স তখন ১৬; স্কোয়াশ খেলার জন্য তাঁকে তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট পেশ করতে হয়, যা-তে লেখা ছিল, তিনি নারী না পুরুষ সন্তান৷ মারিয়া যে মেয়ে, তা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে পুরুষ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে টিকা-টিপ্পনিও শুনতে হয়েছিল৷

‘‘এটা আমার দায়িত্ব,'' রবিবারের খেলার পর মারিয়া তুরপাকাই হংকং-এ বলেছেন: ‘‘অন্য মেয়েদের জন্য আমাকে মুখ খুলতে হবে৷'' তবে পাকিস্তানেও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, যদিও খুব ধীরে, এই হলো মারিয়ার অভিমত৷ ‘‘চিরকালই এমন মানুষ আছেন যাঁরা এই যুক্তির সপক্ষে, যদিও এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা এই যুক্তির বিপক্ষে,'' বলেছেন পাকিস্তানের সেরা মহিলা স্কোয়াশ খেলোয়াড়৷ তবে এই স্রোতকে আর আটকে রাখা যাবে না, বলে তাঁর বিশ্বাস৷ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা পাকিস্তানের অন্য তরুণীদের পক্ষে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, বলে তিনি মনে করেন৷

মারিয়া তুরপাকাই ২০০৬ সালে পেশাদার হন, এবং ২০০৯ সালে বিশ্ব স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের জুনিয়ার বিভাগে তৃতীয় হয়েছিলেন৷

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন