1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাকিস্তানের সমস্যার পাহাড় বড় করছে জনসংখ্যাও

২৫ বছর আগেও পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিল বাংলাদেশের চেয়ে কম৷ অথচ এখন তা বেশি৷ ১৭ কোটি ৩০ লাখ লোক নিয়ে বিশ্বের জনবহুল ছয়টি দেশের একটি হলো দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি৷

Bevölkerung in pakistan

পাকিস্তানের লোক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

পাকিস্তানের পপুলেশন কাউন্সিলের অনুমান, আগামী ২০৩০ সালে জনসংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়াবে৷ আর তা সমস্যাসঙ্কুল দেশটির সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলবে৷

চার বছর আগের জরিপ বলছে, পাকিস্তানে প্রতি নারী গড়ে চারটি করে সন্তান প্রসব করে৷ জন্মহার কমাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন ডা. জুলফিকার আলী ভুট্টা৷ তিনি আগা খান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান৷

জুলফিকার বললেন, ‘‘পরিবার পরিকল্পনা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক কর্মসূচি আছে সত্য, তবে তা কার্যকর নয়৷ আর এই জন্যই জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি রোধ করা যাচ্ছে না৷ প্রজনন হার এখন অনেক বেশি৷ যে পরিমাণ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রয়োজন, তা মিলছে না৷ আর শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অনগ্রসরতাও একটা বড় কারণ৷''

সরকারি জরিপ বলছে, অনেক পাকিস্তানিই জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চান না৷ তারা মনে করেন, এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়৷ আবার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধপত্র এবং পরিবেশ ভালো না থাকায় সেখানে যেতেও অনেকের অনীহা আছে৷ এর জন্য সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও দায়ী করলেন পপুলেশন কাউন্সিলের পরিচালক জেবা এ সাত্তার৷

Schulmädchen

পাকিস্তানে প্রতি নারী গড়ে চারটি করে সন্তান প্রসব করে৷

‘‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ঠিকঠাক রাখার দায়িত্ব যাদের ওপর, তারা সঠিকভাবে তা পালন করছে না৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উদাসীন৷ এনজিওগুলো কাজ করলেও তা যথেষ্ট নয়৷ আমি বলবো, জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এখন আগের মতো তৎপরতা দেখাচ্ছে না৷'' বলছিলেন ডা. জেবা৷

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান এই বছরই একটি নীতি প্রণয়ন করেছে৷ যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, প্রজনন হার তিন এ নামিয়ে আনা৷ এর ফলে ১৮ বছরের আগে গর্ভধারণ করে, এমন নারীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে৷ তবে এই নীতি অনুযায়ী কাজ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে ডা. জুলফিকারের৷

তার কথায়, ‘‘নীতিটি হয়তো কাগজে-কলমেই থাকবে৷ আর জনসংখ্যা বাড়বে আগের গতিতেই৷ এই বছরই আদমশুমারি হওয়ার কথা রয়েছে৷ তাতেই সব কিছু প্রকাশ হবে৷ ১৯৯৮ সালের পর আর আদম শুমারি হয়নি৷ ফলে অনক পুরনো উপাত্ত নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়৷''

জনসংখ্যা বৃদ্ধি যে বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিলেন ডা. জেবা৷ তিনি বলেন, ‘‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটা বিশাল চাপ হয়ে আসছে আমাদের জন্য৷ পানি, আবাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা এখনি পোহাতে হচ্ছে৷ এরপর কর্মসংস্থান সঙ্কট প্রকট হয়ে দাঁড়াবে৷ আগামী ২০ বছরে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা ৭ কোটিতে দাঁড়াবে৷ এত লোক কাজ করবে কোথায়?''

রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে, আছে জঙ্গি সমস্যাও৷ এতসব সমস্যার মধ্যে জনসংখ্যা সমস্যাটি বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে পাকিস্তানে৷ দেখার বিষয় হলো, সরকার এই সমস্যা সমাধানে কীভাবে কাজ করে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়