1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাকিস্তান

পাকিস্তানের চিরাচরিত প্রথা ভাঙছেন গ্রামের নারীরা

পাকিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত সোয়াত উপত্যকায় বিচারব্যবস্থা চলে অনানুষ্ঠানিকভাবে৷ পুরুষরা সিদ্ধান্ত দেয় এবং এ কারণে নারীদের নৃশংসতার শিকার হতে হয়৷ তবে অনেক নারীই এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন৷

সোয়াত উপত্যকায় যে কোনো অপরাধের বিচার করে জিরগা৷ স্থানীয় আদালতের কাজ করে এটি৷ এই জিরগার সিদ্ধান্তই সেখানে চূড়ান্ত৷ আর সেই জিরগা পরিচালিত হয় পুরুষদের দ্বারা৷ কিন্তু ২০১৩ সালে নারী জিরগা গঠনের মাধ্যমে এই অবস্থার পরিবর্তন এনেছেন তাবাসসুম আদনান৷ বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৫৷ সোয়াত হলো সেই জায়গা, যেখানে ২০১২ সালে নোবেল জয়ী মালালাকে গুলি করা হয়েছে নারী শিক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে৷ ডয়চে ভেলেকে তাবাসসুম বললেন, ‘‘একটি মেয়ে অ্যাসিড আক্রান্ত হয়েছিল৷ যখন পুরুষ জিরগায় সেই মামলাটি উপস্থাপন করা হলো, তারা মেয়েটিকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা হয়নি৷ '' কিশোরীটি মৃত্যুর আগে তার উপর অন্যায়ের বিচার দেখে যেতে পারেনি৷ 

নারী জিরগার সাফল্যের বেশ কিছু কাহিনি রয়েছে

নারী জিরগার সাফল্যের বেশ কিছু কাহিনি রয়েছে

অনানুষ্ঠানিক বিচার:

৫ বছর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত জিরগাকে নিষিদ্ধ করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো এই বিচারব্যবস্থা বহাল আছে৷ নারী জিরগায় পারিবারিক নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা, বাল্যবিবাহরোধসহ অনেক সামাজিক বিষয় নিয়ে আইনি সহায়তা দেয়া হয়৷ তাবাসসুম জানালেন, পুরুষদের জিরগায় নারীর পরিবর্তে পুরুষদের পক্ষেই সব রায় যায়৷ তবে এখন বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধে শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে নারীদের জিরগা৷

সোয়াত উপত্যকায় প্রায়ই কিশোরীদের সঙ্গে তাদের চেয়ে ২০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বড় পুরুষের বিয়ে দেয়া হয় জোর করে৷ তাবাসসুমের জীবনেও এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে৷ তাঁর পরিবারও সেই সময় পাশে দাঁড়ায়নি৷ তাই অন্য নারীদের জীবনেও যেন এমনটা না ঘটে, সেজন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি৷

স্থানীয় পুরুষরা অবশ্য নারী জিরগাকে ‘নকল জিরগা' বলে থাকে৷ তাদের মতে বিদেশি ত্রাণ পাওয়ার জন্য এই জিরগার সৃষ্টি৷ তবে, পুরুষ জিরগার সাবেক প্রধান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘নারীদের এই জিরগার প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে৷''

সাফল্যের গল্প:

নারী জিরগার সাফল্যের বেশ কিছু কাহিনি রয়েছে৷ একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে৷ এক পুরুষ এক নারীর বাড়ি ভেঙে ডাকাতি করে এবং ছুরি দিয়ে ঐ নারীর সব দাঁত তুলে ফেলে৷ নারী জিরগার সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত নারীটি সুবিচার পায়৷ নারী জিরগা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনিকে ঘটনাটা জানানোর পর ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চার বছরের কারাদণ্ড হয় তার৷ তবে প্রায়ই তাবাসসুমকে নানা হুমকি ধামকি দেয়া হয় বলে জানালেন তিনি৷ তাই তাদের বৈঠক চলে গোপনে৷

নায়লা ইনায়াত, জেনিফার কলিন্স/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়