1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‘পাকিস্তানি শিল্পী থাকলে ভারতে কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে না'

উড়ি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উত্তপ্ত৷ আঁচ লেগেছে বলিউডেও৷ মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র উৎসবে বাদ দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাবেরা'৷ দাবি উঠেছে সিনেমা থেকে পাকিস্তানি নায়ককে ছেটে ফেলার৷

Bollywood Schauspieler Fawad Khan (m) (Ausschnitt) (picture-alliance/dpa/R. Gupta)

পাকিস্তানী তারকা ফাওয়াদ খান ও বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাদুকোন

পাক-ভারত উত্তেজনার জের ধরে গত এক মাস ধরেই পাকিস্তানের অভিনেতা ও শিল্পীদের বলিউডে অভিনয় নিয়ে প্রতিবাদ উঠেছে৷ করন জোহর পরিচালিত ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল' ছবিতে পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খান অভিনয় করায় বেশ কয়েকটি স্থানে হল মালিকরা ঐ ছবি না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ ২৮ অক্টোবর মুভিটি মুক্তি পাওয়ার কথা৷

গত সপ্তাহেই করন জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল' ভারতের চারটি রাজ্যে দেখানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ‘সিনেমা ওনার্স এক্জিবিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া' (সিওইএআই)৷ তার আগে ফাওয়াদকে ভারত ছাড়ার ফতোয়া দিয়েছিল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)৷ উরি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এম বিক্ষোভ শুরু করে তারা৷ হিন্দু মৌলবাদীরা মুভিটিতে ফাওয়াদ খানের বদলে অন্য কাউকে নেয়ার দাবি জানিয়েছে৷ মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা হুমকি দিয়েছে তা না হলে ২৮ অক্টোবর দেশের কোনো সিনেমা হলে ঐ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে না৷

এই যখন অবস্থা তখন মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জাগো হুয়া সাবেরা' (দ্য ডে শ্যাল ডন) নামে পাকিস্তানের একটি ছবি দেখানোর কথা ছিল৷ কিন্তু সেটি দেখানো হবে না বলে শেষ মুহূর্তে উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ আয়োজকরা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে ১৮তম মামি চলচ্চিত্র উৎসবে জাগো হুয়া সাবেরা না দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে৷''

১৯৫৯ সালের সাদা-কালো ছবি ‘জাগো হুয়া সাবেরা' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি' অবলম্বনে নির্মিত৷ এ চলচ্চিত্রে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের শিল্পীদের সম্মিলন ঘটেছিল৷ আর শ্যুটিং হয়েছিল ঢাকাতেই৷ অভিনয় করেছিলেন কলকাতার নামকরা অভিনেত্রী তৃপ্তি মিত্র আর বাংলাদেশের খান আতাউর রহমান৷ ১৯৬০ সালে ৩২তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার ছবি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিল পাকিস্তানের পরিচালক এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সবেরা'৷ ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ৷ নোমান তাসিরের সঙ্গে ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন তিমির বরণ, অভিনয় করেছিলেন তৃপ্তি মিত্র৷ সম্প্রতি ছবিটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পুনরুদ্ধার করা হয়৷ সেটি এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ধ্রুপদী বিভাগ'-এ দেখানোও হয়েছে৷

মুম্বইয়ের ‘সংঘর্ষ' নামে একটি সংগঠন ছবিটির প্রদর্শন নিয়ে আপত্তি তুলেছে৷ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তারা৷ ‘সংঘর্ষ' মনে করে, ‘‘ভারতের মানুষের জাতীয়তাবাদী আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন উদ্যোক্তারা৷'' ‘‘ছবিটি দেখানো হলে ছেড়ে কথা বলব না''- এমন হুমকিও দিয়েছে ‘সংঘর্ষ'৷ প্রতিবাদ জানানোর জন্য পুলিশের কাছে আগাম অনুমতিও চেয়েছে তারা৷

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অভিনেতা, অভিনেত্রী অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ সেই সঙ্গে উৎসব থেকে এটি বাদ পড়ায় তাঁরা দুঃখও জানিয়েছেন৷

ভারতীয় নির্মাতা বিনোদ পান্ডে লিখেছেন, ‘‘আমি প্রতিবাদ হিসেবে এই উৎসবে যোগ দেবো না৷''

ভারতের জনপ্রিয় রেডিও নেটওয়ার্ক ‘রেডিও মিরচি'র প্রধান প্রোগ্রামিং অফিসার তাপস সেন ‘জাগো হুয়া সাবেরা'র প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘‘আমার ভালো লাগবে যদি দেখি বলিউড এই উৎসব প্রত্যাখ্যান করেছে৷ আমরা মূর্খদের বড় বেশি পাত্তা দিচ্ছি৷''

তবে ভারতের অনেক সাধারণ নাগরিক ‘জাগো হুয়া সাবেরা'র প্রদর্শন বন্ধ ঘোষণার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷

মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে ৫৪ টি দেশের ১৮০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে৷ ৮ দিনের উৎসব শেষ হবে ২৭ অক্টোবর৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়