1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পাঁচ কারখানা বন্ধ: তুবার শ্রমিকরা আবারও রাস্তায়

বাংলাদেশে তুবা গ্রুপের ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা৷ বুধবার তাঁরা বাড্ডা এলাকায় মিছিল করতে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তা পণ্ড করে দেয়৷ আটক করে শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশুকে৷

ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পেয়ে তুবা গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানার ১,৬০০ জন শ্রমিক অনশন শুরু করেন৷ ১১ দিন অনশন করার পর ঈদ পার করে দুই কিসত্মিতে তাঁদের বেতন দেয় বিজিএমইএ৷ তবে তাঁদের বোনাস এবং ‘ওভারটাইম' ভাতা এখনো দেয়া হয়নি৷ ওদিকে এরই মধ্যে মালিক দেলোয়ার হোসেন জামিনে ছাড়া পান৷

কিন্তু পাওনা আদায়ে শ্রমিকরা অবৈধ ধর্মঘট করেছেন, এমন অজুহাত দেখিয়ে তুবা গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন৷ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী, কারখানা বন্ধের এই ঘোষণা গত ১১ই জুন থেকে কার্যকর হবে৷ তুবা গ্রুপের শ্রমিকরা কারাখানা বন্ধের এই ঘোষণা পান সোমবার৷ ফলে পাঁচটি পোশাক কারখানার ১,৬০০ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন৷

এর প্রতিবাদে তুবা গ্রুপের শ্রমিকরা বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে মিছিল-সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়৷ পুলিশের বাধা ও লাঠিপেটার মুখে শ্রমিকরা তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে পারেননি৷

বুধবার দুপুরের পর থেকেই গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে তুবার শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন৷

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিছিল শুরু করার আগ মুহূর্তে বাড্ডা থানা পুলিশ বাধা দেয়৷ পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নেয়৷ এক পর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে৷ এরপর মিছিলে যোগ দিতে আসা তুবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশুকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷

এদিকে আটকের আগে মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের কারখানা বন্ধের আইনি অবস্থা ব্যখ্যা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আইন অনুযায়ী কারখানা লে-অফ করলে শ্রমিকদের কয়েক কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করতে হবে৷ সেই ভয়েই দেলোয়ার হোসেন অবৈধ ‘শ্রমিক ধর্মঘট' দেখিয়ে কারখানা বন্ধ করেছেন৷''

মিশু বলেন, ‘‘তুবার মালিককে আমরা সহজে ছেড়ে দেব না৷ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে শ্রম আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে৷ ইতিমধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছে৷ একই সঙ্গে তুবার শ্রমিকদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে৷''

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি৷ পাওনা আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম আমরা৷ কিন্তু পুলিশ স্বৈরাচারী কায়দায় আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি৷''

মিশু আরও বলেন, ‘‘শ্রমিকরা যখন মজুরি পান না, তখন পুলিশ এগিয়ে আসে না৷ কিন্তু দাবি আদায়ে যখন তাঁরা রাস্তায় নামেন, তখন পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়৷''

তবে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, ‘‘এটি খুবই ব্যস্ততম সড়ক৷ এখানে মিছিল-সমাবেশের পূর্ব অনুমতি না থাকায় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়৷'' মোশারেফা মিশুকে আটকের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘‘তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন৷''


তিন মাসের মজুরি, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে তুবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকরা ঈদের আগের দিন থেকেই শুরু করে টানা ১১ দিন উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সপ্তম তলায় কারখানায় অনশন করেন৷ শেষে বিজিএমইএ-র মধ্যস্থতায় ৬ এবং ৭ই আগস্ট দুই মাস এবং ১০ আগস্ট এক মাসের বকেয়া মজুরি ও ওভারটাইমের টাকা পান শ্রমিকরা৷ বিজিএমইএ-র সভাপতি তখন আশ্বাস দেন, শীঘ্রই শ্রমিকরা ঈদের বোনাস ও ওভারটাইম ভাতা পাবেন৷ কিন্তু তা এখনো দেয়া হয়নি৷ উল্টো দেয়া হয়েছে কারখানা বন্ধের নোটিস৷ সোমবার গ্রুপের তুবা টেক্সটাইল, তায়েব ডিজাইন, মিতা ডিজাইন, বুকশান গার্মেন্টস ও তুবা ফ্যাশনসের কারখানার ফটকে নোটিস লাগিয়ে দেন দেলোয়ারের লোকজন৷
তবে এর আগে বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন৷

এদিকে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেলোয়ারের এই সিদ্ধান্তকে ‘আইনসম্মত' বলে অভিহিত করেছেন৷ বিজিএমইএ-র সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘‘পাওনা আদায়ের জন্য উত্‍পাদন বন্ধ করা উচিত নয়৷ ফলে দেলোয়ার আইনসম্মতভাবেই কারখানা বন্ধ করেছেন৷''
তবে শ্রম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘শ্রমিকরা বেআইনি ধর্মঘট করেননি৷ ফলে ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী, কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অবৈধ৷ মালিক এ ক্ষেত্রে লে-অফ বা শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারতেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়