1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌পশ্চিমবঙ্গে এখন চিকিৎসক পেটানোই দাওয়াই!‌

রোগীমৃত্যুর জেরে সম্প্রতি কলকাতার উপকণ্ঠের এক হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় রোগীর বাড়ির লোকজন৷ পশ্চিমবঙ্গে গত ৫ মাসে এহেন ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৫০টি! এমন পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারের করা সাম্প্রতিক এক আইনকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা৷

কলকাতার এক নামি এবং দামি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীমৃত্যু এবং বিপুল অঙ্কের চিকিৎসার খরচ নিয়ে সারা রাজ্য জুড়েই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারপর পরিস্থিতির হাল ধরতে আসরে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ শহরের বিভিন্ন বড় বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তাদের তিনি বৈঠকে ডাকেন এবং সেখানে চিকিৎসার ক্রমশ বেড়ে চলা খরচ এবং তা সত্ত্বেও চিকিৎসায় গাফিলতির প্রসঙ্গ টেনে মৃদু থেকে কড়া ধমক দেন৷ তবে তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হস্তক্ষেপে ওই রোগীমৃত্যুর ঘটনায় বিলের টাকা মকুব, থানা-পুলিশ, তদন্ত, মামলা, ইত্যাদি ঘটে৷ মুখ্যমন্ত্রীর তলবি বৈঠকের পরেই রাজ্য সরকার একটি নতুন ক্লিনিকাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট বিধানসভায় পাস করে, যে আইনে চিকিৎসায় গাফিলতি এবং তার ফলে রোগীমৃত্যুর ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান দেওয়া হয়৷

কিন্তু রাজ্যের চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরাতে তড়িঘড়ি নিয়ে আসা ওই আইনে হিতে বিপরীত হয়েছে৷ সাধারণভাবে লোকের মনে একটা ধারণা হয়েছে যে, সরকারি হাসপাতালের নিখরচায় বা কম পয়সায় চিকিৎসা করানোর সুযোগ এবার কর্পোরেট হাসপাতালেও পাওয়া যাবে৷ রোগ নিরাময় না হলে, বা রোগীর মৃত্যু হলে সহজেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে, এমনকি, ক্ষেত্রবিশেষে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে ‘‌দোষী'‌ চিকিৎসক এবং হাসপাতালকে৷ ফলে কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটলে তাঁর আত্মীয়-বন্ধুদের বিক্ষোভ, হাঙ্গামার যে প্রবণতা বরাবরই ছিল এক শ্রেণির লোকের মধ্যে, তা এবার মহামারীর ব্যাপকতায় ছড়িয়ে পড়ছে৷

অডিও শুনুন 03:16

‘সবার একটা ধারণা হয়েছে যে, ডাক্তারদের পেটালে, হাসপাতাল ভাংচুর করলে শাস্তি পেতে হয় না’

তারই নমুনা দেখা গেল সম্প্রতি, দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠে জোকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন একটি ইএসআই হাসপাতালে৷ এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ির লোকজনেরা হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, অর্থাৎ আইসিসিইউতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়৷ ভেঙে দেয় ভেন্টিলেটর মেশিন ও অন্যান্য আরও অত্যাবশ্যক যন্ত্রসহ জরুরি চিকিৎসার কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম৷ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদেরও বিছানা থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে তাঁদেরও নির্মমভাবে মারধর করে স্বজনমৃত্যুর শোক পালন করল তারা!‌ এবং এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও প্রশাসনের তরফ থেকে এমন কোনও সক্রিয়তা দেখা গেল না, যাতে দোষীরা শাস্তি পায়৷

স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জয়াশিস চক্রবর্তি এই ঘটনার পর তাঁর ফেসবুক পোস্টে রাজ্যের চিকিৎসকদের একটি বক্তব্য শেয়ার করলেন, যাতে ব্যঙ্গ করে সরকারকে ‘‌অভিনন্দন'‌ জানিয়ে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরাতে সরকারের তৈরি ‘‌টাস্ক ফোর্স'‌ এবং তার মদতপুষ্ট গুণ্ডারা গত ৫ মাসে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধরের ৫০টি ঘটনা ঘটিয়েছে৷ ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির থেকেও দ্রুত এই অর্ধশত রানের জন্য সরকারকে অভিনন্দন!‌  

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এখন কী ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তার আরও একটি নমুনা উত্তর শহরতলীর সাগর দত্ত হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের এই ভিডিওবার্তা, যা তাঁরা পোস্ট করেছেন ফেসবুকে৷

ডা. জয়াশিস চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে জানালেন, চিকিৎসক হিসেবে যে কোনও রোগীর মৃত্যুই তাঁদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক৷ এবং নিছকই ব্যবসা করতে নামা হাসপাতালের গাফিলতির বিরুদ্ধেও প্রশাসনের কঠোর হওয়ার দরকার আছে৷ কিন্তু তার জন্যে অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট জায়গা আছে৷ সেখানে অভিযুক্ত চিকিৎসক দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত৷ কিন্তু তার বদলে এক শ্রেণির গুন্ডা যেভাবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে, হাসপাতালে ভাঙচুর করছে, তা কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না৷ যে হাসপাতালে অমন যথেচ্ছ ভাঙচুর করা হলো, তার আইসিসিইউর যে বিপুল ক্ষতি হলো, তার দরুণ এখন কারা ভুগবেন?‌ সাধারণ মানুষ ছাড়া কেউ নয়!‌ ডা. চক্রবর্তীর মূল আপত্তি, যেভাবে লোকের একটা ধারণা হয়েছে যে, ডাক্তারদের পেটানোই যায়, হাসপাতাল ভাঙচুর করাই যায়, তার জন্য কোনো শাস্তি পেতে হয় না — এই বিপজ্জনক মানসিকতা নিয়ে৷ এক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন তিনি, যেখানে রোগীমৃত্যু বা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগের কথাই ফলাও করে বলা হয়, কিন্তু তার পর যে তাণ্ডব চলে, যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো, তা আর জনগণের সামনে তুলে ধরা হয় না৷

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়