1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা ভয়ংকর মানসিক বিকৃতির পরিচয়'

‘‘একজন মানুষের সঙ্গে মানুষের আচরণ যেমন হওয়া উচিত, একটি পশুর প্রতি মানুষের আচরণও ঠিক সেই রকমই হওয়া উচিত৷'' ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এ কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ ফাউন্ডেশন ‘অভয়ারণ্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ৷

অডিও শুনুন 06:21

‘নিষ্পাপ প্রাণীর প্রতি মমতা দেখাতে না পারলে মানুষের প্রতি মমত্ব দেখানো যায় না’

তাঁর কথায়, ‘‘যারা পশুকে ভালোবাসে না, তারা কখনও পশুদের সঙ্গে মেশেনি বা সময় কাটায়নি৷''

রুবাইয়া আহমেদের সংগঠন ‘অভয় আরণ্য' ২০১২ সাল থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কুকুরের বন্ধ্যাকরণ ও টিকা দেয়ার কাজ করেছে৷ এ পর্যন্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে ১০ হাজারেরও বেশি কুকুরকে টিকা দেয়া ও বন্ধ্যা করেছে তারা৷ শুধু তাই নয়, গত বছরের জুন মাসে একটি কুকুরকে হত্যার দায়ে তিনজন ছেলেকে ধরে পুলিশেও দিয়েছিল সংগঠনটি৷ সেই মামলাটি এখনও চলছে৷

ডয়চে ভেলে: ‘অ্যানিমেল রাইটস' বা ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার' – যেভাবেই বলি না কেন, বাংলাদেশে এটা নিয়ে তো আইন আছে৷ তা আইনটা কি পর্যাপ্ত না এক্ষেত্রে নতুন কিছু করা দরকার?

Bangladesch Rubaiya Ahmad Tierrechtsaktivistin

রুবাইয়া আহমেদ

রুবাইয়া আহমেদ: যেটা আছে, সেটা ১৯২০ সালের আইন৷ ১৯২০ সালের আইন অনুযায়ী যে জরিমানার কথা বলা আছে, সেটা তখনকার সময়ে অনেক ছিল৷ কিন্তু ১৯২০ সালে যদি ১০০ টাকা জরিমানা হয়ে থাকে, ২০১৬ সালে এসে তো সেটা কিছুই না৷ এ কারণেই এখন এর সংশোধন দরকার৷ পাশাপাশি অনেকগুলো ‘পয়েন্ট' এর সঙ্গে যুক্ত করা দরকার, যেগুলো ঐ আইনে নেই৷ আসলে আইনটা যে খুব খারাপ তা নয়, কিন্তু অনেক পুরনো৷ তাছাড়া আইনটা সুনির্দিষ্ট না৷ তাই আমার মনে হয়, আইনটাকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে এবং ২০১৬ সালের উপযোগী করে তুলতে হবে৷

আমাদের দেশে তো ‘অ্যানিমেল' বা প্রাণী কয়েক ধরনের আছে, আপনারা কোন ধরনের প্রাণী নিয়ে কাজ করেন?

প্রাণী কল্যাণের আওতাভুক্ত সব ধরনের ‘অ্যানিম্যাল', মানে চতুষ্পদী-দ্বিপদী সব ধরনের প্রাণী নিয়ে আমরা কাজ করি৷ একটা জায়গা থেকে তো শুরু করতে হয়৷ তাই আমরা সবচেয়ে অবহেলিত, কুকুর নিয়ে কাজ শুরু করেছি৷ এর পাশাপাশি আমরা গৃহপালিত পশু, যেমন গরু, ছাগল, হাস, মুরগি নিয়েও কাজ করছি৷ কারণ এদের আমরা খাবার ছাড়া আর কিছুই ভাবি না৷ তাদের প্রতি আচরণ কেমন হবে, তা নিয়েও আমাদের কাজ শুরু হয়েছে৷ সব প্রাণীই আমাদের কাজের আওতাভুক্ত, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের ‘ফোকাস' হচ্ছে কুকুর৷

পশুর প্রতি মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

পশুর প্রতি মানুষের আচরণ হওয়া উচিত – একজন মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ যেমন, ঠিক তেমন৷ প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আপনি যদি পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে পারেন, তাহলে আপনি মানুষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারবেন না৷ পশু-পাখি এত নিষ্পাপ, এত ‘ইনোসেন্ট', যা আপনি মানুষের মধ্যেও পাবেন না৷ পশু-পাখি তো কোনো পাপ করতে পারে না৷ এত নিষ্পাপ প্রাণীর প্রতি যদি আমরা মমতা দেখাতে না পারি, তাহলে মানুষের প্রতি মমত্ব দেখানোর কোনো বিষয় তৈরি হয় না৷ সারা বিশ্বে স্বীকৃত যে, মানুষের প্রতি মানুষের ‘ভায়োলেন্স' বা সহিংসতার সূত্রপাত হয় পশু-পাখির প্রতি ‘ভায়োলেন্স' থেকে৷ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই একটা রিপোর্ট করেছিল যে, তাদের দেশের অধিকাংশ সিরিয়াল কিলারদের ‘অ্যানিমেল অ্যাবিউজ' করার ‘ব্যাকগ্রাউন্ড' আছে৷ ছোটবেলা থেকে প্রাণীদের ওপর নির্যাতন করার প্রবণতা থাকলে এবং সেটা নিয়ে কেউ যদি কিছু না বলে, তাহলে তারা বড় হয়ে মানুষের প্রতিও অমানবিক আচরণ করে৷ একটার সঙ্গে অন্যটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ তাই ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার' ছাড়া ‘হিউম্যান ওয়েলফেয়ার' সম্ভব না৷ একটাকে বাদ দিয়ে একটা করতে হবে, এমনটাও না৷ সব একসঙ্গে করতে হবে, করা সম্ভবও৷ আর সেটাই একটা জাতির লক্ষ্য হওয়া উচিত৷

আপনি কিভাবে ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার'-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন? বা আপনার ভালোবাসাটা কিভাবে তৈরি হলো?

আমার ভালোবাসাটা দুঃখের জায়গা থেকে তৈরি হয়েছে৷ আমার পোষা কুকুরটাকে ২০০৯ সালে সিটি কর্পোরেশন মেরে ফেলে৷ রাগ করে বসে থেকে তো লাভ নেই...৷ তা সেই রাগটাকে কাজে লাগাতে পারার সৌভাগ্য আমার হয়েছে৷ যারা কুকুর-বিড়াল ভালোবাসে না বলে, বা পশু-পাখি ভালোবাসে না বলে, তারা কখনও ওদের সঙ্গে সময় কাটায়নি৷

আপনার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ ফাউন্ডেশন৷ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আপনারা যৌথভাবে কুকুরের ‘বার্থ কন্ট্রোল' নিয়ে কাজ করছেন৷ সেটা কতদূর এগুলো বা কী পরিমাণ কাজ ইতিমধ্যে হয়েছে?

২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমরা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩৬টি ওয়ার্ডে ১০ হাজারেরও বেশি কুকুরকে বন্ধ্যাকরণ ও টিকা দিয়েছি৷ গত বছরই এই ‘প্রোগ্রামটা' গোটা ঢাকা শহরে প্রসারিত হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু নির্বাচনসহ নানা জটিলতার কারণে এগোয়নি৷ এখন নির্বাচিত দুই মেয়র আমাদের অসম্ভব রকম সহযোগিতা করছেন৷ আশা করছি, শিগগিরই আমরা নতুন করে আবার কাজ শুরু করবো৷

আমরা জানি যে, গত বছরের জুনে একটি কুকুরকে হত্যার দায়ে তিনটি ছেলেকে ধরে আপনারা পুলিশে দিয়েছিলেন৷ সেই মামলার সর্বশেষ অবস্থা কী?

আগামী মার্চ মাসে মামলার একটা ‘হিয়ারিং' আছে৷ আমরা যাবো, আমাদের দিকটা বলবো৷ এই ধরনের কাজকে আমরা ‘এনকারেজ' করি না৷ আমাদের সমাজে এই ছেলেগুলোকে হয়ত কেউ এ সব হাতে ধরে শেখায়নি যে, কুকুরকে বা প্রাণীদের এভাবে আঘাত করতে হয় না৷ আমরা কোর্টের কাছে আবেদন করবো যেন ঐ ছেলেগুলোর ‘পার্মানেন্ট রিহ্যাবিলিটেশন' হয়৷ শুধু এরা না, যারা পশু নির্যাতন করবে, তাদের সবার ‘রিহ্যাবিলিটেশন' দরকার৷ কারণ এটা একটা ভয়াবহ মানসিক বিকৃতি৷ এটা সমাজে ছড়িয়ে গেলে, তা ভয়ংকর হবে৷

বন্ধু, পশুর প্রতি মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়