1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় ফের কাঠগড়ায় লালুপ্রসাদ

বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় তহবিল তছরুপের অপরাধে ২০১৩ সালে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের পাঁচ বছর জেল হয়৷ এক বছর পর জামিন পান৷ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অন্য সব মামলাতেও তাঁর আবার আলাদা করে বিচার হবে৷

প্রায় তিরিশ বছরের পুরোনো বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলার ভূত এখনও তাড়া করে যাচ্ছে রাজ্যের মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবকে৷ এখন এই পরিস্থিতিতে নীতিশ কুমার সরকারের স্থায়ীত্ব নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷ আরজেডি বিহার বিধানসভার একক বৃহত্তম দল৷  ২০১৫ সালের বিহার বিধানসভার নির্বাচনে ২৪৩টি আসনের মধ্যে আরজেডি একাই পায় ৮০টি আসন৷ মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল (ইউ) পায় ৭১টি আসন আর কংগ্রেস পায় ২৭টি আসন৷ এই তিন দল নিয়েই বিহারে এখন মহাজোট সরকার৷ লালুপ্রসাদের দুই ছেলে মন্ত্রী৷ ছোট ছেলে তেজস্বী উপ-মুখ্যমন্ত্রী৷ বিরোধীদলের আসনে বিজেপি৷

পরিস্থিতির সুযোগ নিতে আসরে নেমে পড়েছে বিজেপি৷ পরামর্শ দিয়ে বলেছে, নীতিশ কুমারের স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারের ভাবমূর্তি বাঁচাতে উচিত হবে অবিলম্বে আরজেডিকে বাদ দেওয়া৷ লালুপ্রসাদের দলের সঙ্গ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসা৷ কারণ, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আন্দোলনে এক সময় সব চেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছিলেন জেডি (ইউ) নেতা নীতীশ কুমার স্বয়ং৷ দরকার হলে নীতিশ কুমারের সরকারকে বাঁচাতে সমর্থন দেবে বিজেপি৷ বিহার বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ৫৩ জন বিধায়ক৷

নীতিশ কুমার পড়েছেন মহাফাঁপরে৷ বর্তমানে নীতিশ কুমারের চুপ থাকাকে কটাক্ষ করে বিজেপি বলতে শুরু করেছে, নিজের গদি বাঁচানোটাই কি নীতিশ কুমারের চুপ থাকার আসল কারণ মনে করতে হবে? নীতিশ কুমারের অবস্থান কী হবে সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সম্ভবত বিহারের রাজনীতি একটা নতুন মোড় নিতে পারে৷ বিজেপি সেই সুযোগটা হাত ছাড়া করবে না৷ পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করার পর এবার নিশানা বিহার৷

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে মোট ৬৪টি মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই৷ তার মধ্যে ৬টি মামলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ৷ এই ছয়টি মামলার একটিতে সিবিআই-এর বিশেষ আদালতের রায়ে লালুপ্রসাদের পাঁচ বছরের জেল হয় এবং ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হয় ২০১৩ সালে৷ শুধু তাই নয়, পরবর্তী ছয় বছর কোনো নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না লালুপ্রসাদ৷ এক বছর জেল খাটার পর অবশ্য তিনি জামিনে ছাড়া পান৷ দুর্নীতির অভিযোগে নাজেহাল হয়ে লালুপ্রসাদ যাদবকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে হয় ১৯৯৯ সালে৷ কিন্তু ক্ষমতা হাতছাড়া না করে  মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসান গৃহবধু স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে ২০০০ সালে৷

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিটা কী? গৃহপালিত পশুখাদ্য এবং ভেটের্নারি ওষুধপত্র কেনার জন্য সরকারি ট্রেজারি থেকে ভুয়া রসিদ ও বিল দেখিয়ে সবশুদ্ধ প্রায় হাজার কোটি টাকা তছরুপ করা হয়৷ সিবিআই-এর তদন্তে এমন অভিযোগই উঠে আসে৷ রাজ্যের চাঁইবাসা ট্রেজারি থেকে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা এইভাবে গায়েব করা হয় যার মধ্যে লালুপ্রসাদের হাত আছে বলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়৷ অন্য মামলাগুলির বিচারের আর্জি জানালে ঝাড়খন্ড হাইকোর্টের রায় এক জনের বিরুদ্ধে একই ধরণের দুর্নীতি মামলার দ্বিতীয়বার বিচার হতে পারে না৷

২০১৪ সালে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালতের এক ডিভিশন বেঞ্চ ঝাড়খন্ড আদালতের রায় খারিজ করে রায় দেন যে, লালুপ্রসাদের বিরুদ্ধে যতগুলি মামলা রয়েছে, তার সবকটিরই পৃথক বিচার হবে৷ উল্লেখ্য, মাত্র দিন কয়েক আগে দিল্লির তিহার জেলে আটক লালুপ্রসাদের সাকরেদ মাফিয়া ডন সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে লালুপ্রসাদের কথোপকথনের রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আসে৷ বিহারে এখনও মাটি বিক্রির দুর্নীতি, জমি বেচার দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক চলছে৷ ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে লালুপ্রসাদের৷ আরজেডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এত দুর্নীতির অভিযোগের কোনোটাই শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকবে না. দলে কিংবা সরকারে এর প্রভাব পড়বে না৷ মহাজোট যারা ভাঙতে চাইছে, তাঁদের কাছে সেটা মরীচিকামাত্র৷ লালুপ্রসাদের আইনজীবী রাম জেঠমালানিও মনে করেন, এসবের জন্য লালুপ্রসাদের কোনো সমস্যা হবে না৷ উল্লেখ্য, রাম জেঠমালানী আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়