1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘পলিটিশিয়ান, নকলবাজ, অদক্ষ ডাক্তারদের কাছে কী আশা করবো?'

একটা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেল ১০ জন শিশু৷ মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের দায়ী করছেন অনেকেই৷ এক পাঠক মনে করেন, রাজনীতিতে ব্যস্ত নকলবাজ, অদক্ষ ডাক্তারদের কাছে ভালো কিছু আশা করাই ভুল৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছিল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় তিন সদ্যোজাতসহ ১০ শিশুর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়ের খবর৷ মৃত শিশুদের স্বজনরা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ৷ তাঁরা মনে করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই অকালে ঝরে গেছে তাঁদের সন্তানদের প্রাণ৷

ফেসবুকে এ বিষয়ে পাঠকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ দেখা গেছে বেশির ভাগ পাঠকই মৃত শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে একমত, অর্থাৎ ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের ফেসবুকে মন্তব্য করা অধিকাংশ পাঠকই মনে করেন, চিকিৎসকরা যথাযোগ্য গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করেননি বলেই ১০টি পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে৷

মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন লিখেছেন, ‘‘সাবধান! এই কসাইদের বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না, কোনো অ্যাকশন নেয়া যাবে না৷ এদের বিরুদ্ধে লিখলে ওরা পিটিয়ে সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙে দেবে আর অ্যাকশন নিতে চাইলে একযোগে সবাই রোগীদেরকে জিম্মি করে কর্মবিরতি পালন করবে৷ এই হলো আমাদের দেশের ডাক্তার (নাকি সফদার ডাক্তার)!''

ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, ‘‘এটা চিকিৎসকদের ব্যর্থতা, যেটা তাদের কর্মপ্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে৷''

Bangladesch Vitamin A Kapseln Archiv 2012

শিশুদের ঠিকমতো চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন

চিকিৎসায় অবহেলা করা মানে মানুষের জীবনকে অবহেলা করা, জীবন নিয়ে একরকম ছিনিমিনি খেলা৷ একটা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এমন হলে তো এতগুলো শিশু এত অল্প সময়ে মারা যেতে পারে না৷ আবার এক হাসপাতালের বেশিরভাগ শিশুরোগ চিকিৎসকই দায়িত্বসচেতন নন – এমনটা কি হতে পারে?

পেয়ার হোসেন তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের আরেকটি বড় বাস্তবতা৷ বাংলাদেশে সব পেশাতেই কিছু মানুষের মধ্যে দলীয় রাজনীতির প্রতি আনুগত্য মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷ শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন সর্বত্রই পড়ছে দলীয় রাজনীতির কুপ্রভাব৷ পেয়ার হোসেন সে কথাই মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘‘পলিটিশিয়ান, নকলবাজ, অদক্ষ ডাক্তারদের কাছে আর কী আশা করা যায়? এরকম ট্র্যাজেডি এই প্রথম নয় নিশ্চয়ই!''

তবে কয়েকজন পাঠক আবার শিশুদের এই মৃত্যুর জন্য ডাক্তারদের দায়ী করার বিপক্ষে৷ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন এর বিরোধীতা করেছেন ধর্মীয় অনুভূতি থেকে৷ তিনি জানিয়েছেন, দশটি শিশুর মৃত্যুর জন্য তিনি ডাক্তারদের দায়ী মনে করেন না, কারণ, ‘‘এ সব আল্লাহর নিয়ামত৷'' মেরাজ হোসেনও তাঁর সঙ্গে একমত৷ তিনি মনে করেন, ‘‘ডাক্তারের হাতে কারো হায়াত নেই, বাঁচা-মরার নিয়ম এক আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা, কোনো ডাক্তার কখনো কোনো রোগীকে বাঁচাতে পারেনি৷''

শামীম রেজা অবশ্য একজন ডাক্তারের পক্ষে যে দায়ীত্ব অবহেলা করা সম্ভব সেটাই বিশ্বাস করেন না৷ তাঁর মতে, ‘‘ডাক্তাররা কখনো এমন কাজ করতে পারে না৷ আর ভুল হলে একজনের ক্ষেত্রে হবে দশজনের ক্ষেত্রে নয়৷''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়