1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে বন্যা দুর্গতদের বিক্ষোভ

পাকিস্তানের কয়েকটি স্থানে বন্যাদুর্গতরা ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে৷ বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ পোঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার৷ ত্রাণ নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ৷

default

বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ পোঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার

বন্যায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ লাখ লোক ঘর-বাড়ি হারিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে৷ রেডক্রস বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত ২৫ লাখ৷ বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছে ১৫শ জন৷ ডায়রিয়া-কলেরার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ, যার অধিকাংশই শিশু৷

অতিবৃষ্টির কারণেই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এই বন্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন৷ পানিতে তলিয়ে গেছে পাশের পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাও৷ বলা হচ্ছে, গত ৮০ বছরে দেশে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা৷ এলাকাটি পাহাড়ি, ফলে বন্যার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসও হয়েছে৷

Pakistan Flut Katastrophe 2010 Flash-Galerie

জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন পাকিস্তানকে দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের৷ তাঁরা বলছেন, যেটুকু ত্রাণ কার্যক্রম চলে, তা ঠিকমতো চোখেই পড়ে না৷ নওশের জেলায় একটি উঁচু সড়কে আশ্রয় নেওয়া ফয়সাল ইসলাম বললেন, ‘‘গায়ে যে জামাটি দেখছেন, এর বেশি আর কিছু এখন আমার নেই৷ যেটুকু খাবার আসে, তাতে সবার হয় না৷ আমাদের দরকার আরো খাবার, আরো তাঁবু৷'' সোমবার বিকালে প্রায় আড়াইশ লোক নওশের জেলার প্রধান সড়ক অবরোধ করে৷

খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী মিয়া ইফতিখার হোসাইন বার্তামাধ্যমকে বলেন, ‘‘বন্যায় ১৫শ লোক মারা গেছে৷ ঘর হারিয়েছে পাঁচ লাখ মানুষ৷ দুর্গত মানুষের সংখ্যা ১৫ লাখ৷'' দেশটির সবচেয়ে বড় দাতব্য সংস্থা এডি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আনোয়ার আজমি জানান, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে সোয়াতে, ৪৭৫ জন৷ প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহির আলী শাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘এই পর্যন্ত ১ লাখ লোক ডায়রিয়া ও কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে৷ এর অধিকাংশই শিশু৷''

Pakistan Flut Katastrophe 2010 Flash-Galerie

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ লাখ লোক ঘর-বাড়ি হারিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে

রেডক্রস সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানে বন্যা কবলিত এলাকায় ২৫ লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে৷ অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েছে৷ পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অনেক এলাকা যোগোযাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ সেখানে আটকেপড়া অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে৷

সরকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো দুর্গত এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে৷ কাজ করছে সেনাবাহিনীও৷ তবে সোয়াতে ২৭ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর৷ স্থানীয়রা অবশ্য বলছেন, এই সংখ্যা আরো বেশি৷ সোয়াতের জনপ্রতিনিধি জাফর শাহ বলেন, ‘‘বেহরাইন থেকে কালাম পর্যন্ত পুরো সড়ক তলিয়ে গেছে৷ সঙ্কটে আছে অনেক মানুষ৷ প্রায় ৪০ হাজার লোক আটকা পড়ে আছে৷ এর মধ্যে দুই থেকে তিন হাজার পর্যটক৷''

Pakistan Flut Katastrophe 2010 Flash-Galerie

ত্রাণ পৌঁছনোর জন্য হেলিকপ্টার ও নৌকাও পাঠাচ্ছে পাকিস্তান সরকার৷ কিন্তু তা সময় মতো পৌঁছাবে কি ?

সোয়াতের কয়েকটি এলাকায় ত্রাণকর্মী বা সেনা সদস্যরা এখনো পৌঁছতে পারেনি৷ সরকারের হিসেবে, ওই এলাকায় ২৯টি সেতু ভেসে গেছে৷ সেনাবাহিনী বলছে, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে৷ গত কয়েকদিনে উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ হাজার পানিবন্দি মানুষকে৷ আনোয়ার আজমি বলেন, ‘‘দুর্গতদের জন্য আহার আর আশ্রয় এখন খুবই জরুরি৷ তবে অবস্থা খুবই খারাপ৷ বিশেষ করে নারী ও শিশুদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে৷''

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী দুই সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে৷ ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি এরইমধ্যে মিলতে শুরু করেছে৷ জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন পাকিস্তানকে দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারাও ১ কোটি ডলারের ত্রাণ সহায়তা দেবে৷ সেইসঙ্গে দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছনোর জন্য হেলিকপ্টার ও নৌকাও পাঠাচ্ছে তারা৷ ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কনসাল জেনারেল এলিজাবেথ রুড বলেন, ‘‘গত রাতেই আমরা ৬২ হাজার প্যাকেট খাবার দিয়েছি৷ এগুলো বিলি করবে প্রাদেশিক সরকার৷ আরো খাবার আসছে৷'' চীনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ১৫ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা পাঠাবে৷ জরুরি সাহায্য দিচ্ছে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক