1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পর্যটন উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না

পশ্চিমের পর্যটন শিল্প উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টুরিস্ট বা পর্যটক পাঠিয়ে কোটি কোটি ডলার রোজগার করছে৷ কিন্তু সেই ব্যবসা থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে স্বল্প কিছু মানুষ লাভবান হচ্ছে৷ অন্যদিকে রয়েছে নানা সংকট ও সাধারণভাবে দুর্নীতি৷

মিশরে লোহিত সাগরের তীরে সৈকতাবাসগুলোতে টুরিস্টদের ভিড় নেই৷ কাজেই বহু হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা তাঁদের কর্মীদের বিনা বেতনের ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন৷ অথচ ২০১১ সালের বিপ্লবের পর মিশরের পর্যটন শিল্প সবে নিরাময়ের পথে যাচ্ছিল: ২০১২ সালে এক কোটি ১৫ লাখ পর্যটক মিশরে আসেন, অর্থাৎ ২০১১-র তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি৷

জাতিসংঘের বিশ্ব টুরিজম সংগঠন ডাব্লিউটিও-র মুখপাত্র সান্ড্রা কারভাও ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন: ‘‘টুরিজম হলো বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে নিশ্চিত শিল্পগুলির মধ্যে একটি৷ টুরিজমের উপর প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা সংঘাতের অব্যবহিত প্রভাব পড়ে বটে, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পর্যটন শিল্প আবার সু্স্থির হয়, এমনকি সংকটের আগে যা ছিল, তার চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে৷''

Bildergalerie Oslo Norwegen

পর্যটন কি উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে?

‘পর্যটন হলো উন্নয়নের মোটর'

ইউএনডাব্লিউটিও-র মোদ্দা কথা হলো, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলিতে পর্যটন হলো উন্নয়নের মোটর বিশেষ৷ পরিসংখ্যান বলে, বিশ্বের অর্থনৈতিক গতিবিধির নয় শতাংশ আসে পর্যটন থেকে; বিশ্বের প্রত্যেক পঞ্চম চাকুরিস্থান এই পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল – মিশরের ক্ষেত্রে মোট চাকুরির ১৩ শতাংশ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভর৷

কারা এই পোষ্য? হোটেলের মালিক ও কর্মীরা, ট্যাক্সিচালক, সুভেনির বিক্রেতা; সেই সঙ্গে পূর্ত শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারী-কারিগরেরা; কার্পেট তৈরির মানুষজন; কৃষিজীবী ও অন্যান্যরা যারা হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিকে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করেন; এমনকি হোটেলের জামাকাপড় ধোয়া কিংবা মেরামতের কাজ যাঁরা করেন, সকলেরই রুজি নির্ভর ঐ টুরিস্টদের উপর৷

পরিসংখ্যান এক কথা৷ কিন্তু এ সব কাজের ধরন অথবা পারিশ্রমিকের কম-বেশি সম্পর্কে পরিসংখ্যান থেকে বিশেষ কিছু জানা যায় না৷ জার্মানির প্রটেস্টান্ট গির্জার ‘ব্রোট ফ্যুর দি ওয়েল্ট' উন্নয়ন সেবার আন্টিয়ে মন্সহাউজেনের সেখানেই আপত্তি৷ ‘‘(এগুলো হলো) কম যোগ্যতার, মরশুমের চাকরি৷ যেগুলোয় পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই,'' ডয়চে ভেলেকে বলেন আন্টিয়ে৷

Bildergalerie Megacities Kairo

‘পর্যটন শিল্পের চাকরিগুলো কম যোগ্যতার, মরশুমের চাকরি’

প্রমোদকাননে দারিদ্র্য

‘‘টুরিস্টদের পক্ষে আকর্ষণীয় বহু উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে৷ যা থেকে প্রমাণ হয় যে, টুরিজমকে নিঃশর্তভাবে উন্নয়নের মোটর হিসেবে গণ্য করা চলে না৷'' মিশরের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের জীবন কাটে জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নীচে৷ কেনিয়ার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল পথ হলো পর্যটন, দেশের জিএনপি-র ১১ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে৷ কিন্তু এখানেও দেশের জনগণের অর্ধেককে দিনে দু'ডলারের কম আয়ে জীবনধারণ করতে হয়৷

অপরদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্যও উন্নয়নের প্রয়োজন: স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো ও পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদের টেঁকসই ও সংবেদনশীল ব্যবহার – এসবই তার অঙ্গ৷ ‘‘গুড গভরন্যান্স'' বা সুশাসন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণকে সংশ্লিষ্ট করা ছাড়া টুরিজম লব্ধ অর্থে সাধারণভাবে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়৷

Symbolbild Heißluftballon in Ägypten abgestürzt

‘বিশ্বের প্রত্যেক পঞ্চম চাকুরিস্থান পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল’

বাস্তব ও নীতিমালা

কিন্তু বাস্তবে যা ঘটে থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রেই ঠিক তার উল্টো৷ ইয়ট প্রমোদতরীর নোঙর ফেলার বন্দর তৈরির জন্য জেলেদের মাছ-ধরা নৌকা নির্বাসিত হয়৷ পশুপক্ষির জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণের সময় স্থানীয় জনগণকে বিতাড়ন কিংবা পুনর্বাসিত করা হয়৷ এছাড়া বিমানবন্দর কিংবা হোটেল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ কিংবা বেদখল-জবরদখল তো আছেই৷ পর্যটনের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে এ সব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন আন্টিয়ে মন্সহাউজেন৷

বিষয়টি ডাব্লিউটিও-র কাছেও গুরুত্বপূর্ণ৷ ১৫৫টি দেশ আজ বিশ্ব পর্যটন সংগঠনের সদস্য৷ ১৯৯৯ সালেই ডাব্লিউটিও একটি টুরিজম সংক্রান্ত কোড অফ এথিক্স বা নীতিমালা গ্রহণ করে৷ কিন্তু সেই দশ-দফা নীতিমালা কোনোকালেই বিশেষ কার্যকরি হতে পারেনি৷ তার মূল কারণ: নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, কিংবা লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের অথবা বিচার করার কোনো সুযোগ সংগঠনের নেই৷

আফ্রিকার সুবিখ্যা ভিক্টোরিয়া ফল্স জলপ্রপাতের কাছে বসেছে ডাব্লিউটিও-র এ বছরের বাৎসরিক সম্মেলন৷ চলবে ২৯শে আগস্ট অবধি৷ তবে সম্মেলনে এতটা কণ্টকিত একটি সমস্যার কোনো চটজলদি সমাধানের আশা কম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়