1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

পর্যটনও একটা শিল্প

জার্মানি শিল্প-প্রযুক্তির দেশ৷ আবার এদেশে বেড়াতে এলে মনে হবে, যেন পর্যটনের দেশ৷ জার্মানরা আসলে শিল্প এবং পর্যটন, দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দেন, সমান আন্তরিকতার সঙ্গে হাসিল করেন৷

বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টিকোণ থেকে জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশগুলির একটি৷ আবার জার্মানরা বিদেশের মতো স্বদেশেও বেড়াতে ভালোবাসেন, যদিও সেখানে পার্থক্য থেকে যায়৷ বিদেশি টুরিস্টদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় এলাকা হলো বাভেরিয়া৷ দেশি পর্যটক, অর্থাৎ জার্মানদের কাছে কিন্তু মেকলেনবুর্গ আর পশ্চিম পমেরানিয়া৷

সব মিলিয়ে জার্মানির পর্যটন শিল্পের বাৎসরিক লেনদেনের পরিমাণ হলো ১৪,০০০ কোটি ইউরো৷ জার্মানির জিডিপির প্রায় নয় শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে৷ এই শিল্পে কাজ করেন ২৮ লাখ মানুষ৷ বছরে সাড়ে বারো কোটি অতিথি, তাদের মধ্যে দশ কোটি বিদেশি আর আড়াই কোটি স্বদেশি, মানে জার্মান৷ পরিসংখ্যান আপনাকে জানিয়ে দেবে যে, জার্মানির ৫৪,১৬৬টি হোটেলে প্রায় ২৬ লক্ষ বেড বা শয্যা আছে৷ এইসব হোটেলে বছরে মোট ৩৫ কোটি রাত্রিবাস করেন দেশি-বিদেশি টুরিস্টরা

জার্মানিতে সব কিছুরই হিসেব আছে, সব কিছুই গোণা আছে, নথিবদ্ধ করা আছে৷ কাজেই আমরা আরো জানাতে পারি যে, জার্মানিতে ৬,১৩৫টি মিউজিয়াম, ৩৬০টি থিয়েটার, ৩৪টি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ৪৫,০০০ টেনিস কোর্ট, ৬৪৮টি গল্ফ লিংকস ও ১২২টি ন্যাশনাল পার্ক ৷ সেই সঙ্গে আছে মাঠে-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর ১ লাখ ৯০,০০০ কিলোমিটার পায়ে হাঁটার পথ; আর আছে সাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর ৪০,০০০ কিলোমিটার পথ৷

টুরিস্টরা কেন জার্মানিতে আসেন?

প্রথমত এদেশে টুরিজমের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অবকাঠামো আছে৷ পরিবহণ, হোটেল, আর্থিক লেনদেন বা কেনাকাটা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা – সবচেয়ে বড় কথা, নিরাপত্তা, এ সবই বর্তমান৷

দ্বিতীয়ত, নৈসর্গিক বিচারে দেশটা চমকপ্রদ না হলেও, সুখপ্রদ, অর্থাৎ সুন্দর ও সবুজে ঢাকা৷ পোল্যান্ড কিংবা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশ থেকে জার্মানিতে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়ে এখানকার মাঠপ্রান্তর, বন-বনানী যেন পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে, সাজিয়ে-গুছিয়ে, ইউনিফর্ম পরিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েদের মতো সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া এক প্রকৃতি৷ আবার সুইস অাল্প্সের উদাত্ততাও নেই এখানে, নেই ইটালির রেনেসাঁস শিল্পীর তেলরঙে আঁকা ক্যানভাসের মতো গাঢ় নান্দনিকতা৷ কিন্তু এখানকার প্রকৃতি ফসল দেয়, দেয় স্বাস্থ্য, দেয় হাঁপ ছাড়ার জায়গা৷

তৃতীয়ত, ইউরোপ জুড়ে যুদ্ধে ভাঙচুর রোমানদের আমল থেকেই হচ্ছে, দুই বিশ্বযুদ্ধের তো কথাই নেই৷ তার মধ্যে যে ক'টি দেশ সেই সব ভাঙা বা না ভাঙা, আধভাঙা সব দুর্গ-প্রাসাদ-স্মৃতিসৌধ সারিয়ে, রং-মেরামত করে, সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে পেরেছে, তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে জার্মানির নাম করতে হয়৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

এদেশে পাঁচশ'-সাতশ' বছরের পুরনো আধা কাঠের বাড়িগুলোকে রাখা হয় নতুন বাড়িগুলোর চেয়েও বেশি যত্নআত্তি করে৷ মালিকের টাকা না থাকলে, সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়, কেননা, একটা দেশ, একটা জাতির অতীতকে বাঁচিয়ে রাখার কর্তব্য তো শুধু এককভাবে নাগরিকের হতে পারে না৷

ইতিহাস ইতিহাসই

ইতিহাসের ভালো-মন্দ, নীতি-নৈতিকতা নেই৷ মানুষকে যা টানে, মানুষ যা দেখতে চায়, তাই ইতিহাস৷ তাই বার্লিন প্রাচীরের অবশেষ আর চেকপয়েন্ট চার্লি দেখতে জার্মানিতে আসেন বহু পর্যটক৷ সেই পর্যটকরাই আবার রাইন নদের ধারে রোমক উপনিবেশের চিহ্ন দেখতে যান, যা গত শতাব্দীর না হয়ে পাক্কা দু'হাজার বছর পুরনো৷ এভাবেই ব্যারোক, রকোকো, রোম্যান্টিক বা নিও-ক্লাসিক্যাল স্থাপত্য ও শিল্পকলার হাজার বছরের নিদর্শন সযত্নে রক্ষিত ও সুরক্ষিত আছে জার্মানিতে - টুরিস্টদের অপেক্ষায়৷

শুধু জার্মানি কেন, ইউরোপের প্রায় সব দেশ, সব জাতিই অল্পবিস্তর টুরিজমের মর্ম বোঝে বা আবিষ্কার করে ফেলেছে৷ টুরিস্ট মানে যে বাড়ি এসে বিজ্ঞাপন দেখে যায়, অন্য আরো পঁচিশ ধরণের পঁচিশটা পণ্যের বিজ্ঞাপন৷ উন্নত দেশে সব শিল্পই সব শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, সব মিলিয়ে যেন একটি সিমফনি অর্কেস্ট্রা৷ অনেকগুলি বাদ্যযন্ত্র বাজছে, কিন্তু ঐকতানে৷ তৃতীয় বিশ্বে একতরফাভাবে টুরিজমের ডেভেলপমেন্ট করার চেষ্টা করা হয়৷ জার্মানিতে দেখেশুনে মনে হয়, সর্বাঙ্গীন ডেভেলপমেন্ট ছাড়া টুরিজমের ডেভেলপমেন্টও সম্ভব নয়৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়