1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পর্যটকদের চাপে বেহাল বার্সেলোনার বাসিন্দারা

লন্ডনের বিগ বেন, প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মতো বার্সেলোনা শহরের প্রতীক এক অভিনব গির্জা ও তাকে ঘিরে চত্বর৷ কিন্তু পর্যটকদের ভিড়ে সংলগ্ন এলাকার চরিত্র বদলে যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে৷

পর্যটকদের কাছে বার্সেলোনা শহরের মূল আকর্ষণ ‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বর, যেখানে স্থপতি গাউডি-র অসমাপ্ত গির্জাটি দেখে দর্শকদের চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে ওঠে৷ কেউ বলেন, ‘‘অসাধারণ! বর্ণনার ভাষা পাচ্ছি না৷ এটা আমার স্বপ্ন ছিল৷'' আরেক জনের মন্তব্য, ‘‘এই শহরে মাত্র ৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছি৷ মনে হলো, এটা দেখতেই হবে৷'' আর এক পর্যটক বললেন, ‘‘গির্জার চারিদিকে এমন খোলা জায়গা রাখা দারুণ আইডিয়া৷ ভিতরে যাবার আগেই শান্তির পরিবেশ৷''

৩০ লাখ মানুষ প্রতি বছর ‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বরে আসেন৷ সেখানে বার্সেলোনার বাসিন্দারা প্রায়ই কোণঠাসা হয়ে পড়েন৷ এই এলাকার মানুষের কাছে ‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বর জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠেছে৷ ফ্যার্নান্দো লাস্ত্রা ও ফ্রানসিস্কো বোয়েরা সপরিবারে প্রায় ৪ দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন৷ এটাই তাঁদের বাড়ি৷ পরিবারের শিশুরা এখানেই বড় হয়েছে৷ কিন্তু জায়গাটিকে ঘিরে এত মাতামাতি আর সহ্য হচ্ছে না৷ স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রানসিস্কো বোয়েরা বলেন, ‘‘আগে এই আবাসিক এলাকায় দিব্যি আরামে হাঁটাচলা করা যেত৷ এখন শুধু অস্থির পরিবেশ৷'' তাঁরই প্রতিবেশী ফ্যার্নান্দো লাস্ত্রা মনে করেন, ‘‘এখন জায়গাটা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হয়ে উঠেছে৷ পর্যটকদের ভিড়, বাস, প্রতারক, পকেটমার এই সব৷''

এলাকার বাসিন্দাদের এক সংগঠন কয়েক বছর ধরে ‘সাগরাদা ফামিলিয়া'-র মূল চরিত্র ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ পর্যটকদের জন্য দোকানের চাপে বেকারি ও মাছের দোকানও উধাও হয়ে গেছে৷ সাগরাদা ফামিলিয়া নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধি জোয়ান ইচাসো বলেন, ‘‘এখানে পর্যটকদের সুভেনির শপ ও ফাস্ট ফুট রেস্তোরাঁর এক একপেশে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে৷ তাদের হাতে অনেক টাকা, তাই দোকানের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে৷ ফলে এলাকার বৈচিত্র্যের থেকে টাকার জোরই বড় হয়ে উঠেছে৷''

‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বর থেকে ছোট ছোট দোকান উধাও হওয়া বন্ধ করতে শহর কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট নিয়ম স্থির করার চেষ্টা করছে৷ শহর কর্তৃপক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার কারণে কয়েকটি সুভেনির শপ বন্ধ হয়ে গেছে৷ বার্সেলোনা শহর কর্তৃপক্ষের আলভ্যার্ট সিভিট বলেন, ‘‘ভুল তথ্য দিয়ে দোকান খোলা হয়৷ যা বলে, তা বিক্রি করে না৷ ধীরে ধীরে সুভেনির শপে পরিণত হয়৷ তাই আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এমনটা না হয়৷''

শহর কর্তৃপক্ষের উপর ফ্যারনান্দো লাস্ত্রা, ফ্রানসিস্কো বোয়েরা সহ প্রতিবেশীদের তেমন আস্থা নেই৷ তাঁরা জানেন, ‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বরের আশেপাশে অনেক বাড়ি ভেঙে ফেলার কথা৷ গির্জা ও দর্শকদের আপ্যায়ন কেন্দ্র আরও বাড়ানো হবে৷ আদি বাসিন্দাদের সরে যেতে হবে৷ ফ্রানসিস্কো বোয়েরা বলেন, ‘‘জীবনের একটা বড় অংশ আমরা এখানেই কাটিয়েছি৷ এই এলাকায় অনেক স্মৃতি রয়েছে৷ কাছেই এখনকার মতো কোনো বিকল্প বাসা পাবো কিনা জানি না৷ না পাবারই কথা৷ ৪০, ৬০, ৭০ বছর ধরে আমরা যা কিছু গড়ে তুলেছি, সে সব হারাবো৷''

শহর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে৷ অতিথিরা সম্ভবত তার কিছুই টের পাবেন না৷ হয়ত বুঝবেন, যে ‘সাগরাদা ফামিলিয়া' চত্বরে স্পেনের নিজস্ব জীবনধারার ছাপ কমে যাচ্ছে৷ সেই জাদু সম্ভবত হারিয়ে যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক