1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে জার্মানি

জার্মানি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ ২০১৩ সালে জার্মান হোটেলগুলিতে ‘ওভারনাইট স্টে’ বা রাত্রিযাপনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪১১ মিলিয়ন৷ এর মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যা ছিল ৭০ মিলিয়নেরও বেশি৷

জার্মানিতে পর্যটন ব্যবসাটা ভালোই চলছে বলা যায়৷ কোলন শহরের বিখ্যাত ক্যাথিড্রালের সামনে প্রায়ই বেশ কিছু ‘জীবিত মূর্তি' দর্শকদের কৌতূহলের উদ্রেক করে৷ সারা শরীরে ধাতব রং মেখে ঝড় বৃষ্টি উপক্ষা করে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন কয়েকজন মানুষ৷ পর্যটকরা অল্প কিছু খুচরা পয়সা দিয়ে তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলেন৷ এই সব মিলে কোলনের ডোম পর্যটকদের কাছে জার্মানির তৃতীয় আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে৷ বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ তোরণেরও আগে৷ বাভেরিয়ার শোয়ানশ্টাইন প্রাসাদ ও বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গের রুস্ট-এর অয়রোপা পার্কের চেয়ে কিছুটা পেছনে৷

বহু বিদেশি পর্যটক আসেন

বিস্ময় জাগতে পারে, সূর্যের কৃপা অফুরন্ত না হলেও ইউরোপের মধ্যে অন্যতম সেরা ভ্রমণের দেশ হলো কী ভাবে জার্মানি? আসল কথা হলো, জার্মানি ইউরোপীয়দের মধ্যে ভ্রমণের জায়গা হিসাবে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে৷ শুধু যুক্তরাজ্য থেকেই আগের বছরের চেয়ে ২০১৩ সালে ৩৫০.০০০ বেশি পর্যটক এসেছেন জার্মানিতে৷ রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড থেকে আসা ভ্রমণকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

পর্যটকদের সংখ্যার দিক দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ষষ্ঠস্থান জার্মানির৷ তবে স্পেনের মতো পর্যটকদের সনাতন দেশ হিসাবে পরিচিত দেশগুলির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না দেশটি৷ পর্যটকদের সংখ্যার দিক দিয়ে স্পেন বহু বছর ধরে প্রথম স্থান দখল করে আছে৷

ইউরোপের দেশগুলি থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যাই সেখানে বছরে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন৷ তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় পর্যটন-অর্থনীতির দিকে দিয়ে জার্মানি খুব এগিয়ে নেই৷ ২০১১ সালে মোট জাতীয় উৎপাদনের মাত্র ১.১ শতাংশ আয় হয়েছে পর্যটন খাত থেকে৷ যেখানে ক্রোয়েশিয়া ও মাল্টা এই খাতে আয় করেছে ১৪ শতাংশ৷ আর স্পেনের আয় ৪ শতাংশ৷

শহর ভ্রমণের প্রবণতা

জার্মান হোটেল ও রেস্তোঁরা সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনগ্রিড হার্টগেস পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে একটি বিষয় উল্লেখ করেন৷ ‘‘মানুষের মধ্যে শহর ভ্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷'' আর এক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে বার্লিন৷ জার্মানির রাজধানী বার্লিন কয়েক বছর ধরেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে৷ ২০১৩ সালে এই সংখ্যাটা ৮ শতাংশ বেড়ে ২৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে৷ লন্ডন (৪৮ মিলিয়ন) ও প্যারিসের (৩৬ মিলিয়ন) কাছ থেকে দূরত্ব কমিয়ে এনেছে৷

‘‘সপ্তাহান্তে জার্মানির কোনো শহরে কাটানো, মিউজিক্যালে যাওয়া ও সাংস্কৃতিক কোনো কিছু উপভোগ করা এখন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে'', বলেন ইনগ্রিড হার্টগেস৷ তবে অনেক পর্যটক আসেন কর্ম উপলক্ষ্যে৷ কংগ্রেস, সেমিনার ইত্যাদি অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই জার্মানির স্থান৷ অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী এদিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি৷

থাকার পরিমাণ কম

তবে পর্যটকরা জার্মানিতে থাকার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন৷ গড়ে ২.৭ দিন থাকেন তাঁরা জার্মানিতে৷ আগে ৩.৫ দিন অবস্থান করতেন তাঁরা এখানে৷ এ কারণে হোটেলগুলির আর্থিক লাভের পরিমাণ অনেকটাই স্তিমিত৷ এছাড়া রুমগুলি তুলনামূলকভাবে সস্তা বলে আর্থিক দিক দিয়ে তেমন রমরমা হতে পারছে না হোটেল শাখা৷ দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, বার্লিনের একটি হোটেলের কক্ষের ভাড়া প্রতিদিন ৯০ ইউরো৷ যেখানে লন্ডনে একটি হোটেল কক্ষের গড় ভাড়া ১৭০ ইউরোর বেশি ও প্যারিসের ২৫০ ইউরোর বেশি৷ এক্ষেত্রে লাভবান হন পর্যটকরা৷

কর্মীদের ওপর বোঝা

তবে কর্মীদের ওপর বোঝা চাপিয়েই ব্যবসাটা চলে বলে অভিযোগ করেন খাদ্য ও হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের গিডো সাইটলার৷ হোটেল বাণিজ্য ক্রমেই প্রসারিত হলেও নিয়মিত কর্মচারীর সংখ্যা সীমিত করে তথাতথিত মিনি-জবারদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে চাইছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ৷ এই সব কর্মীর জন্য সামাজিক ও স্বাস্থ্যখাতে তেমন খরচ করতে হয় না৷ বেতন খুব বেশি হলে ৪৫০ ইউরো৷

অন্যদিকে ভ্রমণপ্রেমী জাতি হিসাবে শীর্ষস্থান থেকে জার্মানরা সরে এসেছেন৷ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও দেশের ভেতরে ছুটি কাটানোর প্রবণতা কমে গিয়েছে জার্মানদের৷ এক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম খরচ করছেন তাঁরা৷ বাইরে যাচ্ছেন কম দিনের জন্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়