1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

পর্নোসাইট বন্ধ করা হবে, প্রবেশকারীদের পরিচয় প্রকাশ নয়

বাংলাদেশে পর্নোসাইটে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করার কথা ভাবছে সরকার, সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে৷

যদিও মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পাতায় তারানা হালিম জানিয়েছেন এমন কোন কথা ভাবছে না সরকার৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘পর্নোসাইটের প্রবেশকারীদের নামের তালিকা করার প্রশ্নই আসে না৷ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ৷'' তিনি পর্নোসাইটের প্রবেশকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করার ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি বলে জানান৷ এও জানান এটা কখনো হবে না৷ কেননা টেকনিক্যালিও সম্ভব নয়৷ তারানা বলেন, ‘‘মানুষের পরিচয় তথা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দিতে আমরা বাধ্য ও বদ্ধপরিকর৷ কিন্তু দুঃখ এটিই যে, এমন তালিকা করা হবে, এ ধরনের ভিত্তিহীন রটনা পড়ে সত্যাসত্য যাচাই না করেই নিজ নিজ ফেসবুক আইডিতে কিছু কিছু ব্যক্তি নেতিবাচক পোস্ট দিতে শুরু করলেন – ট্রল করা শুরু করলেন৷ সভ্যতা, ভব্যতার মাত্রাও অতিক্রম করলেন অনেকেই৷''

তিনি বলেছেন, ‘‘কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপমান করার অধিকার কারো নেই৷'' তবে দেশের ভেতরের পর্নোসাইট বন্ধের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারানা৷ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন,  ‘‘দেশের জনগোষ্ঠীর একটা অংশ পর্ন-আসক্তির কারণে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে৷'' তাই তিনি সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন কাউকে ছোট করে কিছু লেখার আগে যাতে মানুষ শতবার সেটা নিয়ে ভাবে৷

কিন্তু তাঁর এই পোস্টের আগে ও পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত আছে৷ কেউ তাঁর এই উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন৷ আবারও কেউ জানিয়েছেন সাধুবাদ৷

পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘তারানা হালিম বলতে চাচ্ছেন পর্নোসাইটে যারা প্রবেশ করবে, তাদের পরিচয় প্রকাশের কথা তিনি বলেননি৷'' পিনাকী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার শিরোনামগুলো দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর খবরের সূত্র দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন, কালের কণ্ঠসহ নানা গণ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হয়েছে৷ আর বাসস লিখেছে, তাদের সাথে আলাপকালে তারানা হালিম বলেছেন, ‘‘ইন্টারনেট সেবা দানকারীদেরকে দেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত পর্নোসাইটগুলো বন্ধ করতে হবে৷ আন্তর্জাতিক সাইটগুলোর ক্ষেত্রে আমরা এমন একটি কৌশল গ্রহণের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে ওইসব সাইটে প্রবেশকারীদের পরিচয় আমাদের কাছে প্রকাশ পাবে৷ তাই পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে পর্নোসাইটে প্রবেশে বিরত থাকবে৷''

পিনাকী লিখেছেন, তারানা হালিম স্ট্যাটাস না দিয়ে কালের কণ্ঠ, বাসস আর বাংলা ট্রিবিউনে একটা প্রতিবাদলিপি দিচ্ছেন না কেন? তারানা হালিম চাইলে প্রেস কাউন্সিলে মামলাও করতে পারেন৷

মোবাশ্বের হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘বাঙলার ঘরে ঘরে আজ হাহাকার৷ যুবক-যুবতীর মনে অজানা ভয় যদি ধরা পড়ে যাই৷ আপা কাজটা ঠিক করলেন না৷''

প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদ, ‘বেলজিয়ামে মন্ত্রণালয়ে বসে পর্নো ছবি দেখার কারণে এক নারী বরখাস্ত৷' এটি শেয়ার করে সুমন আল মাহমুদ লিখেছেন, ‘‘শ্রদ্ধেয় ম্যাডাম তারানা হালিম, এইবার আপনি সত্যি সত্যি পর্নোসাইটে প্রবেশকারীদের তালিকাটা পুরো দেশের সামনে প্রকাশ করেন৷ দেশের জনগণ অনেক অনেক বেশি এক্সসাইটেড হয়ে গেছে এখন৷''

মো. আশরাফ অবশ্য পর্নোসাইট বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন৷ সালেহউদ্দীন তাজ লিখেছেন, ‘‘তারানা হালিম চাইলে সকল পর্নোসাইট বন্ধ করা সম্ভব৷ কিন্তু সকল পর্নোসাইট বন্ধ না করে হাস্যকর পদ্ধতি নেওয়ার দরকার কী?  এই উদ্যোগ অনেক ভালো তবে বন্ধ করতে হবে শতভাগ৷''

হাসান মেহেদি পর্নোসাইট বন্ধ করার পক্ষে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘সার্চ ইঞ্জিন ডিসপ্লেতে পর্নোগ্রাফির লিঙ্ক দেখায় – কেবল মাত্র এই অজুহাতেই চীন দেশে গুগল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ক'বছর আগে৷ এতে চীন জাতির অগ্রগতির চাকা থেমে যায়নি বা ‘যৌন শিক্ষা' মুখ থুবড়ে পড়ে নাই৷'' পর্নোসাইটগুলো বন্ধ হলে বিকৃত যৌনাচার, যৌনপ্রতিবন্ধিতা কমবে বলে মনে করেন তিনি৷

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

প্রিয় পাঠক, আপনার কিছু বলতে চাইলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়