1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পরিবেশ রক্ষায় জাতিসংঘের পুরস্কার পেল ভারতীয় এনজিও

স্বচ্ছ বিদ্যুৎ শক্তি গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেয়ায় ‘স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ' নামে এক ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে পুরস্কৃত করবে জাতিসংঘ৷ মোট ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও বিহারের প্রকল্পটির পুরস্কার পাবে বেসরকারি এই সংস্থাটি৷

আগামী নভেম্বরে জলবায়ু সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ‘স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ'-কে পুরস্কৃত করবে জাতিসংঘ৷

গত রবিবার মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীর দিনে প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় মোদী সরকার৷ এর মাধ্যমে গ্রিন হাউস নিঃসরণ ৫২ শতাংশ কম করতে ৫৫টি দেশের সঙ্গে হাত মেলায় ভারত৷ ভারতের মতো বিকাশমুখী দেশগুলিকে এ জন্য যে আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হবে, তা পূরণের লক্ষ্যেই আগামী মাসে মরক্কোর মারাক্কেশে উন্নত দেশগুলির কাছে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেবার দাবি জানাবে ভারত৷

মারাক্কেশে আন্তর্জাতিক স্তরে ভূ-মণ্ডলের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইস্যু এবং তার যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু হতে চলেছে বিতর্ক৷ কিন্তু বিন্দু বিন্দু জল দিয়ে যেমন সিন্ধু হয়, সেই আপ্তবাক্য সামনে রেখে এক বড় লক্ষ্যের দিকে এক ছোট্ট পদক্ষেপের নজির রেখেছে ভারতের এক এনজিও৷ নাম ‘স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ' বা এসএসপি৷ বস্তুত নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে মহারাষ্ট্রের খরাপ্রবণ মারাঠাওয়াড়ে এলাকায় এই এনজিও গঠিত হয়৷ মূলত মহারাষ্ট্র সরকার, ইউএস-এইড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় কাজ করছে তারা৷ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রামের গরিব অশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে পুষ্টিকর আহার, স্বাস্থ্যরক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়৷ এটাই নারীর স্বশক্তিকরণের প্রথম ধাপ৷ এসএসপি সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস৷

এই এনজিও-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রেমা গোপালন মাইক্রো-স্তরের এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ভারতের বড় বড় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে এ সব মাইক্রো প্রকল্প এক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে৷ গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় প্রচলিত বিদ্যুতের নিদারুণ অনটন৷ বেশিরভাগ সময়ে সেখানে বিদ্যুৎ থাকে না৷ অনেক গরিব পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ নেবার মতো আর্থিক ক্ষমতা নেই৷ সেইসব এলাকায় সৌর বিদ্যুতের মতো স্বচ্ছ বিদ্যুৎ সরবরাহের এক কার্যকর উদ্যোগ ‘স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ'৷ এবার জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেতে চলেছে তারা৷

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গ্রামীন সৌর বিদ্যুৎ বণ্টনের জন্য ১১০০ মহিলা উদ্যোক্তাকে নিয়ে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, তা এক কথায় বেনজীর – ‘স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ'-এর প্রশংসায় এ মন্তব্য করেছে জতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থা৷

এসএসপি-র আরেক শীর্ষ উদ্যোক্তা নীতা তানওয়াড়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর গ্রামের দু'হাজার পরিবার সৌর বাতি এবং রান্নার স্টোভ কিনেছে৷ সৌর বাতির দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা৷ রান্না করার সৌরস্টোভের দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা৷ যেসব পরিবারের একসঙ্গে টাকা দেবার ক্ষমতা নেই, তাঁদের জন্য মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাো রয়েছে৷ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এর এক বড় সার্থকতা হলো, গ্রামীণ পরিবারগুলি রান্নাবান্নার জন্য ব্যবহার করে জ্বালানি কাঠ, যা ঘরের ভেতরে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ৷ এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগব্যাধিরও কারণ৷ আন্তর্জাতিক এনার্জি সংস্থার মতে, ভারতের জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ রান্নার জন্য চিরাচরিত কাঠ বা জৈব-বর্জ্য পদার্থের ওপর নির্ভরশীল৷ অর্থাৎ সংখ্যাগত হিসেবে সেটা দাঁড়ায় প্রায় ৮৪ কোটি টাকা৷ সৌর শক্তির মতো স্বচ্ছ দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ কাঠ বা জৈব-বর্জ্য পদার্থের ওপর নির্ভরতা অনেক কমিয়ে আনতে পারে৷ জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার হিসেব বলছে, স্বয়ং শিক্ষণ প্রয়োগ নামের এই এনজিও দুই লাখ পরিবারকে রান্নার জন্য সৌর স্টোভ সরবরাহ করায় দৈনিক ১০০ টন জ্বালানি কাঠের সাশ্রয় হয়৷ মহারাষ্ট্র সরকার সৌর শক্তির নিজস্ব গ্রিড থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে৷ দূষণমুক্ত সৌর শক্তি যদি গোটা ভারতে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে স্বচ্ছ বিদ্যুতে ভারত স্বয়ম্ভর হয়ে উঠতে পারে৷

এর আগে ‘চিন্তন' নামে দিল্লির এক এনজিও জাতিসংঘের জলবায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পুরস্কার পেয়েছিল৷ ই-ওয়েস্ট বিজ্ঞানসম্মতভাবে নষ্ট করার উপায় বের করার কারণে ২০১৫ সালে পুরস্কারটি পেয়েছিল তারা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন