1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পরিবেশ বাঁচাতে কালাপানি

ভারতের উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য হলো সাত হাজার কিলোমিটার, অথচ পরিবেশ সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা সামান্য ও সীমিত৷ তাই উপকূল এলাকার বনবিভাগের কর্মকর্তাদের পরিবেশ সচেতন করে তোলার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে – আন্দামানে!

‘ক্লাউনফিশ', যা কিনা হলিউডের কল্যাণে জগদবিখ্যাত৷ আন্দামানে কিন্তু সে বেচারির খুব একটা প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই৷ ওদিকে যে ডুবুরিরা এই ক্লাউনফিশ দেখে মুগ্ধ, তাঁরা কিন্তু বনবিভাগের কর্মকর্তা! তাঁদের আন্দামানে নিয়ে আসা হয়েছে বেড়াবার জন্য নয় – তাঁরা যাতে এই ইকোসিস্টেম বা পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে৷ নিজেদের অঞ্চলে বা কর্মক্ষেত্রে এ রকম পরিবেশ দেখার সুযোগ ঘটে না এই কর্মকর্তাদের৷ এঁদের মধ্যে কয়েকজন এই প্রথম জলের নীচে নামলেন!

শশীকুমার তাদের মধ্যে একজন৷ তাঁর কাছে এটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা৷ শশীকুমার এসেছেন পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্য থেকে – যা কিনা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে৷ আন্দামানে শশীকুমার ও তাঁর সতীর্থরা দেখবেন, মানুষজন কীভাবে একটি পরিবেশকে ধ্বংস না করে, সেই পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে৷ আন্দামানকে জেনেশুনেই বেছে নেওয়া হয়েছে – তার বিপুল জীববৈচিত্র্যের জন্য৷

ভিডিও দেখুন 03:39

পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে আন্দামান

শশীকুমার বলেন, ‘‘এখানে সৈকতভূমি, ম্যানগ্রোভ, উপকূলীয় অরণ্য, সব কিছু দেখতে পাওয়া যায়, যা অন্যত্র বিরল৷ শুধুমাত্র একটি দ্বীপেই এ ধরনের সমৃদ্ধ উপকূলীয় অরণ্য দেখতে পাওয়া যায়, সেই সঙ্গে ম্যানগ্রোভ, বেলাভূমি, তার পর সমুদ্র৷ সাগরের জলে নানা ধরনের প্রবাল আর মাছ দেখতে পাওয়া যায়৷''

যা দেখে বনবিভাগের দশজন কর্মকর্তা মুগ্ধ! ভারতের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে তাঁদের আন্দামানে আনা হয়েছে; এখানে তাঁরা যা শিখবেন, কর্মক্ষেত্রে ফিরে নিজেদের সহকর্মীদের সে বিষয়ে বলবেন৷ তাঁদের কর্মস্থানে শিল্প, অর্থনীতি, পরিবেশদূষণ ও জনবসতি বাড়ছে – ভারতের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বাস করে উপকূলীয় অঞ্চলে৷

জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সমিতি জিআইজেড-এর নীরজ খেরা জানালেন, ‘‘ভারতের উপকূলভাগের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ বন্যপ্রাণী সুরক্ষা বা সংরক্ষণ আইনের আওতায় পড়ে৷ সাম্প্রতিককালে আরো বেশি এলাকা সুরক্ষিত করার প্রতি অধিকতর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে৷''

জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা – জিআইজেড বনবিভাগের কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণের খরচ আংশিকভাবে বহণ করছে৷ এই প্রশিক্ষণ একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অঙ্গ, যা কিনা ভারতের সাত হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলের ২০ শতাংশ এলাকাকে ব্যাপক ব্যবহার ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে৷

ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া সংস্থার প্রতিনিধি শিবকুমার কুপ্পুস্বামী জানালেন, ‘‘ডাঙায় মানুষজন বিশেষ ক্ষতি করে না, কেননা ওটা আইনগতভাবে সুরক্ষিত এলাকা৷ উপকূলীয় অঞ্চলের কথা আলাদা৷ ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বহুকাল ধরে আছে ও মাছ ধরছে, অন্য কাজ করছে৷ আমারা তাদের হঠাৎ করে বলতে পারি না, তোমরা এখানে মাছ ধরবে না৷''

আন্দামান থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে গুজরাত প্রদেশের উপকূলে ঠিক সেটাই হলো সমস্যা৷ একটি বিশেষ শিল্প এলাকায় বহু নতুন কলকারখানা খুলছে৷ সেই বারুচ প্রদেশ আবার পড়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা শশীকুমারের কর্মক্ষেত্রের মধ্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়