1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পরিবার থেকেই শুরু হোক যৌন সচেতনতা

কেনিয়ায় যে হারে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বার হার বাড়ছে, বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে, তাতে জাতিসংঘের একটি সংস্থা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রযুক্তির মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের যৌন শিক্ষা দেয়ার৷

কিশোরী রোজমেরি যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন, তখন তাঁর পরিবার লজ্জায় তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল৷ অথচ এই সমস্যা এড়ানো যেত যদি তিনি তাঁর পরিবার থেকে নিরাপদ যৌনশিক্ষা পেতেন৷

পরিবার থেকে বের করে দিয়েছে, তাই রোজমেরির বলার সাহসই হয়নি যে তাঁর শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে৷ নাইরোবির সাইকা বস্তিতে এ রকম আরো অনেক মেয়ে আছে, যাদের প্রত্যেকেরই দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে এবং যাদের অনেকেরই সন্তান আছে৷

রোজমেরির বয়স এখন ৩৭৷ ২০০৫ সালে তিনি একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যারা এইচআইভি আক্রান্ত নারীদের মানসিক সহায়তা দেয়৷ এছাড়া অল্পবয়সি মায়েরা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়েও পরামর্শ দিয়ে থাকেন তারা৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা আফ্রিকা মহাদেশে আশঙ্কাজনকহারে এইচআইভি বা এইডস-এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে৷ তাই অবিলম্বে এঁদের যৌনশিক্ষা দেয়াটা ভীষণ জরুরি৷ একই সাথে কীভাবে তাঁরা অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে পারেন, সে শিক্ষার গুরুত্বের কথাও বলা হচ্ছে৷ তবে শুধুমাত্র স্কুল নয়, পরিবারের মানুষজনদেরও কুসংস্কার ভেঙে এ নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে রোজমেরি জানান, যৌনশিক্ষা চালুর কথা বলা তাঁর জন্য সহজ ছিল না৷ অবশ্য বর্তমানে তাঁরই উদ্যোগে দ্য ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড বা ইউএনএফপিএ এবং নাইলাব নামে কেনিয়ার একটি ফার্ম উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তির মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের যৌনশিক্ষা দেয়ার৷

চলতি মাসেই এই প্রচার শুরু হয়েছে, যার নাম ‘আই অ্যাম' বা ‘আমি'৷ এর মাধ্যমে আগামী আগস্ট পর্যন্ত কেনিয়ার মানুষ তাঁদের চিন্তাভাবনা জানাতে পারবেন যে, কীভাবে যৌনশিক্ষাকে সমাজে কাজে লাগানো যেতে পারে৷ যাঁদের চিন্তাভাবনা সবচেয়ে ভালো হবে, তেমন চারজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং তাঁদের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ দেয়া হবে৷ ইউএনএফপিএ-র নির্বাহী পরিচালক বাবাটুন্ডে রয়টার্সকে জানান, ছেলে এবং মেয়েদের একসঙ্গে যৌনশিক্ষা দিতে হবে৷

এর আগে, ২০১৪ সালে, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় যৌনশিক্ষা এবং স্কুলে জন্মনিরোধক পিল ও কনডোম দেয়ার বিষয়ে একটি বিল কেনিয়ার পার্লামেন্টে তোলা হয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়৷ কারণ মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকে যায় যে, এভাবে যৌনশিক্ষা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলে তাঁদের সংস্কার ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাবে৷

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ২৯,০০০ এইচআইভি আক্রান্ত৷ এছাড়া প্রতি পাঁচজন কিশোরীর মধ্যে ‘মা' বা গর্ভবতী হচ্ছেন একজন৷ বলা বাহুল্য, ১৩,০০০ শিক্ষার্থীকে অল্প বয়সে মা হওয়ার কারণে স্কুলও ছাড়াতে হয়েছে৷

কেনিয়ার ৮০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে৷ এ কারণে প্রযুক্তির মাধ্যমেই তাঁদের যৌনশিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা চলছে এবার৷

এপিবি/ডিজি (রয়টার্স, এপি)

আপনি কি কিশোর-কিশোরীদের যৌনশিক্ষা দেয়ার পক্ষে? আপনার নিজস্ব যুক্তিগুলো জানান আমাদের৷ লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়