1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

পরাজিত মারাদোনাকেই আবার চায় আর্জেন্টিনার মানুষ

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও দেশে ফিরে কিন্তু বীরের সম্মান লাভ করল মারাদোনার দলবল৷ মারাদোনা আর মেসিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল প্রবল৷ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আবারও সেই মারাদোনাকেই চাইছে আর্জেন্টিনার মানুষ৷

default

এই বিশ্বকাপে সাংঘাতিক কিছু করে দেখানোর বিপুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন মারাদোনা৷ বলেছিলেন, কাপ জিতলে বুয়েনাস আইরেসের প্রাণকেন্দ্র যে ওবেলিস্ক, সেখানে নগ্ন হয়ে দৌড়বেন তিনি৷ গোটা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল এই মন্তব্যের পর৷ কিন্তু শুধুমাত্র রক্ষণভাগে চরম দুর্বলতা প্রমাণ করে দিল, যতটা গর্জেছিল তেভেজ, মেসি মারাদোনার দলবল, বাস্তবে তার সিকিভাগও হয়নি৷ বিশ্বকাপ থেকে তাদের এমনভাবে ছিটকে দিল জার্মানির শক্তিশালী টিমগেম যে লজ্জায় মাথা তোলার কথা নয় আর মারাদোনার৷

কিন্তু, জনতার আবেগকে কে কবে চিনতে পেরেছে? জিতে ফিরলেন না, তবুও মানুষের হৃদয়ের আবেগকে ছুঁয়ে থাকলেন আবেগের রাজা সেই মারাদোনাই৷ কোচিং থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে জানিয়ে দিতে চান দিয়েগো অথচ দেশের মানুষ সগর্জনে বলছে, না, তা হবে না৷ ২০১৪-র বিশ্বকাপে এই মারাদোনাই হবেন আমাদের কোচ৷ রবিবার বুয়েনাস আইরেসের বিমানবন্দরে মারাদোনা আর জাতীয় দলকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিল কয়েক হাজার ফ্যান৷ অনেকের হাতে পোস্টার, ‘দিয়েগো ২০১৪৷'

WM Südafrika 2010 Argentinien vs Südkorea Flash-Galerie

মেসি মারাদোনা জুটি আপাতত ব্যর্থ

আসলে মেক্সিকোয় ১৯৮৬'র বিশ্বকাপ জয়ের কথা আজও ভোলেনি আর্জেন্টিনার মানুষ৷ সেবার প্রায় একার চেষ্টায় দেশকে জগতসভার সেরার আসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা৷ তারপর থেকেই মানুষের হৃদয়ে তাঁর আসন পাকা৷ সে শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, গোটা বিশ্বেই৷ সে কারণেই শনিবার জার্মানির বিপুল জয়ের পর গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতাল, তার মাঝেও দুঃখ আফশোষ শোনা গেছে দিয়েগোর করুণ মুখ টিভির পর্দায় দেখে৷ সে আফশোষ করেছেন আবার জার্মানরাই৷ আর মারাদোনা নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন, যে ফুটবল তিনি নিজে খেলতেন, সেই ব্যক্তিগত দক্ষতার দিনকাল শেষ৷ এখন ফুটবল মানে টিমগেম৷ যেমন খেলছে জার্মান দল৷ যেমন খেলছে হল্যান্ড৷

তবু, অনেক কথা থেকে যায়৷ ২০০৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মারাদোনা৷ তারপর থেকে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হয়েই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছিল৷ কিন্তু প্রথমে গোল খেয়ে কোন ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মারাদোনার ছেলেরা৷ শনিবার খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটে সেই কাজটাই করে দিয়েছিলেন জার্মানির ম্যুলার৷ আর্জেন্টিনার কবর তখনই খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল৷

দিয়েগো বলেছেন, নিজের পরিবারে আর দলের ছেলেদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন কোচিং ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে৷ সেই সিদ্ধান্ত হয়তো দ্রুতই আসবে৷ তবে, সেটা যেমনই হোক, দিয়েগোর প্রতি দেশের মানুষের ভরসা আর ভালোবাসা যে কমেনি একটুও, তাতে কোন সন্দেহ রাখে নি কেউ৷ আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল সংস্থা এএফএ কী সিদ্ধান্ত জানায়, তার জন্য কয়েকটা দিন অপেক্ষা করা যাক৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা : আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়