1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পররাষ্ট্রনীতিতে মনমোহন সিং সরকার দিশাহীন

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মনমোহন সিং-এর জোট সরকারের এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা৷ চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, এমন কি বাংলাদেশের সঙ্গেও ভৌগলিক সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আস্থার ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠছে ক্রমশই৷

প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা ক্রমশই প্রকট হয়ে উঠছে৷ জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে মনমোহন সিং-এর কংগ্রেস-জোট সরকার বলিষ্ট পদক্ষেপ না নিয়ে রাজ্য সরকারগুলির কাছে বারংবার নতমস্তক হচ্ছে৷ তামিলনাড়ুর চাপে শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করতে পারছে না৷ বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই৷ পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকারের রক্তচক্ষুর কাছে মনমোহন সিং সরকারের হালে পানি না পাওয়ার মতো অবস্থা৷ ফলে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারছে না বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে৷

কিন্ত কেন? বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে রাজ্য সরকারের রক্তচক্ষুকে আমল না দেবার সাংবিধানিক ক্ষমতা কেন্দ্রের আছে৷ পররাষ্ট্রনীতিতে রাজ্য সরকারের ফতোয়া মানতে বাধ্য নয় কেন্দ্র৷ তাহলে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে এত দ্বিধা কেন? ভারতে মনমোহন সিং সরকার এবং বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের শাসনকালের মেয়াদ শেষ হতে দেরি নেই৷ এই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বিক স্থলসীমা চুক্তি এবং তিস্তা জল বণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন উভয়দেশের পক্ষে যে কত জরুরি, সেটা রাজ্য সরকারের চেয়ে ভালো বুঝবে কেন্দ্রীয় সরকার৷

দীর্ঘদিন গড়িমসি করার পর স্থলসীমা চুক্তি অনুমোদনের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করা হয় সংসদের গত অধিবেশনে৷ আসম গণ পরিষদের সরব প্রতিবাদ ও হৈ হট্টগোলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমান খুরশিদকে পিছু হটতে হয়৷ আশা করা যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি অধিবেশনে আরো দৃঢ় অবস্থান নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী এর রাজনৈতিক অপরিহার্যতা তুলে ধরে তা পাশ করাতে পারবেন৷

পাশাপাশি, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-কেও বুঝতে হবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির লুকোচুরি খেলা এই ইস্যুতে খাটে না৷ এটা ভারতের মিলিত দায়দ্ধতা৷ কারণ এর সঙ্গে জড়িত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা৷ তাই এই বিল পাশ করা বিজেপির পক্ষে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা কংগ্রেস-জোট সরকারের৷

চীন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন তলানিতে তখন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের দিক থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সার্বিক উন্নতির ধারাবাহিকতায় কোনো খামতি নেই৷ শুধু তাই নয়, অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক দেশ হয়েও শেখ হাসিনা ধর্মকে রাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি থেকে পৃথক করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন৷ এই প্রয়াসে ভারতের উচিত সর্বান্তঃকরণে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো৷

ভুলে গেলে চলবে না, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জেহাদি রাজনীতি যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে বাংলাদেশকে হাতে না রাখলে জঙ্গিবাদের সংক্রমণ বাংলাদেশ থেকে আবারো ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতের মাটিতে৷ এর সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাস অনেকটাই দমন করতে পেরেছে হাসিনা সরকার৷ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলিকে সেটা বুঝতে হবে, ভারতের পত্র-পত্রিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এমনটাই অভিমত৷

ভারত ভাগের সময় বাংলা ভাগ ঠিকমতো হয়নি৷ অনেক ত্রুটিবিচ্যুত থেকে যায়৷ যেমন, ছিটমহল যা অন্য দেশের সীমানা বেষ্টিত৷ ১৯৯৭ সালে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, এই রকম ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল আছে বাংলাদেশে এবং ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল আছে ভারতে৷ এসব ছিটমহলের বাসিন্দারা কার্যত ঘরবন্দি৷ কারণ ছিটমহলের সীমানার বাইরে তাঁরা যেতে পারেন না, যেহেতু সেটা অন্য সার্বভৌম দেশ৷

উল্লেখ্য, গোয়ায় পর্তুগিজ কলোনি দাদরা ও নগর হাবেলিকে মুক্ত করার সময় পর্তুগিজ সরকার ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতর দিয়ে ঐ দুটি ছিটমহলে যাবার সার্বভৌম অধিকারের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছিল, কিন্তু আদালতে তা নাকচ হয়ে যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়