1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পপকর্ন খেলে বিজ্ঞাপন ভুলে যাবেন

সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় ছবি দেখার মজাই আলাদা, কী বলেন! সঙ্গে চাই চিপস, পপকর্ন৷ কিন্তু জানতেন কি, মুখ চললে মনোযোগ নাকি অনেক কমে যায়? এক জার্মান বিজ্ঞানী বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন৷

কোলোনের এক সিনেমা হলে একদল দর্শক পপকর্ন খাচ্ছেন, অন্য দলকে তা দেওয়া হচ্ছে না৷ না, এটা কিন্তু কোনো সিনেমা শো নয়, এখানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চলছে৷ প্রশ্ন হলো, হলে বসে পপকর্ন চিবিয়ে খাওয়ার সময় কি মনোযোগ কমে যায়? কোলোনের মনোবিজ্ঞানী সাশা টোপোলিনস্কি সেটাই মনে করেন৷ তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী পপকর্ন খেতে খেতে বিজ্ঞাপন দেখলে পরে তা আর মনে থাকে না৷

নতুন পণ্যের নাম তখনই মনে থাকে, যখন সেটা একবার মুখে আওড়ানো যায়৷ টোপোলিনস্কি বলেন, ‘‘এই সিনেমা হলে আমরা যাদের পপকর্ন খেতে দিয়েছি, তারা অবচেতন মনে মুখ খুলে পণ্যের নাম বলার সুযোগ পাচ্ছে না৷ এক সপ্তাহ পরে আমরা দেখবো, এদের উপর বিজ্ঞাপনের আদৌ কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা৷''

Futurando 78 – Popcorn-Esser Kinowerbung

সিনেমা দেখার সময় পপকর্ন না হলে কি চলে?

এরা নতুন পণ্যের নাম মনে করতে পারছে কিনা, ত্বকের উপর পরীক্ষা চালিয়ে তা বোঝা যায়৷ ফলফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, যে পপকর্ন-খাদকরা সিনেমা হলে দেখা বিজ্ঞাপন মনে করতে পারছে না বললেই চলে৷ যারা খায়নি, তাদের মনে কিন্তু বিজ্ঞাপনটি দাগ কেটেছে৷ টোপোলিনস্কি বলেন, ‘‘এই পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, পপকর্ন খেলে মুখ ব্যস্ত থাকে৷ তখন স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়৷ অর্থাৎ শরীরের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে৷ যেমন নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে মুখ খোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷''

কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে৷ যারা পণ্যের নাম যাকে বলে শরীরের মধ্যেই ধারণ করেছে, তাদের মনে সেটি সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ টোপোলিনস্কি বলেন, ‘‘যারা পপকর্ন খায়নি, কেনার সময় তাদের উপর বিজ্ঞাপনের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ তারা সেটাই কিনছে৷ যারা পপকর্ন খেয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটা দেখা যাচ্ছে না৷''

অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে নিজের শরীরের ভাষায় অনুবাদ করা – সাশা টোপোলিনস্কির কাছে বিজ্ঞাপন ও শিল্পের ক্ষেত্রে এটাই বোধ ও স্মৃতিশক্তির ভিত্তি৷ মস্তিষ্ক কোনো অনুভূতিকে আবার জীবন্ত করে তোলে৷ শরীরও সেই অনুযায়ী নড়াচড়া করলে সেই অনুভূতি আরও পাকাপোক্ত হয়ে পড়ে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এক পরীক্ষার জন্য কিছু মানুষকে ছবি দেখতে দিয়েছিলাম এবং নির্দিষ্টভাবে হাত নড়াচড়া করতে বলেছিলাম৷ শিল্পী যেভাবে তুলির টানে ছবিটি এঁকেছিলেন, সেই একই ভঙ্গিমায় হাত নাড়াতে বললে দেখা যায় মানুষের সেটা বেশি পছন্দ হয়েছে৷''

টোপোলিনস্কি মনোবিদ্যার নতুন এক শাখার প্রতিনিধি, যার নাম ‘এমবডিমেন্ট'৷ শরীরের নড়াচড়ার সাহায্যে বিমূর্ত বার্তা গ্রহণ করাই এর মূলমন্ত্র৷ যেমনটা মানুষের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদানের সময় ঘটে৷ পপকর্ন নিয়ে পরীক্ষা প্রাথমিক এক দৃষ্টান্ত মাত্র৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা এবং অন্য অনেক এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে দেখা যায় যে স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে শরীরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে৷ যেমন কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা তার উপর নির্ভর করে৷''

এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞাপন শিল্প গবেষণার এই ফলাফল সম্পর্কে সচেতন নয়৷ ফলে তারা কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারেনি৷ এ কথা জানতে পারলে তারা হয়তো সিনেমা হলে পপকর্ন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করবে৷ কিন্তু সিনেমা হলে বসে পপকর্ন চিবাতে না পারলে আর মজা কীসে! গবেষক টোপোলিনস্কিও সেটা ভাবতে পারেন না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক