1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পদ্মাবতী নিয়ে প্রতিবাদ তুঙ্গে, ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার দাবি

চিতোরের রানি পদ্মাবতীকে নিয়ে সঞ্জয় লীলা বনসালি পরিচালিত ‘পদ্মাবতী' ছবিটি মুক্তির আগেই পড়েছে প্রতিবাদের মুখে৷ অভিযোগ, পদ্মাবতীর চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে অশালীনভাবে, যা রাজপুত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে আঘাত করেছে৷

default

পদ্মাবতী ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা এবং রণবীর

ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে চিতোরের রানি ছিলেন পদ্মাবতী৷ কোথাও কোথাও পদ্মীনী, কোথাও আবার তিনি উল্লেখিত পদ্মামণি নামে৷ এই ঐতিহাসিক নারী চরিত্রকে নিয়ে কাহিনি চিত্র বানিয়েছেন বলিউডের বিতর্কিত চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালি৷ ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি৷ মুক্তি পাবার কথা ১লা ডিসেম্বর৷ কিন্তু মুক্তির আগেই বাধা আসছে একের পর এক৷ অভিযোগ, ছবিতে রানি পদ্মাবতীর চরিত্রটিকে নাকি তুলে ধরা হয়েছে অশালীনভাবে, যা রাজস্থানের রাজপুত সমাজ তা মেনে নিতে পারে না৷ রানি পদ্মাবতী তাঁদের কাছে মহীয়সী নারী৷ রাজপুত হিন্দু নারীদর কাছে আদর্শ এক চরিত্র৷ এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দীপিকা পাডুকোন আর আলাউদ্দিন খিলজীর চরিত্রে রণবীর সিং৷

এই বিতর্কিত ছবির মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করতে রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন৷ কিন্তু শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে রায় দিয়েছেন, ছবিটিকে মুক্তি ছাড়পত্র দেওয়া হবে কিনা সেটা কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডই ঠিক করবে৷ ছবির মুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট নির্দেশিকা আছে সেন্সর বোর্ডের হাতে৷

সেন্সর বোর্ডের এক বিজেপি সদস্য ছবির পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিত অনুরোধ করেছেন৷ স্থগিতাদেশ জারির পক্ষে আবেদনকারীদের যুক্তি, ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে দীপিকা পাডুকোনকে দিয়ে ঘুমরা বা ঠুমকা, যাকে বলে কোমর দোলানো নাচ, তা দেখানো হয়েছে৷ এছাড়া রানিকে যে ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ পরানো হয়েছে, তা নাকি রাজপুত নারী সমাজের কাছে অকল্পনীয় এবং রাজপুত নারীর জীবন পরম্পরার একেবারে বিপরীত৷ রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদ্মাবতীর মুক্তির আগে ছবিটির কথিত আপত্তিকর দৃশ্যগুলি বিচার করতে এক কমিটি গঠনের কথা তাঁর সরকার চিন্তা করছেন৷ কমিটিতে থাকবেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদরা৷ পদ্মাবতী ছবির প্রযোজককে তাই কেন্দ্রীয় সেন্সর বোর্ডের কাছে ছবিটির মুক্তির আবেদন করতে হবে৷

প্রশ্ন হচ্ছে, আপত্তিটা ঠিক কোথায়? নাচের দৃশ্য ছাড়াও ছবিতে আছে একটা স্বপ্নের দৃশ্য৷ যেখানে চিতোর দুর্গ দখলকারী দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে পদ্মাবতীর একটি ঘনিষ্ট, রোম্যান্টিক দৃশ্য রয়েছে৷ রাজস্থানের রক্ষণশীল রাজপুত সমাজ এতেই ক্ষুব্ধ৷ কারণ রাজপুত কুলপ্রথায় কোনো রাজা তাঁর স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষ, বিশেষ করে কোনো মুসলিম পুরুষের সামনে আনবে, এ কথা ভাবাই যায় না৷ এমনটাই বলেছেন জওহর স্মৃতি সংগঠন নামে এক এজিওর মুখপাত্র৷ তিনি বলেন, ইতিহাস বলছে, বর্হিশত্রুর আক্রমণের সময় রাজপুত রাজবংশের নারীরা নিজেদের মানসম্মান ও সতীত্ব বাঁচাতে জওহর ব্রত পালন করে আগুণে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিতেও দ্বিধা করেননি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সব কথা ‘পোস্ট' করার পর তা ভাইরাল হয়ে পড়লে এর সমর্থনে এগিয়ে আসে আরও অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন৷ যার মধ্যে আছে রাজস্থানের রাজপুত ক্রান্তি সেনাও৷ তারা শুটিংর সময় ছবির সেটে ভাঙচুর চালায়, চড়াও হয় পরিচালক বনসালির ওপরও৷

বিক্ষোভকারীদের মতে, বলিউডের এই হিন্দি ছবিতে ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে৷ কাজেই ছবি থেকে আপত্তিকর অংশ বাদ না দেওয়া হলে, এই ছবির মুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে৷ এহেন দাবিতে দুর্গনগরি চিতোরগড়ে পালিত হয় হরতাল৷ স্কুল, কলেজ, দোকাপাট বন্ধ থাকে৷ আন্দোলনকারীরা মিছিল করে কালেক্টরেট অফিসের সামনে ফিল্মের পরিচালক এবং অন্যান্য কলাকুশলীদের কুশপুত্তলিকা পোড়ায়৷ রাজস্থান এবং গুজরাটের ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটাররা ছবিটি কিনতে এবং সিনেমা হলের মালিকরা ছবিটি দেখাতে অস্বীকার করেছে ইতিমধ্যেই৷ সবাই মনে করছে, এটা হিন্দুদের, বিশেষ করে রাজপুত সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে চরম আঘাত৷

মুম্বই ও গুজরাটের বিজেপি শাখা বিতর্কের মীমাংসা না হওয়া অবধি পদ্মাবতী ছবির মুক্তি আটকাতে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে৷ তাদের বক্তব্য, শিল্পের স্বাধীনতার নামে কেউ সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করতে পারে না৷ শিল্পের নামে ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করা যায় না৷ এই বিতর্কের অবসানে সরকারের উচিত এ বিষয়ে ইতিহাসবিদ এবং শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া৷ পাশাপাশি তারা চিত্র পরিচালক বনসালির কাছে জানতে চেয়েছে, ভারত আক্রমণকারী মুসলিম মুঘল বাদশাদের অত্যাচার নিয়ে তিনি ছবি বানাচ্ছেন না কেন? অনেকে এর পেছনে ভোটব্যাংকের রাজনীতির ছায়া দেখছেন৷ কারণ কর্নাটকে টিপু সুলতানকে নিয়ে অনুরুপ ভোট রাজনীতির অভিযোগে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল৷ হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া দলের মতে, টিপু সুলতান ছিলেন অত্যাচারী সুলতান৷ অন্যপক্ষের মতে, টিপু সুলতান ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন৷

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ সেনগুপ্ত এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ঘটনার সত্যাসত্য নিরুপণে ঐতিহাসিক এবং গবেষকদের ওপরই বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া উচিত৷ প্রথম কথা, পদ্মাবতীর কাহিনির পর বহু বছর আমরা পেরিয়ে এসেছি৷ চিতোরের রানি পদ্মাবতীকে আলাউদ্দিন খিলজি পেতে চেয়েছিলেন কিনা, সেটা বড় কথা নয়৷ সেই স্বপ্নদৃশ্য প্রতীকী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে এবং আজকের যুগের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তুলে আনা হয়েছে, যেখানে ইতিহাস হয়ে উঠেছে গৌণ৷ তবে হ্যাঁ, আগেকার দিনের জাতপাত এবং ধর্মভিত্তিক সনাতন সামাজিক বিভাজনকে অনেকে ধরে রাখতে চায়৷ হিন্দু ধর্ম যেমন প্রাতিষ্ঠানিক, তেমনি মুসলিম ধর্মও প্রাতিষ্ঠানিক৷ সেখানে ভোটের রাজনীতি কাজ করে, যাকে বলা হয় ব্লক-ভোটিং বা সম্প্রদায়-ভিত্তিক ভোটিং৷ নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জন্য ভোট জোগাড় করতে মুসলমানদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে থাকেন মৌলবী, মোল্লারা৷ সোজা কথায়, পুরো ব্যাপারটা নিছক রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়৷

বন্ধু, আপনি কি ‘পদ্মাবতী’ ছবিটি দেখতে চান? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন