1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌পদ্মশ্রী খেতাব দুই বীর বাঙালির

এবার পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন দু'জন বাঙালি, যাঁরা প্রত্যেকেই খুব সাধারণ লোক৷ কিন্তু স্বার্থহীন সমাজসেবায় অর্জন করেছেন অসাধারণত্ব৷

অনেকেই নাম শোনেননি বিপিন গনোত্রার৷ অথবা শুনলেও মনে রাখতে পারেননি৷ বড় অদ্ভুত লোক৷ কলকাতার বাসিন্দা বিপিন যখনই খবর পান কোথাও আগুন লেগেছে, দৌড়ে যান৷ দমকল কর্মীদের সঙ্গে অকুতোভয়ে ঢুকে যান জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে৷ আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করার কাজে হাত লাগান৷ যদিও শুরুতে তাঁকে বাধা দেওয়া হতো৷ উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া এমন বিপজ্জনক কাজে এগিয়ে যাওয়া মানে নিজেরও জীবনসংশয়৷ কিন্তু বিপিনের আগ্রহ এবং আন্তরিকতা দেখে আস্তে আস্তে তাঁকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে কলকাতার দমকল এবং পুলিশ৷ যে লোক অন্য মানুষের বিপদে বার বার ঝাঁপিয়ে পড়েন, তিনি স্রেফ হুজুগের বশে এই কাজ যে করছেন না, সেটা সবাই বুঝতে পারেন৷

ফলে আজকের দিনে কলকাতা শহরের কোথাও আগুন লাগলে দমকলও জানে, বিপিন গনোত্রা ঠিক দৌড়ে যাবেন, পৌঁছে যাবেন হয়ত দমকলের আগেই৷ এভাবেই, অন্তত শ'‌দেড়েক অগ্নিকাণ্ডে নিজের জীবনের পরোয়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিপিন গনোত্রা৷ দমকল থেকে তাঁকে স্বেচ্ছাসেবীর ব্যাজ দেওয়া হয়েছে৷ খবরের কাগজে, টিভিতে বার বার দেখানো হয়েছে তাঁর দুঃসাহসিক কৃতিত্ব৷ সেই মানুষটি এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন৷ পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হলেন৷ পুরস্কৃত হওয়ার পর বিপিন কিন্তু আদৌ মনে করছেন না, যে তাঁর কাজ শেষ৷ বরং তাঁর চিন্তা, আগামী দিনে কী করে এই সম্মানের যোগ্য হয়ে ওঠা যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

কেন বার বার নিজের জান বাজি রাখেন কলকাতার ‘‌আগুন যোদ্ধা'‌ বিপিন গনোত্রা?‌ সেটা নেহাতই ব্যক্তিগত৷ তাঁর যখন ১২ বছর বয়স, নিজের প্রিয় দাদাকে আতশবাজির আগুনে পুড়ে মারা যেতে দেখেছিলেন৷ সেই থেকে শপথ নেন মনে মনে, আগুনের গ্রাস থেকে জীবন বাঁচাবেন৷ আজ ৫৯ বছর বয়স হল বিপিনের৷ আজও আগুনের বিরুদ্ধে সেই লড়াই থামেনি৷ একই দুর্যোগ ঘটেছিল জলপাইগুড়ির করিমুল হকের জীবনে৷ ১৯৯৫ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ডুয়ার্সের চা বাগানের কর্মী করিমুলের মা জফুরেন্নেসা৷ কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় একটা অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করা সম্ভব হয়নি৷ চোখের সামনে মাকে মারা যেতে দেখেন করিমুল৷

সেদিনই শপথ নেন, আর কাউকে এমন অসহায় ভাবে মারা যেতে দেবেন না৷ নিজের একটি সাইকেল ছিল তখন৷ সেটাকেই তখন অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে ফেলেন করিমুল৷ যখনই খবর পেতেন কেউ অসুস্থ হয়েছেন, নিজেই পৌঁছে যেতেন তাঁর কাছে৷ সাইকেলে চড়িয়ে পৌঁছে দিতেন কাছাকাছি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বা হাসপাতালে৷ কখনও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে তাঁদের মোটরবাইক ধার নিতেন৷ এবং এর জন্য, কোনোদিন একটা পয়সাও কারও থেকে নেননি করিমুল৷ উল্টে ধার-দেনা করে নিজেই একটা মোটরবাইক কিনে ফেলেন, যাতে আরও দ্রুত অসুস্থ মানুষকে হাসপাতাল পৌঁছে দেওয়া যায়৷ প্রায় ১৫ বছর একটানা এই কাজ করে যাওয়ার পর এবার পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন জলপাইগুড়ি জেলার মাল ব্লকের ক্রান্তি এলাকার বাসিন্দা, পেশায় সুবর্ণপুর চা বাগানের সিকিওরিটি গার্ড করিমুল হক৷