1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

পড়াশোনার নতুন বিষয় ‘ডিজাইন থিঙ্কিং’

জার্মানির পটসডাম শহরের হাসো প্লাটনার ইন্সটিটিউট নতুন একটি বিষয় পড়ানো শুরু করেছে৷ কোর্সের নাম ‘ডিজাইন থিঙ্কিং’৷ বলা হচ্ছে দৈনন্দিন জীবন-যাপনকে সহজ করে তুলতে এই বিষয়টি সাহায্য করবে৷ কীভাবে?

default

জার্মানির পটসডাম শহর

হাসো প্লাটনার ইন্সটিটিউটে সাধারণত সফটওয়্যার তৈরি শেখানো হয়৷ সফটওয়্যার তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান৷ ১৯৮৮ সালে এই ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়৷ তবে ২০০৭ সালে নতুন আরেকটি বিষয় যোগ করা হয় ইন্সটিটিউটে৷ বিষয়ের নাম ‘ডিজাইন থিঙ্কিং'৷ কারা ভর্তি হবে এই বিষয়টি পড়ার জন্য?

ডিজাইন থিঙ্কিং বিষয়ে কী পড়ানো হয়? এক কথায় দৈনন্দিন জীবনের সব সমস্যার সমাধান দেয়া হয়৷ কীভাবে? যেমন আপনি গেলেন বিশাল একটি সুপার মার্কেটে৷ কিছু কেনা-কাটা করবেন৷ অথচ সুপার মার্কেটটি এত বড় যে আপনি কোন তাল খুঁজে পাচ্ছেন না৷ অথবা আপনি একটি হোম থিয়েটার সিস্টেম কিনলেন৷ বাড়িতে এনে প্যাকেট খোলার পর দেখলেন আপনার বাড়িতে তারের পর তার৷ সাপের মত জড়িয়ে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কালো তারগুলো৷ এবং আপনি বুঝে উঠতে পারছেন না কোন তারটির সংযোগ কোথায় হবে৷ আপনার জীবন সহজ করে দেবে এই ডিজাইন থিঙ্কিং৷

মাত্র পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে৷ জাবিনে, উলরিকে, ফেলিক্স, মিনা এবং ডানিয়েল৷ সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ পেছনের দেয়ালে বিভিন্ন রঙের স্টিক অনে অনেক কিছু লেখা৷ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এরা মাথা খাটিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন বের করেছে৷ কীভাবে একটি সুপার মার্কেটের আর্কিটেকচার ক্রেতাদের জন্য সহজভাবে তৈরি করা যায়৷

তবে এসব ছাত্র-ছাত্রীর বিশেষত্ব হল এরা সবাই অন্য আরেকটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে৷ কেউ খেলাধুলা, সংগীত, চীন দেশের ইতিহাস অথবা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং৷ কে কোন ধরণের সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পারে সেই জন্য ডিজাইন থিঙ্কিং-এ আসা৷ কেউই এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়৷ সবার একটিই লক্ষ্য - সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়া৷

CeBIT 2006 Bildgalery Foto 7/10

নিজ থেকেই মুছে যাবে এসএমএসগুলো

প্রথম পদক্ষেপ: সমস্যা চিহ্নিত করা

ছাত্রী জাবিনে বলল,‘‘ অনেকেই সুপার মার্কেটে গিয়ে তাল হারিয়ে ফেলেন৷ নির্দিষ্ট জিনিস খুঁজতে চলে যায় ২০-২৫ মিনিট৷ যা প্রয়োজন বা কেনার দরকার সেই জিনিসটিই যেন হাতের কাছে নেই৷ অনেকেরই সাহায্যের প্রয়োজন হয়৷ কোথায় কোন দ্রব্যটি রয়েছে তা জানার কোন সুযোগও নেই৷''

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: গবেষণা এবং চিন্তা-ভাবনা করা

ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই এগিয়ে গিয়ে ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করছে৷ যারা সুপারমার্কেট চালাচ্ছে তাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে৷ বিষয় অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রশ্ন করা হচ্ছে৷ ক্রেতারা কী চায়, কোন বিষয়টি তাদের বিরক্ত করছে, কোন পণ্যটি কিনতে সময় নষ্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি – এসব৷

তৃতীয় পদক্ষেপ: সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তা

অনেকেরই সেল ফোন আছে৷ তবে কেনাকাটার জন্য কেউ তা ব্যবহার করে না৷ তবে এমন একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করার চেষ্টা করছে ছাত্র-ছাত্রীরা যা সুপার মার্কেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেল ফোন ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে একটি এসএমএসের মাধ্যমে৷ এরপর আরেকটি এসএমএস জানিয়ে দেবে কোন পণ্যটি কোথায় আছে৷ একটি কমিউনিকেশন্স বক্স বসানো হবে সুপার মার্কেটের প্রবেশ পথে৷ যে কোন ক্রেতা আসলেই তার সেল ফোন কমিউনিকেশন্স বক্সের নেটওয়ার্কের মধ্যে চলে আসবে৷

আরেক ছাত্রী মিনা জানাল,‘‘যে কেউ সুপার মার্কেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটি এসএমএস আসবে৷ সেখানে লেখা থাকবে ‘আজ কী রান্না হচ্ছে'৷ সেখানে বলে দেয়া হবে কোন পণ্যটি কোথায়, কোন শেল্ফে রাখা আছে৷''

ভাবছেন তাহলে তো অনেকগুলো এসএমএস জমে যাবে সেলফোনে, তখন কী হবে? কোন চিন্তা নেই৷ ক্রেতা সুপার মার্কেট থেকে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজ থেকেই এসএমএসগুলো মুছে যাবে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়