1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পঁচিশ বছর গৃহযুদ্ধের পর পাঁচ বছরের শান্তি

শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারান প্রায় এক লক্ষ মানুষ৷ ২০০৯ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার সরকারি সেনাবাহিনী ‘‘তামিল এলামের মুক্তি শার্দূল’’-দের নিয়ন্ত্রিত শেষ এলাকাগুলি দখল করে৷ তার পর থেকে দুই পক্ষের সম্প্রীতি বেড়েছে কি?

২০০৯ সালের ১৮ই মে তারিখে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷ শুধুমাত্র যুদ্ধের শেষ কয়েক মাসেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ হাজার মানুষ৷ দেশের মধ্যেই দু'লাখ ৮০ হাজার মানুষ পলাতক, তাঁদের অধিকাংশই তামিল, যাঁরা উত্তর ও পূর্বের সাবেক তামিল নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলি ছেড়ে পালাচ্ছিলেন এবং উদ্বাস্তু শিবিরগুলিতে গিয়ে ভিড় করছিলেন৷ উদ্বাস্তু শিবিরগুলি ছিল ক্ষুধা, জলকষ্ট ও রোগভোগের আস্তানা৷

Regionalwahlen Sri Lanka 2013

তামিল জনগণের জীবনে বহু বাধাবিপত্তি ও অভাব-অনটন এখনো রয়ে গেছে (ফাইল ফটো)

তবুও শান্তি শান্তিই৷ বিশেষ করে সিংহলি জনগণের ছিল বিপুল আশা৷ প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে ও তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘‘ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স'' (ইউপিএফএ) ২০১০ সালের সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে৷ রাজাপাকসে উত্তর ও দক্ষিণের সংখ্যালঘু তামিলদের সমস্যাগুলির দিকে নজর দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন৷ তামিলদের চোখের সামনে তখনও যুদ্ধ ও ধ্বংসের ভয়াল স্মৃতি, কাজেই তাঁরা এই প্রতিশ্রুতি কতটা বিশ্বাস করেছিলেন, সেটা তারাঁই জানেন৷

তার পাঁচ বছর পরে রাজাপাকসে এখনও ক্ষমতায় এবং শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ঘটেছে বৈকি – বিশেষ করে প্রাক্তন রণাঙ্গণ থেকে দূরে৷ তাঁদের সবচেয়ে বড় লাভ হলো নিরাপত্তা: আজ তাঁদের সন্ত্রাসী আক্রমণের শঙ্কা নেই৷ উত্তর ও পূর্বের প্রাক্তন তামিল এলাকাগুলিতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ তবুও সেখানকার তামিল জনগণের জীবনে বহু বাধাবিপত্তি ও অভাব-অনটন৷

প্রথমত, প্রাক্তন তামিল এলাকাগুলিতে সেনাবাহিনী পূর্বাপর পুরোমাত্রায় উপস্থিত৷ তারাই প্রশাসন চালায় এবং ‘‘জাতীয় নিরাপত্তার'' কারণ দেখিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ জমি বাজেয়াপ্ত করেছে – ডয়চে ভেলেকে এ কথা বলেন শ্রীলঙ্কার একটি এনজিও-র কর্মী জেহান পেরেরা৷ এনজিও-টির নাম ‘‘ন্যাশনাল পিস কাউন্সিল'' বা ‘জাতীয় শান্তি পরিষদ'৷ পেরেরা জানালেন, জমি বেদখল হওয়ার ফলে বহু মানুষ বাস্তুহারা; কাজেই তাঁরা উদ্বাস্তু শিবিরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন৷

Flüchtlingslager in Sri Lanka PANO

দেশের মধ্যেই দু'লাখ ৮০ হাজার মানুষ পলাতক (ফাইল ফটো)

অথচ গত বছর ঠিক এই এলাকাতেই বহু দশক বাদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; জেতেও এই অঞ্চলের বৃহত্তম তামিল দল৷ সরকার যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিয়েছেন, সেটাকেই একটা প্রগতি হিসেব দেখছেন পেরেরা৷ কিন্তু সরকার এই প্রাদেশিক উপদেষ্টা পরিষদগুলিকে তাদের প্রাপ্য ক্ষমতা দেননি৷ তাদের সব সিদ্ধান্তই প্রদেশের রাজ্যপালের মর্জির উপর নির্ভরশীল৷ সেই রাজ্যপাল আবার প্রেসিডেন্টের নিযুক্ত, নির্বাচিত নন৷

জনগণের তামিল অংশের কাছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ হলো সম্প্রীতির প্রথম শর্ত৷ কাজেই অনেক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকের মতে শ্রীলঙ্কা আজও গৃহযুদ্ধ-পরবর্তি পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারেনি৷ সম্প্রীতি আনয়নের প্রচেষ্টা মোটামুটি ব্যর্থ হয়েছে, বলা চলে৷ বুদ্ধধর্মাবলম্বী সিংহলি ও হিন্দুধর্মাবলম্বী তামিলদের মধ্যে অনাস্থা পূর্বাপর গভীর ও অনতিক্রান্ত৷ এমনকি যুদ্ধে তামিলদের যে বহু আত্মীয়স্বজন নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরা জীবিত কি মৃত, সে বিষয়েও খবরাখবর চান তামিলরা শ্রীলঙ্কা সরকারের কাছ থেকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন