1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ন্যানো প্রযুক্তিই চায় ওষুধ কোম্পানিগুলো

‘ন্যানোটেকনোলজি’ নতুন কিছু নয়৷ সাধারণ অর্থে এটা হলো, ‘ম্যানুফেকচারিং টেকনোলজি অব দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’৷ তবে এই প্রযুক্তি আজ আর শুধু রসায়ন, পরিবেশ, অটো মোবাইল বা স্থাপত্যের বিষয় নয়, এর ব্যবহার হচ্ছে চিকিৎসাতেও৷

আচ্ছা, কেমন হতো যদি চিকিৎসকরা ক্যান্সারের প্রথম কোষটি খুঁজে বের করে একেবারে গোড়াতেই সেটা ধ্বংস করে দিতে পারতেন? কেমন হতো যদি রোগজীবাণুসহ দেহকোষগুলো শরীরের যেখানে আছে, সেখানেই বসিয়ে দেয়া যেতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বায়োলজিক্যাল মেশিন? কেমন হতো আমরা যদি প্রয়োজনে অণু-পরমাণু আকারের জীবনদায়ী ওষুধ পাম্প করে দেহে স্থাপন করতে পারতাম? তখন নিশ্চয়ই আমরা বেঁচে যেতাম রোগযন্ত্রণা থেকে?

অবাক হচ্ছেন? এমনটা কিন্তু খুব শীঘ্রই হতে চলেছে৷ ওষুধ গবেষকরা জানাচ্ছেন, খুব শীঘ্রই উন্নয়নশীল বিশ্বের কোনো এক দেশের একজন স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যন্ত গ্রামে বসে একজন রোগীর এক ফোঁটা রক্ত একখণ্ড প্লাস্টিকের ওপর রাখবেন৷ প্লাস্টিকটির আকার একটি ধাতব মুদ্রার মতো, নাম ‘ল্যাব-অন-এ-চিপ', অর্থাৎ একটা চিপ-এ আস্ত এক পরীক্ষাগার৷ এমন নামকরণ কেন? মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে যে প্রায় সব রকমের রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা ‘ডায়াগনস্টিক টেস্ট' করা যায় এই চিপে!

Symbolbild - Laborarbeit

ভবিষ্যতে ‘ন্যানোমেডিসিন' দেবে চিকিৎসার নতুন নতুন উপায়

শুধু তাই নয়, রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি সংক্রামক রোগজীবাণুর বিশ্লেষণও সম্ভব একইসঙ্গে৷ ক্যান্সার, ম্যালেরিয়া, এমনকি এইচআইভি/এইডস সম্পর্কেও নাকি জানা সম্ভব হবে একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে৷

রোগ হয় মলিকুলার ও সেলুলার পর্যায়ে সমস্যা সৃষ্টির কারণে৷ সোজা কথায়, শরীরের অণু-পরমাণু ও কোষগুলো ঠিকমতো কাজ করলে রোগ-বালাই কাছেই আসতে পারে না৷ আজকের দিনেও সার্জিকাল যন্ত্রপাতি খুব বড় ও উন্নত নয়৷ এই যেমন, কোষের অস্ত্রোপচার যে কোনো সার্জিকাল ছুরি বা কাঁচি দিয়ে করা কিন্তু বেশ মুশকিল৷ সেখানেও কাজে আসবে ন্যানো প্রযুক্তি৷ ‘ন্যানোমেডিসিন' দেবে চিকিৎসার নতুন নতুন উপায়, দিতে পারবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কোষ মেরামত ও কোষ প্রতিস্থাপনের সুযোগও৷ এ প্রযুক্তি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অসংখ্য মলিকুলার টুলের সমন্বয়ে এক যন্ত্রবহর গড়ে তুলতে পারবে, যার আকার হবে আমাদের দেহকোষের চেয়েও ছোট৷

সম্প্রতি ক্যানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয়েন্ট সেন্টার ফর বায়োএথিক্স'-এর একটি গবেষণাপত্রেও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ন্যানো প্রযুক্তি এবং ‘ন্যানোমেডিসিন'-এর প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়৷ এছাড়া, জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনেও অপরিহার্য মনে করা হয় এই প্রযুক্তিকে৷ কারণ, ভবিষ্যতে ক্যান্সার কোষ চিহ্নিত করতে ‘ন্যানোমেডিসিন'-এ ‘কোয়ান্টাম ডটস'-ও ব্যবহার করা হবে৷ বলা বাহুল্য, ‘ন্যানোস্কেল পার্টিকল' বা ‘ন্যানোপার্টিকলস'-এর উদ্ভাবন করা হচ্ছে নতুন ড্রাগ ডিজাইনের জন্য৷ বড় বড় ওষুধ তৈরি কোম্পানিগুলি তাই তাকিয়ে আছে সে দিকেই৷

তাহলে তো বলাই যায়, ন্যানো প্রযুক্তি কাঁপাবে সারা বিশ্ব – তাই না?

ডিজি/এসিবি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন