1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নোবেল শান্তি পুরস্কার অনুষ্ঠানে লিউ শিয়াওবো’র শূন্য চেয়ার

আগামী শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিত হবে নোবেল শান্তি পুরস্কার সম্মাননা অনুষ্ঠান৷ অথচ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন যিনি, তাঁর চেয়ারটি ফাঁকাই পড়ে থাকবে৷ কারণ চীনা বিরুদ্ধবাদী লিউ শিয়াওবো বন্দি রয়েছেন চীনের কারাগারে৷

default

লিউ শিয়াওবো

যাঁকে ঘিরে এতো আয়োজন সেই নোবেলজয়ী ব্যক্তিই থাকতে পারছেননা অনুষ্ঠানে৷ চীনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের নেতা লিউ শিয়াওবোকে দেওয়া হয়েছে এবছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার৷ লেখক এবং সাবেক অধ্যাপক লিউ শিয়াওবো ছিলেন ১৯৮৯ সালে তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে বিক্ষোভসমাবেশের পুরোভাগে৷ চীনে রাজনৈতিক সংস্কার ও বৃহত্তর অধিকারের দাবি তোলা ‘চার্টার এইট' ইশতেহারের তিনি ছিলেন অন্যতম লেখক৷ নাশকতার অভিযোগ এনে এবং এই ইশতেহার রচনার অপরাধে গত ডিসেম্বর মাসে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাঁকে৷ ঐ দণ্ডাদেশের পর লিউ বলেছিলেন, ‘‘একথাটা আমার অনেকদিন থেকেই জানা যে একজন স্বাধীনচেতা বুদ্ধিজীবী যখন একটি স্বৈরতন্ত্রী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, মুক্তির দিকে একটি পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় কারাগারের পথে একটি পদক্ষেপ৷''

নোবেল ইন্সটিটিউট এর পরিচালক গেইর লুন্ডেস্টাড অসলোতে অনুষ্ঠিতব্য শুক্রবারের অনুষ্ঠান সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএফপি'কে বলেছেন, ‘‘একটা শূণ্য চেয়ার থাকবে, যা কিনা জোরালো এক প্রতিক্রিয়া ঘটাবে৷ এভাবে নোবেল কমিটির এবারের নির্বাচনের ব্যাপারটা জোর পাবে এবং চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপরেও আলোকপাত করবে ৷''

অসলোর সিটি হলে শূণ্য চেয়ার ছাড়াও থাকবে লিউ'এর একটি ফোটো৷ তাঁর লেখা পড়ে শোনাবেন নরওয়ের বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী লিভ উলমান৷

China / Hongkong / Liu Xiaobo

চীনে রাজনৈতিক সংস্কার ও বৃহত্তর অধিকারের দাবি তোলা ‘চার্টার এইট' ইশতেহারের লিউ ছিলেন অন্যতম লেখক

নোবেল শান্তি পুরস্কারের একশ' বছরেরও বেশি ইতিহাসে আগামী শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মত পুরস্কার গ্রহণ করার জন্য পুরস্কারে ভূষিত ব্যক্তি কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধি সেখানে আসছেননা৷ এর আগে ১৯৩৬ সালে কেবল জার্মান সাংবাদিক ও শান্তিবাদী কার্ল ফন অসিয়েৎস্কি নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি থাকার জন্য পুরস্কার নিতে অসলোয় যেতে পারেননি৷

নরওয়ের নোবেল কমিটি এই বছর চীনা বিরুদ্ধবাদী লেখক লিউ শিয়াওবোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করলে ক্ষুব্ধ হয় বেইজিং৷ তাঁর স্ত্রীকেও গৃহে অন্তরীণ করে রেখেছে চীন সরকার৷ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ বেইজিং এ বলেছেন, ‘‘ভিন্ন মতাবলম্বীদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় চীন তা জানে৷ এই পুরস্কার দেওয়া-না-দেওয়ায় চীনের কিছু যায় আসেনা৷''

রাশিয়া, কিউবা, ভেনিজুয়েলা, ইরাক এবং চীনসহ ঊনিশটি দেশ বলেছে, তারা এই অনুষ্ঠানে আসবেনা৷ সার্বিয়া এরইমধ্যে একথা স্বীকার করেছে যে, চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেনা৷

নোবেল ইনসটিটিউট অবশ্য বলছে, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোসহ মোট চুয়াল্লিশটি দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত থাকবেন৷ অনুষ্ঠানের একদিন আগে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং লিউ'এর সমর্থনে কয়েক হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ একটি আবেদনপত্র দূতাবাসকে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে৷

ওদিকে চীনা একটি গ্রুপ পাল্টা এক শান্তি পুরস্কার দিতে চলেছে বলে প্রকাশ৷ ১৫ হাজার ডলারের এই পুরস্কারের নাম দেয়া হয়েছে কনফুসিয়াস শান্তি পুরস্কার৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক