1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নোবেল বিজয়ী লিউ শিয়াওবো আর নেই

৬১ বছর বয়েসে মারা গেলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী চীনা লেখক ও মানবাধিকার কর্মী লিউ শিয়াওবো৷ যকৃতের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি৷ মৃত্যুর আগ মূহুর্তেও ১১ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন শিয়াওবো৷

পশ্চিমে তেমন একটা খ্যাতি ছিল না শিয়াওবোর৷ কিন্তু চীনের মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন, তাদের কাছে খুব পরিচিত একটা নাম শিয়াওবো৷ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কত্ব এবং ক্ষমতালিপ্সার বিরুদ্ধে লড়াই তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়৷

সাহিত্য এবং দর্শনের এই বিশারদ জীবনের শেষ মূহুর্তেও ছিলেন কারাবন্দি৷ চীনে গণতন্ত্রের দাবিতে একটি পিটিশন লেখার দায়ে তাঁর ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়৷ জীবনের শেষ ৮ বছর কারাগারেই ছিলেন তিনি৷ ১৯৮৯ সালে তিয়ানানমেন স্কয়্যারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভেও অগ্রগামী ভূমিকায় ছিলেন এই লেখক৷


চিকিৎসার জন্য সাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল তাঁকে৷ কিন্তু এই সময়টুকুতে তাঁর ওয়ার্ডের চারপাশে ছিল সার্বক্ষণিক পাহারা৷ শিয়াওবোর প্রতি যাতে কেউ অনলাইনেও সহানুভূতি দেখাতে না পারে, সেজন্য ইন্টারনেটে বসানো হয়েছিল সেনা নজরদারি৷

হাসপাতালে শিয়াওবোর পরিবারের ওপরও ছিল কড়াকড়ি৷ তাঁর স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয়ে চুপ থাকার নির্দেশ ছিল সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে৷ এমনকি তাঁকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পরিবারের অনুরোধও উপেক্ষা করে সরকার৷

চীনে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার দীর্ঘ ও অহিংস সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পান লিউ শিয়াওবো৷ কিন্তু কারাগারে থাকায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খালি চেয়ারই ছিল তাঁর প্রতিনিধি৷ অনুষ্ঠানটি অসলোতে হওয়ায় নরওয়ের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কও ছিন্ন করেছিল চীন৷

১৯৫৫ সালে চাংচুনে জন্মগ্রহণ করেন শিয়াওবো৷ স্কুলে পড়াশোনা শেষে জিলিন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন চীনা সাহিত্যে পড়াশোনা করার জন্য৷

১৯৮৬ সালে ডক্টরাল ডিগ্রির পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যাগাজিনে সাহিত্য বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন৷ তখন থেকেই মূলধারার মতবাদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আলোচনায় আসেন শিয়াওবো৷ চীনা বুদ্ধিজীবীদের ওপর তাঁর প্রভাবকে অনেক সময় ‘লিউ শিয়াওবো শক' নামে অভিহিত করা হয়৷ চীনের কনফুশিয়ানিজমের সমালোচনা করেও তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হন শিয়াওবো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন