1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

নোবেল পুরস্কারের ‘বুক অফ রেকর্ডস’

মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ক’জন মনিষী? কোন গবেষকদের নোবেল পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল? কোন দেশ এ যাবৎ সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কার জিতেছে? বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কারের নানা দিকের খতিয়ান এটি৷

default

নোবেল প্রাইজ মেডেল

আলফ্রেড নোবেল যখন উইল করে তাঁর কষ্টার্জিত সব অর্থ নোবেল ফাউন্ডেশনকে দান করে যান, তখন তাঁর আত্মীয়স্বজনরা স্বভাবতই সন্তুষ্ট হননি, এমনকি আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছিলেন৷ কাজেই নোবেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পরে, অর্থাৎ ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়৷ সে যাবৎ বিশ্বের এই সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারের ইতিহাসে অনেক কিছুই ঘটেছে৷

মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার

শুধু জীবিতদেরই নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা চলে৷ তা সত্ত্বেও ডাগ হ্যামার্স্কোল্ড ১৯৬১ সালে মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন, যেমন এরিক আক্সেল কারফেল্ড ১৯৩১ সালে সাহিত্যে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন৷ এগুলো নিয়মের ব্যতিক্রম নয়, কেননা উভয়েই মনোনীত হবার পরে অথচ পুরস্কার গ্রহণ করার আগে ইহলোক থেকে বিদায় নিয়েছিলেন৷ ১৯৭৪ সাল যাবৎ কোনো পরিস্থিতিতেই একজন মৃত ব্যক্তির নোবেল পুরস্কার পাওয়া সম্ভব নয়৷

তা সত্ত্বেও ২০১১ সালে ঠিক সেই ঘটনাই ঘটে৷ ব়্যাল্ফ স্টাইনম্যান চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, নোবেল কমিটি এ কথা যখন ঘোষণা করেন, তখন তারা জানতেন না যে, তার ঠিক তিন দিন আগে স্টাইনম্যান পরলোকগমন করেছেন৷ কাজেই স্টাইনম্যানের ক্ষেত্রে শেষমেষ ব্যতিক্রম করা হয়৷ তাঁর আত্মীয়েরা পরে প্যারিসে স্টাইনম্যানের হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন৷

Muhammad Yunus Nobelpreis 2007

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল জয় করেন মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক

দু'বার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী

চারজন বিজ্ঞানী দু'বার করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিদ জন বার্ডিন পদার্থবিদ্যায় দু'বার নোবেল পুরস্কার পান: একবার ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করার জন্য (১৯৫৬); দ্বিতীয়বার সুপারকন্ডাক্টিভিটি থিওরির জন্য (১৯৭২)৷ ব্রিটেনের বায়োকেমিস্ট ফেডেরিক স্যাঙ্গার রসায়েন দু'বার নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন: প্রথমবার ইনসুলিনের কাঠামো ব্যাখ্যার জন্য (১৯৫৮); দ্বিতীয়বার ডিএনএ সংক্রান্ত কাজের জন্য (১৯৮০)৷

মার্কিন রসায়নবিদ লিনাস পলিং-এর বিশেষত্ব হলো, তিনি শুধু রসায়নেই নয়, সেই সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কারও জিতেছেন: ১৯৫৪ সালে প্রথমটি এবং ১৯৬২ সালে দ্বিতীয়টি৷ পরীক্ষামূল আণবিক বিস্ফোরণের তীব্র বিরোধিতার জন্য পলিং-কে শান্তি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়৷

তবে দু'বার নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে যার নাম সবচেয়ে খ্যাত, তিনি অবশ্যই ম্যাডাম কুরি, যিনি ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান তাঁর তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য – এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম, এই দু'টি ধাতু আবিষ্কারের জন্য৷

নয়ত ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনা থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মাত্র ৪৪ জন মহিলা৷ বিজ্ঞানের তিনটি মুখ্য বিভাগে মহিলারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মাত্র ১৬ বার – অর্থাৎ সাকুল্যে তিন শতাংশ: পদার্থবিদ্যায় দু'জন মহিলা, রসায়নে চারজন এবং চিকিৎসাবিদ্যায় কিছু-না-হলেও দশ জন মহিলা৷

নোবেল প্রত্যাখ্যান

এ যাবৎ একজন শান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী – লে ডুক থো – এবং একজন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী – জাঁ পল সার্ত্র – নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ সার্ত্র যাবতীয় সরকারি সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করতেন৷ লে ডুক থো ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন৷ তবে বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ক্ষেত্রে এ যাবৎ এ ধরনের প্রত্যাখ্যান ঘটেনি৷

হিটলারের শাসনের আমলে জার্মান বিজ্ঞানীদের নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ছিল৷ এভাবেই ১৯৩৮ সালে রিশার্ড কুন রসায়নে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি৷ তার পরের বছর রসায়নে আডল্ফ বুটেনান্ড এবং চিকিৎসাবিদ্যায় গেরহার্ড ডোমাক ঠিক ঐ ভাবে তাদের পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই জার্মান বিজ্ঞানীরা তাদের পদক ও সম্মানপত্র পান ঠিকই, কিন্তু পুরস্কারের অর্থটা মাঠে মারা যায়৷

নোবেল জয়ে কোন দেশ সবচেয়ে সফল?

বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলি জয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালিকার শীর্ষে: পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেলজয়ীদের ৪৩ শতাংশ ছিলেন মার্কিন নাগরিক৷ পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি ও ব্রিটেন – চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে ব্রিটেন দ্বিতীয় এবং জার্মানি তৃতীয়৷ উভয় ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স৷

নোবেলজয়ীদের জন্মের তারিখ

নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিভা পৃথিবীর মুখ দেখেছেন ২২ মে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে৷

নোবেলজয়ীদের বয়স

নোবেল পুরস্কারের ছ'টি বিভাগ একসঙ্গে ধরলে পুরস্কার জয়ের সময় নোবেল বিজয়ীদের বয়স দাঁড়ায় গড়ে ৫৯ বছর৷ বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ক্ষেত্রে বিজয়ীদের গড় বয়স ৫৭, চিকিৎসাবিদ্যায় আরো কম: ৫৫ বছর৷

নোবেলের ইতিহাসে তরুণতম বিজয়ী ছিলেন লরান্স ব্র্যাগ, যিনি ১৯১৫ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর৷ অপরদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক নোবেলগুলির ইতিহাসে প্রবীণতম বিজয়ী হলেন ৮৮ বছর বয়সি পদার্থবিদ রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র৷ তবে তার চাইতেও বেশি বয়সের মানুষ নোবেল জিতেছেন, যেমন দুই অর্থনীতিবিদ লেওনিড হুরউইৎস ও লয়েড শেপলি, যাদের বয়স ছিল ৯০ এবং ৮৯৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়