1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

নেপালে মধুচাষিদের সাহায্যে আন্তর্জাতিক প্রকল্প

নেপালের পাহাড়ি এলাকার শীতে ইউরোপীয় মৌমাছিরা বাঁচে না৷ কাজেই এখানে আজও এশীয় মৌমাছিই পালা হয়৷ তা সত্ত্বেও আধুনিক মৌমাছিপালনের কিছু প্রক্রিয়া ব্যবহার করে মধুর পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা বৃদ্ধি করা সম্ভব৷

বায়োলজিস্ট উমা পরতাপ নেপালের প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামগুলিতে আধুনিক মৌমাছি পালন নিয়ে ওয়ার্কশপ করে থাকেন৷ তিনি যে সংগঠনটির হয়ে কাজ করেন, সেটি হল ‘ইসিমড' বা পার্বত্য অঞ্চলের সংহতিবদ্ধ বিকাশের জন্য আন্তর্জাতিক কেন্দ্র৷ সংগঠনের উদ্দেশ্য, পাহাড়ি এলাকার মানুষদের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটানো এবং যুগপৎ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা৷

মধু বিক্রি থেকে রোজগার ছাড়া এখানকার চাষিদের জীবনধারণ করা মুশকিল৷ অপরদিকে মধুচাষিদের স্বভাবতই আর্থিক দিকটার উপর নজর রাখতে হয়৷ অথচ এই অঞ্চলে প্রথাগতভাবে যেভাবে মৌমাছি পালা হয়, সেটা খুব সহজ কিংবা লাভজনক নয়৷ গাছের গুঁড়ির কাঠে গর্ত করে মৌমাছি পোষা হয়; পরে সেই মৌচাক ভেঙে মধু বার করতে হয়৷ তাতে মৌচাকগুলো ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে যায়৷

Artikelbild 2

মৌমাছি বিশেষজ্ঞ উমা পরতাপ কাঠের তৈরি মৌচাক ব্যবহারের পক্ষপাতি

উমা পরতাপ বলেন, ‘‘যে মধু নিঙড়ে বার করা হয়, তাতে শুককীট কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক মৌমাছিদের শরীরের অংশবিশেষ থাকে৷ মধু নিষ্কাশনের প্রক্রিয়ায় অনেক মৌমাছি মারা যায়৷ মৌমাছিদের দঙ্গল ছোট হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মধুর মানেরও অবনতি ঘটে৷''

কাঠের মৌচাক

মৌমাছি বিশেষজ্ঞ উমা পরতাপের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার: মৌমাছিদের সুরক্ষা থেকে মধুচাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া চাই৷ কাজেই তিনি কাঠের তৈরি মৌচাক ব্যবহারের পক্ষপাতি৷ মৌমাছিদের শূককীটগুলি বাক্সের নীচের দিকে সুরক্ষিত থাকে৷ মৌচাকগুলো বার করে নেওয়া যায়, কাজেই তাতে থাকে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মৌমাছি এবং মধু৷ এছাড়া আর একটা সুবিধাও আছে৷ পরতাপের ভাষ্যে: ‘‘এই মৌচাকগুলি আবার ব্যবহার করা চলে৷ মৌমাছিরা পুরনো মৌচাকেই পুনরায় মধু সংগ্রহ করে, কাজেই তাদেরও নতুন করে মৌচাক তৈরি করতে হয় না৷''

চাষি ও মৌমাছিপালক নাথ কামি-ও কাঠের মৌচাকের ভক্ত হয়ে পড়েছেন: ‘‘এটি বেশ ভালো মৌচাক, কেননা আমরা জানতে পারি মৌমাছিদের মধ্যে কোনো রোগ আছে কিনা; মৌচাকে মধু জমেছে কিনা; শূককীটগুলো কোন পর্যায়ে আছে, ভালো না মন্দ৷''

কাঠের মৌচাক ও সেন্ট্রিফিউজ

পার্বত্য এলাকার আরো অভ্যন্তরে অবস্থিত জলতুড়া গ্রামে নতুন কাঠের মৌচাকগুলি অনেকদিন থেকেই প্রচলিত৷ মৌমাছিরাও এই কাঠের মৌচাকগুলি মেনে নিয়েছে৷ ভালোভাবেই তাদের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে৷ কমলা বোহারা-র তাতে লাভ বৈ লোকসান নেই৷ ৩০ বছর বয়সি এই চাষিবউ আগে চাষবাস করে জীবনযাপন করতেন৷ এখন তাঁর একটা নিজের ছুতোরের দোকান আছে, যেখানে প্রধানত কাঠের মৌচাক তৈরি হয়৷ দোকান থেকে কমলার রোজগার হয় প্রায় দ্বিগুণ৷

কমলা বলেন, ‘‘মৌচাক এবং তা রাখার বাক্সগুলো আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এ অঞ্চলে আধুনিক মৌমাছিপালন শুরু হওয়া যাবৎ কাঠের মৌচাকের চাহিদা মাঝেমধ্যে এতো বেশি হয়ে পড়ে, যে আমাদের সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হয়৷''

কমলা বোহারা মৌমাছিদের দঙ্গলও বিক্রি করে থাকেন৷ আবার নিজে মৌমাছি রাখেন এবং মধুর চাষ করে থাকেন৷ আগে কমলা প্রথাগত পদ্ধতিতে মৌমাছি পালতেন৷ আজ তিনি চাকগুলো সেন্ট্রিফিউজে ঘুরিয়ে মধু বার করেন৷ পরে সেই চাক আবার ব্যবহার করা চলে, যা মৌমাছিদের পক্ষেও ভালো, আবার মধুর পক্ষেও ভালো – কেননা আজ মধু যেরকম বিশুদ্ধ, আগে সেরকম সম্ভব ছিল না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক