1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

নীল পাখনা টুনা মাছ শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে

সমুদ্রের ফিন টুনা বা নীল পাখনা টুনা শিকার এবং বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ৷ ইউরোপীয় ইউনয়নের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে যোগ দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

default

কেবল এশিয়ার দুই একটি, কিন্তু প্রভাবশালী দেশ এই মাছ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রয়েছে৷

গত বছর এই মাছ শিকার এবং এর বাজারজাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবটি দিয়েছিল মোনাকো৷ সেই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে এই মাছ গ্রহণ না করে একে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল৷ নীল পাখনা টুনা মাছের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয়তা থাকলেও এই মাছটির ৭৫ ভাগ গ্রহণ করে জাপান৷ জাপানে টুনা মাছ একটি জনপ্রিয় মাছ৷ আটলান্টিকে টুনা শিকার করে সাধারণত ভূ-মধ্য সাগরের তীরবর্তী দেশগুলো৷ তবে এর বেশিরভাগ রফতানি হয় এশিয়ায়, বিশেষ করে জাপানে৷ জাপানে টুনা মাছের দারুণ কদর৷ এই তো কয়েক দিন আগে টোকিওর একটি বাজারে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার নিলামে একটি টুনা মাছ বিক্রি হয়েছে! বিগত ১০ বছরে জাপানে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমান দামে মাছটি বিক্রি হল৷ মাছটির ওজন ছিল ২৬২ কেজি, গড়ে ৪ জন জাপানী মানুষের সমান৷ জাপানের উত্তরে হোনসু দ্বীপ থেকে মাছটি শিকার করা হয়েছিল৷

Roter Thunfisch Japan Tokio Verarbeitung

টোকিওর মাছের বাজারে টুনা মাছ বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে

গত বছর সমুদ্রের ফিন টুনা বা নীল পাখনা টুনা শিকার নিষিদ্ধের ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল কমিশন ফর দ্য কনজারভেশন অব আটলান্টিক টুনা বা আইসিসিএটি৷ তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবাধে শিকার করতে করতে এ প্রজাতির টুনা বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে৷ এখন মাত্র ১৫ শতাংশ টিকে আছে এই টুনা৷ শিকার বন্ধ না করলে অদূর-ভবিষ্যতে এই সুস্বাদু প্রজাতির মাছটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে৷ ফিন টুনাকে বাঁচাতে হলে এর শিকার নিষিদ্ধ করা ছাড়া কোন উপায় নেই৷ যত দিন পর্যন্ত সমুদ্রে এই প্রজাতির টুনার সন্তাষজনক বৃদ্ধির আলামত পাওয়া না যাবে, ততদিন পর্যন্ত এ মাছ ধরা বা রাখতে হবে, বলছে এই পরিবেশবাদী সংগঠন৷

অনেক দিন আগেই বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছিলেন ফিন টুনা বিলুপ্তির পথে৷ কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমলে না নিয়ে অবাধে এই মাছ ধরা হচ্ছে৷ ফলে পরিবেশবাদীরা দারুণ কঠিন অবস্থান নিয়েছেন৷ কিন্তু এই উদ্যোগের বিরোধীতা করে জাপানের মৎস মন্ত্রী হিরোতাকা আকামাতসু বলেছেন, তিনি এই মাছ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে যা প্রয়োজন, তার সবটাই করবেন৷ আর জাপানের মন্ত্রীর এই কথাকে সমর্থন করেছে চীন৷ যদিও তারা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য দেয়নি৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই মাছ শিকার এবং বাজারজাত বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা কি করে এটি বাস্তবায়ন করবে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়