1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

নীরব ঘাতক আর্সেনিক কেড়ে নিচ্ছে বহু প্রাণ বাংলাদেশে

বাংলাদেশে নীরব এক ঘাতক হল আর্সেনিক৷ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ এই বিষে আক্রান্ত হচ্ছেন, অনেকের মৃত্যুর কারণও এই আর্সেনিক৷

default

এই পানিও দূষিত৷ ফাইল ছবিটি সাতক্ষীরার

বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়ন৷ সবুজ সুন্দর এই গ্রামটিতে গেলে সহজেই যে জিনিসটি চোখে পড়বে, তা হলো টিউবওয়েলের উপর লাল রঙ৷ কেন এই রঙের খেলা? উত্তর হচ্ছে, তারা শখের বশে রঙিন কর্মটি করেননি৷ বাংলাদেশের অনেক গ্রামের মতো সেখানেও ভূগর্ভস্থ পানিতে রয়েছে আর্সেনিক বিষ৷ আর বিষযুক্ত পানি আসে যে টিউবওয়েলে সেটার রঙ করে দেওয়া হয়েছে লাল৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি লিটার পানিতে দশমিক ০৫ মিলিগ্রামের বেশি আর্সেনিক থাকলে তা মানুষের শরীরে জন্য ক্ষতিকর৷ সম্প্রতি ব্রিটেনের স্বনামধন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ‘দ্য লান্সেট'-এ প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তত ৭ কোটি সত্তর লাখ মানুষ রয়েছেন এই আর্সেনিক বিষের ঝুঁকির মধ্যে৷ বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো এবং নিউ ইর্য়ক শহরের কয়েকজন গবেষকের একটি দল গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই গবেষণাকাজ পরিচালনা করেছিলেন৷ সম্প্রতি তাঁরা তাঁদের এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন ঐ জার্নালটিতে৷ এই গবেষণা করতে গিয়ে তাঁরা ১২ হাজার মানুষের দৈনিন্দিক জীবন-প্রণালী পর্যবেক্ষণ করেছেন৷ এবং দেখতে পেয়েছেন বিভিন্ন স্থানে আরও মানুষ ধীরে ধীরে এই বিষের শিকার হচ্ছে৷ মোদ্দা কথা হলো, তাঁদের গবেষণার আওতাধীন মানুষদের মধ্যে যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ এই সাংঘাতিক বিষ৷

আর্সেনিক দূষণের এই হারটিকে কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগেই নীরব ঘাতক হিসাবে বর্ণনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ ভারতে ১৯৯৪ সালে ভোপাল এবং ১৯৮৬ সালে ইউক্রেইনের চেরোনোবিল গ্যাস দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ আর্সেনিক দূষনকে একটি দুর্যোগ হিসাবে চিহ্নিত করেছে তারা৷ অবশ্য ঐ গবেষক দলের ধারণা অবস্থা বেশ খারাপ হলেও আর্সেনিক সংক্রান্ত বড় ধরণের দুর্যোগের কবলে পড়তে বেশ কয়েক দশক সময় লাগবে৷ কারণ এই বিষ ছড়ায় নীরবে, ধীরে ধীরে৷ বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশি বিদেশি সাহায্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে এই নীরব ঘাতকের মোকাবিলায় নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে৷ গ্রামে গ্রামে খাবার পানির যোগান দেবার জন্য খনন করা হয়েছে পুকুর৷ কিন্তু ঐ গবেষক দল বলছেন, এসব করেও খুব যে একটা সফলতা এসেছে তা কিন্তু বলা যায় না৷ তাই এখনি সৃষ্টি করা প্রয়োজন আরও বেশি জন সচেতনতা৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সংশ্লিষ্ট বিষয়