1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হলো না’

ঠিক এক বছর আগের কথা৷ সেদিন ছিল রবিবার৷ মতিঝিলে হেফাজত ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে৷ আলোচিত এই সংগঠনটির উত্থান আর সহিংসতার পর গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়৷

রাতের ওই অভিযান নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়, দেশ ছাড়িয়ে আলোচিত হয় সারা বিশ্বে৷ কিন্তু অভিযানে নিহত হয়েছে কতজন, এ নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন বিভ্রান্তি৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই অভিযানে সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে৷ ফলে এতে কোনো প্রাণহানি হয়নি৷ ভয়েই সবাই পালিয়ে যান৷ তবে দিনের সংহিংসতায় ১১ জন মারা যান৷ এর মধ্যে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যও আছেন৷ আর হেফাজত নেতারা দাবি করেন, দুই থেকে তিন হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন৷ তবে তালিকা দিতে পারেননি৷ সব সময় তাঁরা বলেছেন, তালিকা তৈরির কাজ চলছে, শেষ হলেই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে৷

আলোচিত ওই ঘটনার এক বছর পার হলো৷ তবু পাওয়া গেল না নিহত হেফাজত নেতাকর্মীদের তালিকা৷ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সাংবাদিকদের বলেছেন, নিহত ও নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে৷ এর সংখ্যা কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘শুনলে গা শিউরে উঠবে৷'' তালিকাটি চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটি প্রকাশে এখনো হুজুরের (আমির আহমদ শফী) অনুমতি নেই৷'' অপর নেতা হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী ভাইদের সঠিক তালিকা সংগ্রহের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন৷ ইনশাল্লাহ কেন্দ্রীয়ভাবেই তা দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে৷''

তবে এখন হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলছেন, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক-মুরতাদদের আস্ফালন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চলবে৷ সোমবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দোয়া অনুষ্ঠানে হেফাজতের নেতারা এই ঘোষণা দেন৷ গত বছরের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংগঠনের আহত ও নিহত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ হাটহাজারী পার্বতী হাইস্কুল ময়দানে দোয়া-মাহফিল ও ইসলামী মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামীর আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী৷

এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ওই দিনে কী ঘটেছিল, রাজধানী জুড়ে যে তাণ্ডব হয়েছিল তার সঙ্গে কারা জড়িত? তারও উত্তর মেলেনি৷ পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ওই দিন রাজধানীর তিনটি থানায় ৪২টি মামলা হয়েছিল৷ এসব মামলার মধ্যে মতিঝিল থানায় ৬টি, পল্টন থানায় ৩৩টি এবং রমনা থানায় হয় ৩টি মামলা হয়েছিল৷ কিন্তু এর একটিরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ৷ এ সব মামলায় হেফাজতের যে সব নেতাকে আসামি করা হয়েছে তারা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ রহস্যজনক কারনে অনেক নেতার ধারে-কাছেও যায়নি পুলিশ ও গোয়েন্দারা৷ আবার কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন৷

তদন্ত বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত সবগুলো মামলার তদন্ত এখনো চলছে৷ ঢাকা মহানগর এলাকায় দায়ের করা হয় ১৮টি মামলা৷ এর মধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এই মূহূর্তে ১৩টি মামলার তদন্ত করছে৷ তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে৷ তিনি বলেন, এ সব মামলা বহুমাত্রিক৷ হাজার হাজার লোক আসামি৷ তদন্তে সময় প্রয়োজন৷ তবে যতদ্রুত সম্ভব পুলিশ এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছে৷ তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় প্রকৃত নাশকতাকারী এবং এদের পেছনের ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়