নিষ্ক্রিয় মানুষের চেয়ে সাহসী, দরদি মানুষই বেশি দরকার | বিশ্ব | DW | 04.07.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিষ্ক্রিয় মানুষের চেয়ে সাহসী, দরদি মানুষই বেশি দরকার

সমাজ তাঁদের বাঁকা চোখে দেখে৷ তাঁরা যে হিজরা! সরকার বাঁকা চোখটা একটু সোজা করার চেষ্টা করছে৷ নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ৷ মানুষের সমাজে মানুষ অজ্ঞতা, অন্ধতা, কুসংস্কারের কারণে চিরকাল অবজ্ঞা, অবহেলা পাবে তা তো হয় না৷

সাম্প্রতিক কিছু খবরে ট্রান্সসেক্সুয়াল বা ট্রান্সজেন্ডার, অর্থাৎ হিজরাদের প্রতি সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে৷ প্রথমে হিজরাদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয়া হলো৷ তারপর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এলো হিজরাদের ট্রাফিক পুলিশে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ৷ হ্যাঁ, একটি মাত্র কাজেই হিজরারা সুযোগ পেতে পারেন৷ উন্নত বিশ্বে এমন খবরে হাসির রোল উঠতে পারে, কেউ কেউ প্রশংসা না করে সমালোচনাও করতে পারেন৷ হিজরাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কেন সব কাজ করার অধিকার নেই – এই প্রশ্নও নিশ্চয়ই তুলবেন অনেকে৷ তবে তাঁরা না বুঝলেও আমরা জানি, বাংলাদেশে একটি ক্ষেত্রেও হিজরাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা সরকারের জন্য রীতিমতো একটা ‘জায়ান্ট স্টেপ'৷

Deutsche Welle DW Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত মানুষগুলোকে বঞ্চনার ঘেরাটোপ থেকে তুলে আনার আরেকটি উদ্যোগ শুরু হলো সপ্তাহ খানেক আগে৷ তাঁদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তার স্বীকৃতি দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ এসএমই খাতের আওতায় হিজরাদের ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক৷ এ নির্দেশ কার্যকর হলে অদূর ভবিষ্যতে হিজরাদের শিল্পোদ্যোক্তার ভূমিকাতেও দেখা যাবে৷ শুধু সুখবর নয়, বাংলাদেশের অগ্রগতির অন্যতম সোপানও হতে পারে এই উদ্যোগ৷

হিজরারা ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে দক্ষতা দেখাতে পারবেন কিনা, ঋণ পেলে শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারবেন কিনা – এমন প্রশ্ন এখনো কেউ তুলেছেন বলে শুনিনি৷ সাহসিকতায় তাঁরা অনেকের চেয়েই এগিয়ে – হিজরারা বড় বড় ঘটনায় এমন প্রমাণ রাখার পর এ সব প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব একটা নেই৷ বইমেলায় ব্লগার অভিজিৎকে কুপিয়ে মারার ঘটনা শত শত নারী-পুরুষ চেয়ে চেয়ে দেখেছেন, অভিজিতের স্ত্রী চিৎকার করে সাহায্য চাইলেও শত লোকের ভিড় থেকে একজনও এগিয়ে যাননি৷ অথচ মনে করে দেখুন, আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে কুপিয়ে মারার সময় কাছে ছিলেন একজন লাবণ্য৷ লাবণ্য হিজরা৷ কী সাহসিকতায় তিনি এক হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তা তো আমরা জানি৷

লাবণ্য নামটি এলে রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা'-র লাবণ্যের কথা মনে পড়ে৷ শেষের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য প্রসঙ্গে, অন্য অর্থেই লিখেছিলেন, ‘‘পরমায়ু নিয়ে বেঁচে থাক প্রবীণ অধ্যাপক, প্রবীণ পলিটিশিয়ান, প্রবীণ সমালোচক৷'' সাহসী লাবণ্য সম্পর্কে জানার পর আমি হিজরাদের আরো বেশি করে পরমায়ু কামনা করি৷ নীরব, নিষ্ক্রিয়, আত্মকেন্দ্রিক মানুষের চেয়ে সোচ্চার, সক্রিয়, সাহসী, দরদি মানুষই তো আমাদের বেশি দরকার!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়