1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্যাতিত শিশুরা অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবারের

বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বা শিশুর প্রতি সহিংসতা যেন কমছেই না৷ একের পর এক শিশু নির্যাতন আর হত্যার ঘটনা ঘটছে, ঘটে চলেছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে যথেষ্ঠ আইন থাকলেও, তার তেমন প্রয়োগ নাই৷

সর্বশেষ বাংলাদেশের রাজশাহীর পবা উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে দুই স্কুলছাত্র জাহিদ ও ইমনকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে৷ শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের মারধর করার ঘটনা একটি মোবাইল ফোন মারফত ভিডিওতে ধারণ করা হয়৷ এরপর শনিবার, তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব-এ ফাঁস হয়ে গেলে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়৷ এই ঘটনায় শনিবার এক সেনা ও এক পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে৷ এ পর্যন্ত পুলিশ একজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে৷

নির্যাতনের শিকার জাহিদ হাসান বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র৷ সে এখন পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন৷ ওদিকে নির্যাতনের পর থেকে ইমন নিখোঁজ থাকলেও, রবিবার তাকে উদ্ধার করে পুলিশ৷

অডিও শুনুন 03:57

‘নির্যাতিত শিশুরা সামন্ততন্ত্রের শিকার’

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, ‘‘মোট ১৩ জন এই নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত৷ এদের মধ্যে একজন সেনা এবং একজন পুলিশ সদস্যও আছেন৷ তাদের বাড়িও ঐ এলাকায়৷''

জাহিদের বাবা ইমরান হোসেন জানান, ‘‘আমি শনিবারই মামলা করেছি৷ তবে সাংবাদিকরা জানার আগে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷''

এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ সে সময়ও হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়৷ এরপর মাস না ঘুরতেই ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে এক ওয়ার্কশপে মোটর সাইকেলে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসার মেশিনের মাধ্যমে পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় ১২ বছরের শিশু রাকিব হাওলাদারকে৷ ইতিমধ্যে এই দুই শিশু হত্যার ঘটনায় পৃথকভাবে ছ'জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছ'জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৩০টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বংলাদেশে৷ এছাড়া র‌্যাব-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে যে, ২০১৪ সালের তিনটি মাসে সারাদেশে শতাধিক শিশু হত্যার শিকার হয়েছে৷ এর মধ্যে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ৩৫, সেপ্টেম্বরে ৪০ আর অক্টোবর মাসে ২৫ জন শিশুকে হত্যার তথ্য জানিয়েছে ব়্যাব৷ এই শিশুরা মূলত পারিবারিক কলহ, মুক্তিপণ আদায় এবং চুরিসহ নানা অপবাদে হত্যার শিকার হয়৷

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম শিশুদের অধিকার ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করে এ রকম ২৬৭টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক৷ তাদের হিসাব মতে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি শিশু৷ তারা জানায়, ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ২,১৯৭ এবং ২০১৩ সালে ১,১১৩ জন৷

শিশু নির্যাতন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্রিমিনোলজি' বিভাগের চেয়ারম্যার অধ্যাপক ড. জিয়া হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিশুরা দুর্বল এবং তাদের রক্ষা করার জন্য আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেইনি৷ এ কারণেই শিশুরা বারবার নির্মমতার শিকার হচ্ছে৷ খোয়াল করবেন, যে সব শিশুর ওপর নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হয়, তারা প্রায় সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের৷ এখানে সামাজিক বিভাজন স্পষ্ট৷ আমাদের মধ্যে এখনো সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা রয়ে গেছে৷ সমাজের দুর্বল অংশের আরো দুর্বল শিশরা অরক্ষিত৷ এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি একে আরো প্রকট করে তুলেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আইন আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রয়োগ নেই৷ কোনো সামাজিক বা সংবাদমাধ্যমের চাপ সৃষ্টি না হলে আইন কাজ করে না৷ অথচ আইনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা৷ এটা তখনই কাজ করবে, যখন ব্যাপকভাবে সামজিক সচেতনতা গড়ে উঠবে৷ আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন হবে৷''

ড. জিয়া হাসানের মতে, ‘‘আমাদের মানসিকতায় যে উঁচু-নীচু ভেদ আছে, তার প্রকাশ ঘটছে দুর্বল শিশু এবং নারীর ওপর৷ দুর্বল জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও ঐ একই কথা বলবো আমি৷ তবে এরপরেও আমি আশাবাদী৷ উন্নত যোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির কারণে মানুষ এ সব ঘটনা জানতে পারছে, সচেতন হচ্ছে৷ নয়ত শিশু রাজন ও রাকিব হত্যার বিচার হতো কিনা সন্দেহ৷''

আপনার চোখের সামনে কখনও সিশু নির্যাতন হলে আপনি কী করবেন? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও