1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ভোটে জেতার পরপরই হিন্দুরা বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন৷

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ভোটে জেতার পরপরই হিন্দুরা বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন৷

হামলা ভাঙচুরের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণের শিকার হন৷ অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও রেহাই পাননি৷ হাইকোর্টের নির্দেশের পর এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এখন আর বাধা থাকল না৷ আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহা-পরিদর্শককে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন৷ আগামী ১১ মে'র মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে৷

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন৷ আদালতের আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, এখন আর সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই৷ আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ প্রধানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন৷ তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি৷ এখন গেজেট হয়েছে৷ এখন ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ তিনি বলেন, কোনো তদন্ত প্রতিবেদন গেজেট হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম৷ গত ১ এপ্রিল কমিশনের প্রতিবেদন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে৷

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন তিন বছর আগে যে প্রতিবেদন দেয়, তাতে জড়িত হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়৷ যেসব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আব্দুল হাফিজ, এএমএইচ সেলিম (সিলভার সেলিম), সেলিম রেজা হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে) উল্লেখযোগ্য৷

নির্যানের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ' নামে একটি সংগঠন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন৷ হাইকোর্ট এক রায়ে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন৷ একইসঙ্গে ওই কমিশনকে ছয়মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল৷ হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর সরকার সাবেক জেলা জজ (বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার) মো. শাহাবুদ্দিন চপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে৷ কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন মনোয়ার হোসেন আখন্দ ও মীর শহীদুল ইসলাম৷ এক বছরের বেশি সময় তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল সরকারকে ৫ খণ্ডের ১,১০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন৷ প্রতিবেদনে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়৷

এরপর এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে আরেকটি রিট দায়ের করে৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই তদন্ত প্রতিবেদন গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়৷ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিবেদন গত পহেলা এপ্রিল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়৷ এরপর বৃহস্পতিবার আদালত ওই রিটের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিলেন৷ তদন্ত কমিশনের ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ঢাকায় ২৭৬টি, চট্টগ্রামে ৪৯৭টি, সিলেটে ১৭টি, খুলনায় ৪৭৮টি, রাজশাহীতে ১৭০টি এবং বরিশালে সর্বাধিক ২ হাজার ২২৭টি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে৷

এর মধ্যে ঢাকায় ৯২টি হত্যা, ১৮৪টি ধর্ষণ-গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ সংগঠিত হয়৷ চট্টগ্রামে ৯৭টি হত্যা সংগঠিত হয়৷ অন্য গুরুতর অপরাধ হয় ৩৫০টি৷ রাজশাহীতে ৫৩টি হত্যা এবং ১১৭টি গুরুতর অপরাধ হলেও মামলা হয় ৩৭টি৷ খুলনাতে ৭৩টি খুন এবং ৪০৫টি গুরুতর অপরাধ, বরিশালে ৩৮টি খুন এবং সিলেটে দু'টি হত্যা এবং ১৫টি গুরুতর অপরাধ সংগঠিত হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন