1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতে লোকসভা ভোটের আগে ফের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু কেন?

বুধবার সকালে প্রায় সবকটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনাম, পিছু হটলেন মমতা, নতিস্বীকার করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী৷ সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করার পর, ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই কমিশনের সব নির্দেশ মেনে নেওয়ার এই প্রতিক্রিয়াই সংবাদমাধ্যমে হয়ত প্রত্যাশিত ছিল৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ২৪ ঘণ্টায় কী এমন ঘটল, যাতে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে অবস্থান বদলাল রাজ্য সরকার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বা কেন প্রকাশ্যে এমন ক্ষোভ উগরে দিলেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে?

লোকসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের এক জেলা-শাসক এবং পাঁচ জেলার এসপি-ডিএসপি-কে বদলি করার যে নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল, বুধবার সকাল থেকে তা কার্যকর করা শুরু হয়েছে৷ রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন ভবন থেকে ফ্যাক্স মারফত বদলির চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট জেলাগুলিতে৷ একই সঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিনোদ জুৎসির পদত্যাগ দাবি করেছেন মমতা৷ তাতে উৎসাহিত হয়ে একদল তৃণমূল কর্মী এদিন নবান্নের সামনে জুৎসির কুশপুতুলও দাহ করেছেন!

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ না মানার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকার কেন পিছু হটল, তা নিয়ে কেউই বিশেষ গবেষণা করছেন না, যেহেতু অবস্থান বদলের কারণটা খুবই পরিষ্কার৷ রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যতা৷ নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর প্রশাসনিক ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে সংবিধানে৷ কিন্তু কোনো সরকারের সাংবিধানিক সামর্থ নেই সেই ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করার৷

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের এই একাধিপত্য নিয়ে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সেই প্রশ্নটা তুলেছেন৷ তার আগে দেখা যাক, মঙ্গলবার বিকেলে পান্ডুয়ার জনসভায় যখন নির্বাচন কমিশনের এক তরফা নির্দেশের কথা মমতার কানে গেল, তখন ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কী বলেছেন৷ মমতা বলেছেন, বহরমপুরে রিগিং করে অধীর চৌধুরিকে জেতাতে হবে, তাই সেখানে আলাদা ভোট (করছে কমিশন)৷ মমতা বলেছেন, ঘাটালে (অভিনেতা, তৃণমূল প্রার্থী) দেবের বিরুদ্ধে হেরে ভূত হবে মানস ভুঁইঞা, তাই ঘাটালে আলাদা ভোট৷ অর্থাৎ মমতা বলতে চেয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে যোগসাজশ করে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ক্যালেন্ডার বানিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যাতে কংগ্রেসের সুবিধে হয়!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু নিজের আরও একটি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন৷ ভোটের আগে যে কটি রাজ্যে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগে প্রশাসনিক রদবদলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, সেগুলি সবকটিই অকংগ্রেসি, অবিজেপি রাজ্য! তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও সেই বদলি তালিকায় আছে সমাজবাদী পার্টি শাসিত উত্তর প্রদেশ, অকালি দল শাসিত পাঞ্জাব, বিজু জনতা দল শাসিত ওড়িশা এবং এডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু৷

হতে পারে মমতার ইঙ্গিত রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত এবং এটা নেহাতই ঘটনাচক্রে যে একটিও কংগ্রেস বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে প্রশাসনিক পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ, এমনকি হয়ত অভিযোগও পায়নি নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু ভারতীয় আমলাতন্ত্রের অন্তর্গত চরিত্র, তার ঐতিহাসিক গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে এমন সন্দেহই জোরদার হয় যে. গণতন্ত্র নয়, বরং যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তার সেবাতেই ব্যস্ত থাকে আমলাতন্ত্র৷ এমনকি কেবল ক্ষমতাসীন দল নয়, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাদের কৃপা থেকেও যাতে বঞ্চিত না হতে হয়, নজর রাখতে হয় সেদিকেও৷

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী আগেও তুলেছেন, যখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট৷ আবার বামেরাও বহুবার কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে৷ এবারও সেই একই ঘটনা ঘটছে৷ কিন্তু এবার যেহেতু লোকসভা ভোটে বেশি আসনে জেতার গরজ তৃণমূলের বেশি, বামেরা চুপ করে বসে মজা দেখতে ব্যস্ত৷ তবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে৷ নির্বাচন কমিশনের মতো এক উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক সত্ত্বা যদি রাজনৈতিক বাধ্যতা না এড়িয়ে থাকতে পারে, তা হলে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তার হাতে কতটা নিরাপদ?

অবশ্য এমন ভেবে নেওয়াটাও ভুল হবে যে দেশের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ব্যবস্থার গলদ শুধরোতে ব্যস্ত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী৷ তিনি বেশি ক্ষিপ্ত পছন্দের এসপি-ডিএসপি বা জেলাশাসকদের সরিয়ে দিলে ভোটে তাঁর দলের অসুবিধে হতে পারে বলে৷ অর্থাৎ তাঁর নিজের ভরসাও সেই একই পক্ষপাতদুষ্ট আমলাতন্ত্র!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়